বামিহাল ডেস্ক:
কানাডীয় কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ একাডেমি অ্যান কারসনের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, কারসনকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তাঁর ‘সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য, যা ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ সৃষ্টি করেছে।'
১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন একই সঙ্গে কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও ক্লাসিক্যাল স্কলার হিসেবে পরিচিত। তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, পুরাণ, দর্শন ও ভাষাতত্ত্বের প্রভাব গভীর। তবে তিনি শুধু ধ্রুপদি ঐতিহ্যকে অনুসরণ করেননি; বরং সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক জীবন, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, বিচ্ছেদ ও মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন সাহিত্যিক কাঠামো নির্মাণ করেছেন।
কারসনের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কবিতা, গদ্য, সংলাপ, অনুবাদ ও নাট্যরীতির সীমানা ভেঙে দেওয়া। তাঁর সাহিত্যকে তাই প্রচলিত কোনো একটি ঘরানায় সহজে আটকে রাখা যায় না।
৭৬ বছর বয়সী এই লেখক উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসিক্যাল সাহিত্য পড়িয়েছেন। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতা রচনার পাশাপাশি গ্রিক সাহিত্য অনুবাদ ও সাহিত্য-সমালোচনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
অ্যান কারসনের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে Eros the Bittersweet, Glass, Irony, and God, Autobiography of Red, The Beauty of the Husband, Nox এবং Float। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত Autobiography of Red বিশেষভাবে আলোচিত। গ্রিক পুরাণের চরিত্র গেরিয়নকে কেন্দ্র করে লেখা এই ‘ভার্স নভেল’-এ পুরাণের সঙ্গে আধুনিক মানুষের প্রেম, প্রত্যাখ্যান ও আত্মপরিচয়ের অভিজ্ঞতাকে মিলিয়ে দিয়েছেন তিনি।
২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য রাখা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনাপুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।”।আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কারের পদক ও সনদ তুলে দেওয়া হবে।

0 Comments