আজ বিদুষীর বিয়ে। চারদিকে আত্মীয়-স্বজন, অতিথি আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের কোলাহল। সেই ভিড় আর ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে, নিজেকে একটু নির্জনে খুঁজে পেতেই সে একা ছাদে চলে এসেছে।
বিদুষী নন্দিনী। নীলাম্বরী শাড়ি ও অলংকারে সুসজ্জিত সে। মাথার ওপর স্বচ্ছ আকাশ। আনমনে যেন হাতের নাগালে নেমে আসা নক্ষত্রগুলো গুনছিল।
ঠিক তখনই মনে হলো, একে একে তারাগুলো যেন খসে পড়ছে। বিদুষী কল্পনায় সেগুলো তর্জনীর ডগায় তুলে নিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
হঠাৎই বিদুষীর চোখের সামনে বিন্দু বিন্দু তারাগুলো খসে পড়তে শুরু করল। সে যেন নিজের তর্জনীতে সেগুলো তুলে নিয়ে কিছুক্ষণ নিবিড়ভাবে তাকিয়ে রইল। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত মৃদু হাসি। মনে মনে নিজেকেই বলল—
— বড্ড দেরিতে হলেও নিজেকে চিনতে পেরেছি। পরিশ্রম আর মেধা কখনো বৃথা যায় না। কত মানুষ কত নেতিবাচক কথা বলেছিল! সেদিন কথাগুলো বুকের ভেতর গভীর ব্যথা হয়ে বিঁধেছিল। কিন্তু সব হজম করতে শিখেছিলাম বলেই হয়তো আজ এত উঁচুতে উড়তে শিখেছি।
বিদুষীর বয়স এখন প্রায় আটাশ। নিজের যোগ্যতা ও পরিচয়ে সে এক অসাধারণ নারী।
ঠিক তখনই একটি মেয়ের কণ্ঠ ভেসে এলো—
— ম্যাম, আপনার জন্য সবাই নিচে অপেক্ষা করছেন। এই নিন, ফুলের তোড়া।
হঠাৎই বিদুষী আনমনা হয়ে উঠল। যেন নিজেকেই নিজের মধ্যে খুঁজে পেতে কষ্ট হচ্ছে। তবু কণ্ঠ স্বাভাবিক রেখে বলল—
— তোড়াটা পাশে রেখে যাও। আমি আসছি।
কথা শেষ করেই তর্জনীতে ধরা কল্পনার তারাগুলো দূর আকাশে ছুড়ে দিল সে। জীবনে যা একবার চলে যায়, তাকে আর আশপাশে ধরে রাখতে নেই—এ বিশ্বাস সে বহু আগেই শিখেছে।
এই প্রসঙ্গে বিদুষীর প্রিয় ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার তাঁর সাতকাহন উপন্যাসে লিখেছেন—
"মেয়েরা প্রথমবার যার প্রেমে পড়ে, তাকে ঘৃণা করলেও ভুলে যেতে পারে না। পরিষ্কার জল কাগজে পড়লে দেখবেন, শুকিয়ে যাওয়ার পরও দাগ রেখে যায়।"
তাহলে কি বিদুষীর জীবনেও এমন কোনো দাগ রয়ে গেছে?
হতেই পারে।
মানুষের জীবনে প্রেম ও ভালোবাসা এক চিরন্তন সত্য। এই সত্যকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। বিদুষীও হয়তো পারেনি।
একদিন একটি আকস্মিক ঝড় তার জীবনকে চুরমার করে দিতে এসেছিল। কিন্তু সেই ঝড় কতটা সফল হয়েছিল, তার উত্তর আজও অজানা।
খুব ভোরে ঘুম ভাঙতেই বিদুষী নিজেকে আবিষ্কার করল একটি লম্বা কাঠের বেঞ্চে শুয়ে। তাড়াতাড়ি উঠে বসে চারদিকে তাকাল।
মেয়েদের হোস্টেলের এই রুমটি এখন প্রায় ফাঁকাই থাকে। ঘরে তেমন কিছু নেই বললেই চলে। কয়েকটি খালি লকার পড়ে আছে। কোনোটি খোলা, কোনোটি বন্ধ, আবার কোনোটি আধখোলা। ঠিক যেন বিদুষীর নিজের মনের মতো।
অথচ একসময় এই রুমটির নামেই ছিল এক অদ্ভুত আভিজাত্য— "ডিলাক্স রুম"।
প্রথম যখন শব্দটি কানে এসেছিল, তখন মনে হয়েছিল, নিশ্চয়ই এটি বিলাসিতার এক স্বপ্নলোক।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এই হোস্টেলে বেশির ভাগই ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রী। তাদের স্বপ্ন ছিল খুব সাধারণ—কোনোমতে পড়াশোনা শেষ করে একটি চাকরি জোগাড় করা, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সম্মানের সঙ্গে জীবন কাটানো।
সেখানে "ডিলাক্স রুম" নামটি তাদের কাছে ছিল যেন এক অচেনা বিলাসিতার প্রতীক।
তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হোস্টেলে ডিলাক্স রুমের আবির্ভাব হলো ভিন্নধর্মী কিছু ছাত্রছাত্রীর হাত ধরে। আর তখন থেকেই শব্দটি সম্পর্কে জানার কৌতূহল আরও বেড়ে গেল।
আমি সত্যিই অভিধান ঘেঁটে শব্দটির অর্থ খুঁজে বের করেছিলাম। পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রকৃত অর্থ আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে বিদুষীর কাছে।
কিন্তু কৌতূহল তখনও মেটেনি।
আরও ভালোভাবে জানার জন্য একদিন আমি এক বড় দিদিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—
— দিদি, ডিলাক্স রুম কী?
