অপূর্ণ
ইচ্ছে
মন্দিরের চাতালে বসে থাকা ভিখারীটা,
অবাক হয়ে দেখছে মেয়েটির মসৃন চামড়া,
মনে মনে মেলানোর চেষ্টা করছে,
তার মৃতা স্ত্রীর রুক্ষ তালুর সাথে।
পুজো দেওয়ার লাইনে দাঁড়ানো,
মসৃন চামড়ার মেয়েটার গালে চড়া মেকআপ,
লোভাতুর দৃষ্টি খুনসুটিরত জুটিতে আবদ্ধ,
গতরাতের শক্ত হাতের চড় কাঁপুনি ধরাচ্ছে শরীরে।
খুনসুটি করতে থাকা নরম মনের মেয়েটার,
ঠাকুরের কাছে করুণ আবেদন,
এরকম আরো অনেক খুশীর মুহুর্তের সাক্ষী,
যেন থাকতে পারে তার মৃত্যুপথযাত্রী স্বামী।
সিংহাসনে সোনার গয়নায় মোড়ানো ঠাকুরের,
বড়ো সাধ জেগেছে একদিনের জন্যে
ওই মন্দির চাতালে বসা ভিখারী সেজে,
খোলা আকাশের নীচে বসে ভাত খাওয়ার।।
অদৃশ্য
সিঁড়ি
চারতলার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে,
নীচের দিকে তাকিয়ে দেখি,সিঁড়ি গায়েব।
ওপরে তাকিয়ে দেখি,হাতছানি দিচ্ছে
লাল কাপড়ে মোড়ানো সুদৃশ্য সিঁড়ি।
যেখানে ছিলাম,সেখানেই দাঁড়িয়ে যাই,
স্থানুবত,গভীরভাবে ভাবতে থাকি,
ওপরে উঠব,নাকি থেমে যাব?
পায়ের তলার সিঁড়িও যদি হারিয়ে যায়?
হঠাৎ কি মনে হতে পেছন ঘুরে,
নীচের দিকে মারি এক মোক্ষম লাফ,
বিছানাটা সামান্য কেঁপে ওঠে,
ঘুম ভেঙে উঠে দেখি ঘামে ভিজে জবজব।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি,যাক!তবে দাঁড়িয়ে নেই অদৃশ্য সিঁড়িতে।।
জানালাবাগান
জানালা বাগানে কিছু ফুলগাছ রেখেছি,
রোজ জল দি, পরিচর্যা করি,
তবু যেন ওরা সন্তুষ্ট নয়,
রোদ খাবে বলে জানালার বাইরে মুখ বাড়ায়।
কতো আদর করি, হাত বুলিয়ে দি,
তারপরও কত দেরীতে ফুল ফোটায় ওরা,
বড়োজোর একবেলা কৃত্তিম হাসি হেসে,
সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে।
যখন সকালে ঘুম ভেঙে দেখি,
ঝলমলে ফুল শোভা পাচ্ছে টবে,
কি যে আনন্দ হয় তখন,
ঠিক ততটাই কান্না পায় ফুলের অকালমৃত্যুতে।
ওরাও কি কষ্ট পায় আমার মতো?
মুক্ত সবুজ গালিচার বদলে জানালায় বন্দী থাকতে?

0 Comments