ভালো আছি অসহ্য রকম || জামসেদ ওয়াজেদ

I am unbearably well || Jamshed Wazed


কতটা কাছের হলে সে আমাকে তুমি বলে ডাকে। যোজন দূরের নারী চেয়েছিল কাছে হতে খুব। আমার দুঃখের সাথে চাইনি তো তাহারে মিলাতে। ক্ষণিকের দুঃখ ভালো, সাদাকালো জীবনে আমার। এ বিকল্প ভাবনায় আমি তাকে দূরে ঠেলে দেই। কতটা পেয়েছে কষ্ট, আমি তার করিনি তো কোনো পরিমাপ। ‘টু-লেট’ ঝোলানো মনে তাকে আমি এতটুকু দিইনি ঠাঁই।


একদিন গোলাপ ছুড়ে রাগ করে বলেছিল, “তোমার চোখের ভাষা বোঝা বড় দায়।” আমিও মুছেছি অশ্রু, ব্যথাবুকে বলেছি যে, আমি নিরুপায়। আমার নিজস্ব বলে কিছু নেই, ভূমি, ঘর কিংবা কানাকড়ি; কী করে যে এই মন সঁপে দেই অষ্টাদশীর হাতে। পাঠরত যুবকের ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হলে, লঙ্ঘিত হতে পারে প্রেম সংবিধান।


উর্বশী নামের মেয়ে জল দেখে যদি পায় ভয়, কী করে আষাঢ় মাসে সাঁতারাবে এ চলনবিলে? জলের নামতা ভুলে তিনবেলা পাঠ করে প্রেমের আখ্যান। আমি তার মুখোমুখি হতে গিয়ে ভয় পাই খুব। শ্রাবণের কাশবনে গোলাপি ঠোঁটের ছোঁয়া হয়তোবা ভালো লাগে যুগলের মনে। আমার আশঙ্কা ছিল, এইসবের সঙ্গে যুক্ত হলে ধ্বংস হবে নিজ ক্যারিয়ার।


তবুও সে বারবার আমার পথের পানে চেয়েছিল রোজ। হয়নি তো দেখা আর ধানমন্ডি সাতাশ কিংবা জাফরাবাদ গলির ভেতর। সময় মোমের মতো জ্বলে জ্বলে কত দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়। তিনটি দশক প্রায়, তার আর নেই কোনো খোঁজ। কোথায় আছে, কেমন আছে? আমাকে কি আজও পড়ে মনে! আমিতো ভুলিনি তাকে, আভিজাত্য এই আনন্দক্ষণে।


ফের যদি দেখা হয়, হয়তো সে বলবে, “তোমাকে বিশ্বাস করে ভালো আছি, অসহ্য রকম!”


জামসেদ ওয়াজেদ

কবি ও সম্পাদক

Post a Comment

0 Comments