দিদি একটু মুচকি হেসে বললেন—
— ডিলাক্স রুম (Deluxe Room) হলো সাধারণ রুমের তুলনায় কিছুটা উন্নত মানের, আরামদায়ক ও অধিক সুবিধাসম্পন্ন একটি কক্ষ। সাধারণত হোটেল, গেস্টহাউস কিংবা আবাসিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কক্ষের ব্যবস্থা থাকে।
দিদির কথা শুনে আমার মনে হলো, তিনি যেন কোনো অনুচ্ছেদ বা রচনা মুখস্থ শুনিয়ে দিলেন। কিন্তু আমার কৌতূহলী মন তখনও তৃপ্ত হয়নি। জানার আকাঙ্ক্ষা বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করছিল। তাই আবার সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞেস করলাম—
— দিদি, ডিলাক্স রুমে কী কী থাকে?
দিদি এবারও সাবলীল কণ্ঠে বলতে শুরু করলেন—
— ডিলাক্স রুমে সাধারণত তুলনামূলক বড় জায়গা থাকে। উন্নত মানের বিছানা ও আসবাবপত্র, সংযুক্ত (Attached) বাথরুম, এয়ার কন্ডিশনার কিংবা উন্নত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, টেলিভিশন, আলমারি, পড়ার টেবিলসহ আরও কিছু অতিরিক্ত সুবিধা থাকে। সব মিলিয়ে সাধারণ রুমের তুলনায় এটি অনেক বেশি আরামদায়ক।
দিদির কথা শেষ হলেও আমার ভাবনা শেষ হলো না।
প্রথমবার "ডিলাক্স রুম" শব্দটি শুনে আমার মনে হয়েছিল, আমাদের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে শ্রেণিবিভাজনের সূচনা যেন ঠিক এখান থেকেই।
একই হোস্টেল। একই নিয়ম। একই ক্লাসরুম। অথচ জীবনযাত্রায় কত পার্থক্য!
কেউ আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে, আবার কেউ কঠোর পরিশ্রম করেও নিজের প্রাপ্য সম্মানটুকু অর্জন করতে পারছে না। এই বৈষম্য নীরবে অনেক কোমল হৃদয়ে গভীর আঁচড় কেটে যায়। সেই আঁচড় চোখে দেখা যায় না, কিন্তু সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।
আজ সেই "ডিলাক্স রুম" প্রায় পরিত্যক্ত।
সময়ের কী নির্মম পরিহাস!
একসময় যে কক্ষটি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক, আজ তার সব জৌলুস হারিয়ে গেছে। যেন অতল অজানার গহ্বরে তলিয়ে গেছে তার সমস্ত গর্ব-গৌরব।
বিদুষীর জীবনও কি ঠিক এমন নয়?
