এখন প্রতিদিনই ঘুমটা ভেঙে জানালা খুলি
গ্রিলটা ধরে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি
মা বলেছেন, সকালবেলার বাতাসগুলো
ফুসফুসকে রাখে ভালো। আর যে আলো
ঘরে আসে— জীবাণুকে ধ্বংস করে।
পাশের বাড়ির জানালা দুটো হঠাৎ হঠাৎ
চোখ কেড়ে নেয়— তড়িৎ খেলায়
মা জানে না পাশের বাড়ি সূর্য থাকে
চাঁদের মত জ্যোৎস্নারঙা আলো থাকে
নির্মল ও আর্দ্র নরম— প্রাণ জুড়ানো বাতাস থাকে
পাশের বাড়ি আমার মতো স্কুলে যায়
মাঝে মধ্যে এদিক-ওদিক।
পাশের বাড়ি হাসতে পারে, গুনগুনিয়ে গানও করে
পাশের বাড়ি স্নানের শেষে বাতাস রোদে কাপড় নাড়ে
কাপড়গুলো নড়ে উঠলে, পাশের বাড়ি নড়ে ওঠে
পাশের বাড়ি ঘুমিয়ে গেলে তখন দিনের সূর্য ডোবে
আমি তখন জ্যোৎস্না মেখে স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন আঁকি
পাশের বাড়ির চুলের সাথে ফুল এঁকে দেই
ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি আঁকি
ডান চিবুকে ছোট্ট একটা মর্মভেদী তিলও আঁকি
টোলও আঁকি নরম গালে।
জানালা খুলে যেমন করে তাকে দেখি—
তেমন করে নিটোল ঢেউয়ের আছড়ে পড়া শরীর আঁকি
আঁকা শেষে অবশেষে
এই ছবিটা পৌঁছে দিলাম পাশের বাড়ি—
সেও এখন জানালা খোলে— ঘুম ভাঙতেই...

0 Comments