শুভ্রা সাহা’র ‘প্রতিশ্রুতি’ ও অন্যান্য সাত কবিতা

Shubra Saha's 'Pratishruti' and seven other poems



ভগবতীর আগমন 


কাশফুল আর  শিউলি  ফুলের  গন্ধে

আকাশে বাতাসে মিষ্টি  সুবাসে

ভগবতীর আগমন ঢাকেরকাঠিতে

 মায়ের  পায়ের চিহ্ন দেখা য়ায়  মন্দিরে।। 

নদীর স্রোতে দোলায়  দুলতে  দুলতে 

মহালয়া  থেকে  দশমী র  মায়ের চরণ দর্শন

মাকে  বরণ সিঁদুর  খেলা  ধূমচী নৃত্যে

বছর  বছর  মায়ের  মত্যে আগমন। 





দেবীর  আগমন 


শরতের  শুভ্র  আকাশে 

সাদা  মেঘের  ভেলায়

শিউলি  ফুলের  সুবাসে

নদীর  বাঁকে  কাশফুলের 

মেলায়  দেবীর  আগমন।

পুষ্প  চন্দন আর ভক্তি 

মাকে করব তুষ্ট 

শক্তি  রুপি  মা।

বধ করবে  অসুরকে

পৃথিবী  হবে  শস্য  ভান্ডারে 

পরিপূরক  হবে  জগতের শান্তি।। 

মন্ত্র   দিক্ষায় দিক্ষিত হয়ে 

অসুন্দরকে বিনাশ করে 

সজ্জিত   হবে  সুন্দরের।।




ত্যাগ


পৃথিবীর মায়া  জালে জড়িয়ে 

কিছুটা সময়  বন্ধ নের স্বপ্নে বিভোর 

প্রত্যেকের  ভালো  বাসার কাছে 

কখন  য়েন মিশে গেছি অলোখ্যে । 

এিভুজের মতো  এিনয়ন

সবই   ভালো বাসার মানুষ গুলো র কাছে 

আমারা নিজেদের চাওয়া পাওয়া 

বিলিয়ে দেই  অস্তিত্ব ওদের  তরে।

সংসারের  প্রতিটি মুহূর্ত  দরজার 

 ছিটকিনির মতো 

কতো ত্যাগ করে  নারী  পায়  সর্গ 

বাঙালি  প্রতিটি নারী  জীবনটাকে  ত্যাগেই

সার্থকতা পেয়ে  নিজেকে  মহিমান্বিত 

কিন্তু  ত্যাগের বিনিময়ে নিঃশ্ব হয়ে

অনাদরে লুন্ঠিত হয়   চিরনিদ্রায় ।।




জানালা


ভোরের  আবছা  আলোয় 

পাখির  কিচির মিচির  শব্দে

আযানের  মুখরিত  ধ্বনিতে

ঘুম  ভাঙল   টিনের  চালে বৃষ্টির ঝুনঝুনিতে

ভ্যাপসা গরম বিদ্যুৎতের বিভ্রান্তিতে

নেমে  এলো  প্রকৃতির সৌন্দর্য ওপ্রশান্তি

পুকুরের  পানিতে বৃষ্টির ফোঁটা ও

বুনো হাঁস  আর মাছেরা সাঁতার কাটছে।। 

এমন  ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির দিনে 

ভুনা খেচুরীর মজা মেলা ভার

 ধানের  শীষের উপর বাতাসের দোলনী

 মেঘের কোনে   ভেসে  বেড়ায়  মেঘপুঞ্জরা।

 দলে দলে  ছেলে  মেয়েরা  গাছের তলায় 

আম কুড়ানোর  ভীড়  জমায়

 পদ্মপুকুড়ে  গামছায়  ছাঁকিয়া মাছধরে

এমন  মন মাতানো  দৃশ্যজুড়িমেলা ভার।।




দোলনচাঁপা 


সূর্য ওঠার সাথে সাথে ঘুম  ভাঙল 

টিনের চালে পাখির  পায়ের  শব্দে 

আর   ভোরের  বাতাসে  মিষ্টি  গন্ধে

মনে  পড়লো  অগণিত  দোলনচাঁপা ফুটেছে

দোলনচাঁপা  আমার  কন্যার খুব  প্রিয়

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দিবে 

আর শুভ্রতায় তার  মনে  দোল দেয়। 

দোলন এতো  প্রিয়  এই সময় টুকু

নিজেকে  পরিপূর্ণ করে তোলে। 

বৃষ্টির  আলিঙ্গনে দোলনের সৌন্দর্য 

আরও  স্নিগ্ধ সুষময়ে ভরে ওঠে 

প্রকৃতির  সঙ্গে  দোলনচাঁপার সম্পর্ক

মানব মানবীর  সুগভীর  ভালো বাসার মতো




গ্রহণ 


প্রথম জীবন  সুন্দর তম

গ্রহণ  কর প্রিয়রে

আবার  এক গ্রহণ  আছে 

পৃথিবী  কালিমায় ঢেকে  রয়।।

    মনের  ভিতরও  আমাবস্যা  লাগে

পৃথিবীর  গ্রহণের চাইতে ও  ভয়াবহ 

দুটি  হৃদয় আয়নার  মতো 

চির ধরে  মনের  দরজায়।। 

   হায় বিধাতা  তোমার  স্পর্শে  গভীরতা 

কেন   তোমার  নিষ্ঠুরতা পৃথিবী আর  হৃদয়ের  মধ্যিখানে 

শস্য  শ্যামলার মধ্যে  আরেকটা শিশুর  জন্ম । গৃহিণীর  আ্লো আঁধারির মুখচ্ছবি।।




প্রতিশ্রুতি- ৫


আমি  তোমার জন্য  সৃষ্টি 

শ্যাওলা  যেমন  জড়িয়ে  থাকে মৃত্তিকাকে

আমি ও তোমার  সঙ্গে  লতা পাতার  মতো একই বৃন্তে  ফুটতে  চাই  সূর্যের আলোতে।।

   ভালো বাসা  কেমন  হয়

তোমাকে  বুঝাতে পারি নাই

রঙ ধনুর সাতটি  রঙে রাঙাতে চাই 

বুঝতে  চাই  তোমার  পাষাণ হৃদয়কে।।

তুমি  আমার  হয়ে থেকো

আমি তোমায় বলছি 

নিশ্বাস অবধি  তুমি আমার 

ময়ূরের  মতো  জীবন্ত

জোনাকির আলোর রশ্মির মতো 

আমি  তোমাকে ভালো বাসি  ভালো বাসব। 

অন্তিম  সজ্জায় পূর্ব  মূহুর্ত  পর্যন্ত।। 

তোমার  পাষাণ  হৃদয়েকে।




Post a Comment

0 Comments