মেঘের প্রতিভা
ছেঁড়া জামা পরা এক কিশোর,
ছেঁড়া জামা তার প্রতিভা
আলো-ছায়াঘেরা আকাশের নিচে
বোরখা পরা প্রার্থনারত মহিলা,
বোরখা তার প্রতিভা
আয়না হাতে একটা বেশ্যা
আয়না তার প্রতিভা।
আশা
রংচটা ধূলোমাখা তোবড়ানো পুরোনো
পরপর দাঁড় করানো কয়েকটি রিকশা
এক নির্জন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
একটা রিকশার পিছনে বেগম খালেদা জিয়ার মুখ আঁকা।
স্প্রিং বের-হওয়া ফাটা চামড়ার সিটে
অলসভাবে বসে আছে রিকশাচালক।
রিকশার চাকা দুটো টাল খাওয়ানো।
ইস্পাতহৃদয়া
টিয়া পাখির মতো লাল ঠোঁট
টিয়া পাখির মতো বাঁকানো নাক
সদ্যভাঙা নারকেলের মতো ছলছলে চোখ
উল্লসিত বস্তিবালিকার মতো হাসি
হাতে পরেছে ইস্পাতনির্মিত দস্তানা
তরমুজের মতো কাটা নিজের লাল ক্ষতে ওষুধ ঢালছে
মুভি ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করছে `কাট`
কী সুন্দর শারীরিক সুশ্রীতা
মরিচার মতো রঙের শিশু জন্ম দেবে এই ইস্পাতহৃদয়া
গর্ভযন্ত্রণা এবং সৃজনসুখ
একজন ব্যক্তি বাড়িতে এখন একা একা দিন কাটাচ্ছেন।
তাঁর স্ত্রী এখন নাকি সন্তানসম্ভবা।
তাঁকে আলাদা রাখা হয়েছে।
একজন ব্যক্তি কোনো হাসপাতালের প্রসূতি-ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে
আছেন।
বন্ধ ঘরের ওপাশে তাঁর স্ত্রী।
তিনি করিডোরে একা দাঁড়িয়ে
পাখির ডাক এবং পাতার হিল্লোলের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন।
মাথা এবং গর্ত
তিনটা আঙুল পড়ে আছে।
খুলিটা মাটির হাঁড়ির মতো আলাদা ভেঙে পড়ে আছে।
একটি গর্তের মধ্যে একটি মাথা
মনে হয় যেনো রাস্তা ভেদ করে
মাথাটা ঐভাবে ওখানে পড়ে আছে।
মরা খোলার সাধুরা
একটা তাঁবুর কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে।
পিছনে গাছের পাতার ফাঁকে দু-একটা ফুল ফুটে আছে।
তাঁবুর ভিতরে ধুনি জ্বালিয়ে তিনজন সাধু নিজেদের মধ্যে
আলোচনা করছে।
কুহেলি মায়া মেশানো গভীর গাছগাছালির স্পন্দনে মরাখোলার
সাধুরা ফিসফিস করছে।
ধ্যানমগ্ন গম্ভীর পরিবেশ।
চাপ চাপ কুয়াশার মতো পরিবেশ তাঁবুর চারপাশে
একটি মানুষ ওভারব্রীজের মতো
একটি মানুষ দাঁড়িয়ে একা
ওভারব্রীজের ওপর,
তাকিয়ে আছে বাড়ির দিকে।
একটি মানুষ একাই ওভারব্রীজের ওপর,
দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির দিকে চেয়ে।
একটি মানুষ দাঁড়িয়ে আছে ওভারব্রীজের ওপর
একাই বাড়ির দিকে চেয়ে
এক্কেবারে একা।
বারান্দায়
চিন্তামগ্ন এক বালিকা দাঁড়িয়ে রয়েছে,
হাত দুটো তার এক সঙ্গে ধরা রয়েছে,
সে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের কলোনিবাড়ির বারান্দায়
বাড়ির সামনের গাছগুলো আবেগভরে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
মেয়েমানুষ
সবুজ শাড়ি পরিহিতা মহিলা তারে আরেকটি
সবুজ শাড়ি মেলে দিচ্ছে।
রাজা
রাজাকে কখনো আমি পুতুল ভাবি,
আবার ভিখারি বালককে কখনো রাজা ভাবি।

0 Comments