আব্বাকে খুব ভর পেতেন বাড়ির সকলে,আমার চার ভাই দুই ভাবী ৫ জন ছেলে মেয়ে ভাইদের। আমি আর আম্মা , হৈচৈ এর সংসার আমাদের। একমাত্র বোন হওয়ায় এতটাই যত্নে আদরে বড় হয়েছি আমি যে তা কল্পনাও করা যায় না। জমি জমা ফসল,গরুর গোয়াল সামলানোর জন্য বেশকিছু কাজের লোক ছিল আমাদের। দুলাল নামের ছেলেটা ভাইদের নানা রকম কাজের ফরমায়েশ শুনতো। আমি তখন নাইনে পড়ি, আমার প্রতি ওর অতিরিক্ত বিনয় আর আকুলতায় আমি দুলালের মায়ায় জড়ালাম ।
ওকে লুকিয়ে বাড়ন্ত খাবার দিতাম,ও যেনো একটু বেশি বিশ্রাম পায় সেদিকে খেয়াল রাখতাম। কোথা থেকে ও প্রায়ই আমাকে কদম,শাপলা, কুল, কামরাঙা, পেয়ারা এনে দিতো। আমি ক্রমাগত দুলালের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকলাম। দিনগুলো কাটছিলো আমাদের তৃপ্তিতে।
এভাবে কাটলো বছর তিন।
বাড়িতে খুব তোড়জোড় চলছে আমার বিয়ের। বেশ কিছু সম্বন্ধ আসতে থাকলো অনবরত।
আমিতো কেবল আকুল হতে থাকলাম দুলালের প্রতি, তবে দুলালের কথা আমি কাউকে বলতে পারলাম না। দুলালকে যেদিন বললাম যে আমি তাকে পছন্দ করি, সে আঁতকে উঠলো, সে যেনো কঠিন ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারছিলো। দুলাল আকুতি নিয়ে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো, সে আমাকে পছন্দ করে কিন্তু ঘর বাঁধার দুঃসাহস সে কখনোই করেনি। কিন্তু আমার যে মন মানতো না ওকে ছাড়া, কিছুক্ষণ ওকে না দেখলেই অস্থির হয়ে যেতাম।
একদিন আমার বিয়ে ঠিক হয়েই গেলো। দুলালের অসহায়ত্ব বাড়তে থাকলো। আমাকে আপন করার কোন ইচ্ছে বা উপায় ছিলোনা দুলালের।
আমার গায়ে হলুদের রাতে,
বাড়ির পিছনের বেল গাছটার সাথে আত্মহত্যা করতে গেলাম, এ ভুল থেকে মৃত্যু থেকে আমাকে দুলালই বাঁচালো, বাড়িতে ভুলবোঝাবুঝি সৃষ্টি হলো।
সবাই ভাবলো দুলাল আমাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমার ভাইয়েরা বাবার আদেশে দুলালকে বেধড়ক পেটালো, আমি সেদিন চুপ ছিলাম, দুলালের কোন দোষ নেই, এ কথা কাউকে বলতেও পারলাম না। আধমরা এতিম অসহায় দুলালকে বের করে দেওয়া হলো বাড়ি থেকে।
আমার জীবনের প্রথম প্রেমই নয়, সকল প্রেমকেই আমি সেদিন থেকে বিলিন করলাম। আমি আর কখনো কাউকে, কিংবা নিজেকেও ভালোবাসতে পারিনি। হাপিত্যেশের তজবিতে জুড়তে থাকলাম জীবনের গান।

0 Comments