বিদিশার দীর্ঘশ্বাস
তোমার মনে কি কখনো ওঠে আলোড়ন
সেদিনের কথা মনে করে?
আমি শুনতে পাই অনাদৃত আমার প্রেমের শ্লোক,
এখনো স্বচ্ছ আঁধার রাতে তারকার আসরে—
নিভৃতে আমার ঠিকানায় পৌঁছে যায়।
শুনি গুঞ্জন, সেসব কথার পুনরাবৃত্তি;
আমার শিয়রে অনুভব করতে চায়
সন্তর্পণে ফেলা বিদিশা মনের দীর্ঘশ্বাস।
কবরের শব্দহীন শব্দ
বিষণ্ণতায় ঘেরা এই আঁধারে চমকে উঠি—
কখন যে একাকীত্ব গ্রাস করেছে আমায়!
আমার সেদিনের সেই আনন্দ-বৃন্দাবনে
আজ আলো নেই, ঢেকে গেছে নীরবতার জঞ্জালে।
আমার সমগ্র সত্তা জুড়ে আজ নিদারুণ অসহায়তা—
ওদের ওপর নেই কোনো আস্থা, নেই বিশ্বাস;
ধীরে ধীরে যেন হারিয়ে ফেলেছি সব প্রত্যয়,
আমার সমস্ত আদর্শের ভিত আজ অন্ধকারে ম্লান।
এ কি তবে এক ধরণের জীবন্ত মৃত্যু?
হারিয়ে যেতে হবে কি ওদেরই খেয়ালে—
কবরের ওই শব্দহীন শব্দের নিবিড় আশ্রয়ে?
অসীমের অন্বেষণ
মানস আকাশে এক অন্বেষণ ওড়ে,
সে কি শুধুই কল্পনা?
ভাবনার চেনা দিগন্ত ছেড়ে—
অনুভবের এক আশান্বিত বলাকা,
কার সন্ধানে ডানা মেলেছে অলক্ষ্যে?
সুখ তো আছেই, তবু কেন তা অবান্তর!
কী নেই আমার এই জীবনে?
তবে কিসের খোঁজে অস্থির সেই বলাকা—
উত্তর তো জানা নেই।
তবুও এই অন্তহীন অন্বেষণে কী খুঁজি আমি?
আমরা সব শিখে গেছি
শোন! শোন! আমাদের আর লাগবে না,
লাগবে না কোন বুদ্ধি শাণিত অস্ত্র।
মিছেমিছি বরাদ্দ করো না বিশাল ডলারের স্তূপ!
তোমাদের এআই যুক্ত দামী দামী মিসাইল, কামান, যোদ্ধা-রোবট-
কোন কিছুর-ই দরকার নেই আমাদের।
আমরা শিখে গেছি বর্বর মানুষের টেকনিক!
কি করে খুন করা যায় প্রস্তরের আঘাতে আঘাতে, থেঁতলে মনুষ্য দেহ!
আমরা শিখে গেছি মানুষ খুনের সব মজা লুটতে,
শিখে গেছি কি করে- আইন শৃঙ্খলা বিনা রাষ্ট্র চালাতে হয়।
নীল দহন
সুখের জোয়ারে ভাসে মনের নিভৃত অলিন্দ,
তবুও কেন যে জাগে কালচে নীল ব্যথার দহন?
চমকে উঠে সে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করে আমায়,
বিমূঢ় অভিমানের হিম ধারা বয়ে যায় চেতনায়।
মনে হয়, কোনো এক অদ্ভুত বিদূষক শুয়ে আছে নিশ্চুপ—
আমার হৃদয়ের গহন কোণে, অতি সন্তর্পণে।
মাঝে মাঝে সে তীব্র ব্যঙ্গে মেতে ওঠে,
আহত করে অতীতের নিষ্পাপ আবেগ;
আর আমার সেই ক্ষত দেখে, সে যেন অলক্ষ্যে সুখ পায়।

0 Comments