বাহ্যিক সাফল্য আর আভিজাত্যের আড়ালে হয়তো লুকিয়ে আছে এক গভীর শূন্যতা।
ইদানীং রাত যত গভীর হয়, ততই এই রুমটি বিদুষীর আপন হয়ে ওঠে। এই মুহূর্তে পৃথিবীতে তার সবচেয়ে প্রিয় আশ্রয় যেন এই কাঠের বেঞ্চটি। এখানেই সে নির্দ্বিধায় মাথা রেখে শুয়ে থাকতে পারে। এখানেই বুকের ভেতর জমে থাকা না-বলা কথাগুলো নীরবে বলে ফেলা যায়।
দীর্ঘ সময় কোনো কথাই না বলে, শুধু সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলাই বিদুষীর কাজ।
ডিলাক্স রুমের চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখলে আজ আর কিছুই নেই। শুধু পড়ে আছে জিনিসপত্র রাখার কয়েকটি লকার। কোনটা ভাঙাচোরা, কোনটা খোলা, আবার কোনটা আধখোলা। সময়টা অনুমান করতেই বিদুষী ডিলাক্স রুমের উপরের দিকে তাকিয়ে ভোরের আলোটার দিকে মনোযোগী হয়ে ওঠে। সূর্য তার কিরণ ছড়াতে আর বেশি দেরি নেই। সে আর দেরি না করে দ্রুত ডিলাক্স রুমের বাইরে পা রাখে।
সামনেই বিশাল হলরুম। দিনের বেলা এই হলরুমে কত মেয়ের গুঞ্জনে মুখর থাকে চারদিক! অথচ এখন শুধু বড় বড় টেবিল আর বেঞ্চিগুলো নীরবে পড়ে আছে।
হলরুমের চারদিকে মেয়েদের ঘুমানোর ঘর। সবাই এখনও ঘুমিয়ে আছে। প্রতিটি রুমের জানালা ও দরজায় ঝুলছে বিভিন্ন রঙের পর্দা। এক রুম থেকে আরেক রুমের আড়াল রক্ষা করাই এই রঙবেরঙের পর্দাগুলোর কাজ। চারদিকে একদম নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। কোনো টু-শব্দও নেই। শুধু এই গরমে ঘুরতে থাকা ফ্যানগুলোর একঘেয়ে শব্দ।
হোস্টেলের অনেক কিছুই ভালো লাগার আছে। তবে তার মধ্যে অন্যতম হলো মাঝখানের দেয়ালে টাঙানো বড় একটি আয়না। ছোট-বড় মেয়েদের দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটে এই আয়নার সামনে নিজেকে দেখে। এর হয়তো অন্য রকম কারণও আছে।
কয়েক গজ দূরেই ছেলেদের হোস্টেল। পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের হোস্টেল থাকার কারণে অনেকের মধ্যেই সম্পর্ক তৈরি হয়। এটি একটি মিশনারি স্কুল। পড়ালেখা শেষ করে নিজেদের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে জীবন কাটানো যেন এখানকার এক অলিখিত প্রথা। তাই ছোট-বড় প্রায় সব মেয়েরই সময় কাটে এই আয়নাকে কেন্দ্র করে। বাইরে যাওয়ার আগে তারা আরেকবার নিজেকে আয়নায় দেখে নেয়—কোথাও কোনো খুঁত রয়ে গেছে কি না। কারণ, প্রতিটি মানুষই নিজেকে পরিপাটি রাখতে ভালোবাসে।
বিদুষী চারদিকে আরেকবার চোখ বুলিয়ে আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু তার চোখ আটকে যায় হলরুমের নোটিশ বোর্ডের দিকে। দূর থেকে দেখে মনে হলো, বোর্ডে নতুন একটি নোটিশ লাগানো হয়েছে। কিন্তু গতকাল রাতে বিছানায় যাওয়ার আগেও তো এমন কিছু তার চোখে পড়েনি।
একসময় তার হাঁটার গতি নোটিশ বোর্ডের সামনে এসে থামে। সে নোটিশটির দিকে তাকিয়ে মনে মনে পড়তে থাকে। তার চোখে ও মনে শুধু দুটি শব্দই প্রতিধ্বনিত হতে থাকে—
"শ্রীমান" ও "শ্রীমতি"।
এভাবে কতটা সময় অতিবাহিত হয়েছে, তা বিদুষীর খেয়াল নেই। হঠাৎই সে তার পিঠে একটি হাতের স্পর্শ অনুভব করে। সঙ্গে সঙ্গে তার দু-চোখ বন্ধ হয়ে আসে। সে হাতটির ওপর নিজের হাত রাখে।
পেছন থেকে হাত রাখা মেয়েটি আর কেউ নয়—তার বান্ধবী প্রীতি। খুব ভালো মনের মানুষ। বিদুষীর এই ক্রান্তিকালে প্রীতি যতটুকু মানসিকভাবে তাকে সমর্থন দিয়েছে, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
প্রীতি মৃদু স্বরে বলে,
— গতকাল বিকেলবেলায় হোস্টেল ডিন কাব্যদাদার বিয়ের নোটিশটা লাগাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি বলেছিলাম, যাতে পরা না লাগায়। আসলে সময় বড় অদ্ভুত নিয়তির খেলা। সে তার ইচ্ছে মতো চলে। কেউ কারো কথা ভাবে না। পারিনি বিয়ে কার্ড লাগানো বন্ধ করতে। তুই কি আমার ওপর রাগ করেছিস?
