ভালোবাসার সিক্ত খামে চিঠি লিখছি তোমার নামে। কিশোর বেলায় লিখতে নাম কলাপাতায়।কাঁঠাল বাকল ছিবড়ে ফেলে কমলা রঙে আঁকতে আমায় নানান ঢংয়ে।
চিঠি লিখতে গোপন নামে ভুলেও যেন কেউ না জানে।স্কুল পালিয়ে মাঠ দাপিয়ে দুজন মিলে বিল-ঝিলে,হাতধরা সেই শিহরণে,হটাৎ সখ জাগলো মনে দুজন হবো বরকনে।
মাকে বলি কানেকানে,বোনকে বোঝাই গানেগানে,বুঝে গেলেন বাবা এসবকিছুর সব মানে।বন্ধ হলো স্কুল যাওয়া,ঘুচলো মোদের নাওয়া খাওয়া,বুকজুড়ে হায় কষ্ট হাওয়া।
একদিন এক রাত্রিরে ঈদের খুশির খাতিরে তোমার মাতা এলেন চলে নালিশ নিয়ে
আমার পিতার খাস দপ্তরে।সহি দিলাম ঘুরবোনা আর একসাথে, বিয়ে দেবেন আমায় অতিসত্বরে।
পুতুল বিয়ের সং করে হাতটি কেমন রাখতে ধরে! সেসব স্মৃতি পড়ছে মনে,উদাস দুপুর সন্ধে ক্ষণে।দিনের কোলে দিন ঢলে বছরগুলো গেলো চলে।
বুকের গাঙে বাইরি বাতাস,আকাশ ভরা দীর্ঘশ্বাস,হারিয়ে গেলাম দুজন মোরা,হয়না দেখা চিঠি লেখা,নিষেধ বারণ চারপাকে।
আজো দেখি নিত্যরাতে,মলিন কাগজ ঝুরঝুরে,ভালোবাসার গল্প করে।
প্রথম প্রেমের কষ্ট বুকে চিত্ত আজো ডুবে থাকে।হয়নি মিলন,বিরহ বচন,তাই বুঝি আজ নিলাজ হয়ে,ফের চিঠি দিই আকাশ ডাকে।
ভালোবাসা হৃদয় খুঁড়ে,আমৃত্যু এমনি করে বেড়ায় ঘুরে!
ভালো থেকো দূরের নায়ে,পূবাল বাতাস মাখিয়ে গায়ে।এ জনমের বঁধু হওয়া,ঐ জনমে যায় কি পাওয়া??
আশায় থাকি পরপারে,রক্তে লেখা করুণ কথা
সবাই যেন বুঝতে পারে।
ইতি
হার মানা হার
সেই আমি।

0 Comments