কত দৃশ্যই ভেসে ওঠে। বলি বলি করেও বলা হয়ে ওঠে না। উৎসাহে কুলোয় না। ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে আজ। পাশের বাড়ির ছাদের কার্ণিশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি। নতুন, চিকন চাঁদ দেখার বাতিক আছে তার। আমি আমার মন নিয়ে আছি আপন মনে।
১৯৭৪ সাল। ক্রিকেট তখন সেগুন কাঠের সিঁড়ির মতো, হাতেগোনা দু’চার বাড়িতে। ইট দিয়ে থরেথরে বানানো স্ট্যাম্প, পাশেই ওয়্যারহাউজের দেয়ালে ইটের খোয়া ঘষে লিখে রাখা স্কোর। বন্ধুরা খেলতো। কোনোদিন খেলিনি আমি। দেখতাম। সিল্কের হাফহাতা শার্ট পরে বোঝার চেষ্টা করতাম।
ব্যতিক্রম একটাই। হঠাৎ কখনো টেনিস বলটা মাঠ পেরিয়ে উড়ে গিয়ে পড়ত রহস্যময় এক বাড়ির উঠোনে। আর এখানেই কাজ। কর্মের কর্মফলের আশায় দুরুদুরু বুকে ঢুকতে হতো আমাকে সে বাড়ির অন্দরমহলে।
খাঁ খাঁ দুপুর। নিঃশব্দে বলটা নিয়ে সটকে পড়তেই ভদ্রমহিলা মায়ার স্বরে শাসাতেন। ‘এই ছেলে, পালাচ্ছ কোথায়? বসো। মিষ্টি খাও।’ নিজের হাতেই মোরাদাবাদী রেকাবিতে মিষ্টি এনে দিতেন। অন্য হাতে থাকতো পাথরের গেলাসে ঠাণ্ডা পানি।
ক্রিকেট আজ ঘরে ঘরে। মিষ্টি, মহিলা-তারা আরও উন্নত, চোখ ধাঁধানো। কিন্তু ব্লটিং পেপারের মতো অমন সম্ভ্রম জাগানো মহিলা এ-জীবনে দেখলাম না আর একটিও!

0 Comments