বিদুষী কী বলবে, আর কী-ই বা বলার আছে! এই মুহূর্তে তার কোনো কথাই মনে পড়ে না। শুধু কাব্যের মুখটা ক্ষণিকের জন্য ভেসে ওঠে তার চোখের সামনে।
কাব্য আর বিদুষী একজন আরেকজনকে ভীষণ, অদ্ভুত রকমের ভালোবাসত। হোস্টেলের 'হট জুটি' বলে তারা সকলের মুখে মুখে ছিল। কিন্তু কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল, তা হোস্টেলের প্রায় সবার কাছেই এক বড় প্রশ্ন। তবে বিদুষী আর এসব নিয়ে একটুও ভাবেনি। বরং নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়েছে একদম নিজের মতো করে।
স্মৃতির পর্দা ধীরে ধীরে সরে যায়। বিদুষীর চোখের সামনে ভেসে ওঠে নিজের বিয়ের দিনের সেই সন্ধ্যা।
— কিরে, তুই এই সন্ধ্যাবেলা এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী করছিস?
— আরে, তুই!
বলেই বিদুষী পিছন ফিরে দেখে, প্রীতি ওর সামনে দাঁড়িয়ে। দুই বান্ধবী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। জড়িয়ে থাকতেই প্রীতি জিজ্ঞেস করে—
— সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো?
বিদুষী মৃদু হেসে বলে—
— কিছুই ঠিক নেই। আজ আমার বিয়ে, একান্ত ঘরোয়া আয়োজনে। আর তুই এলি এত দেরি করে?
প্রীতি হেসে উত্তর দেয়—
— সে বিচার পরে হবে। এখন নিচে চল। সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করছে। এত সুন্দর করে গোটা বাড়িটা সাজিয়েছিস! বাইরে থেকে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে।
বিদুষী শান্ত কণ্ঠে বলে—
— আমি চাইনি এত কিছু করতে। কিন্তু মা-বাবার ইচ্ছে বলে কথা!
প্রীতি মুগ্ধ চোখে বিদুষীর দিকে তাকিয়ে বলে—
— আজ তোকে খুব সুন্দর লাগছে। নীল শাড়ি, সাদা ডায়মন্ডের গয়না, খোঁপায় কামিনী ফুলের মালা, সেই সঙ্গে হালকা মেকআপ—এক কথায় অসাধারণ!
বিদুষী আবেগভরা কণ্ঠে বলে—
— আজও তুই তেমনই আছিস, প্রীতি। তোর মতো বন্ধু পেয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। আমার জীবনের প্রতিটি ক্লান্ত লগ্নে তোকে পাশে পেয়েছি। এ ঋণ আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না।
প্রীতি হেসে বলে—
— ধুর, বোকা! বন্ধুকে কেউ এভাবে বলে? এক বন্ধুর বিপদে আরেকজন পাশে থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। অনেক কথা হয়েছে, এবার নিচে চল।
বলেই প্রীতি নিজের মাথা থেকে কালো ক্লিপটি খুলে বিদুষীর টিকলির পেছনে লাগিয়ে দেয়, যাতে টিকলিটা বেশি নড়াচড়া না করে। তারপর আরেকবার ভালো করে দেখে নিয়ে মুচকি হেসে বলে—
— এক কথায় অসাধারণ!
আর এক মুহূর্তও দেরি নয়। বলেই পাশের টেবিলে রাখা হালকা গোলাপি ও সাদা ফুলের সমন্বয়ে তৈরি অপূর্ব সুন্দর তোড়াটি বিদুষীর হাতে ধরিয়ে দেয়।
এরপর প্রীতি
বিদুষীর হাত ধরে নিচে, বিয়েবাড়ির কোলাহলের দিকে এগিয়ে যায়—একটি নতুন জীবনের আহ্বানে।
পেছনে পড়ে থাকে হাজারো বলা-না-বলা কথা, দুঃখ, কষ্ট আর বেদনার স্মৃতিগুলো।

0 Comments