ক্রুশ বিদ্ধ যীশু
নির্জন শ্মশানের ঘন অন্ধকারে জেগে থাকে কলঙ্কিত চাঁদ
শবদেহের গাঢ় ব্যথা বুকে নিয়ে জ্বলে ওঠে চন্দন কাঠের চিতা
কেবল ঘি পোড়া আগুনের ঝাঁঝালো গন্ধে—
নীলচে কুয়াশায় ধূসর হয়ে আসে দেবতাদের ক্লান্ত মুখ।
মধ্যরাতে নিজের পাঁজর খুলে বকেয়ার খাতা বের করলে
একান্ত ব্যক্তিগত বিষাদগুলো ধারালো হয়ে ওঠে
মানুষের দীর্ঘ লাইনের ভিতর এইসব বেদনাস্পর্শ লুকিয়ে
নিবিড় প্রতীক্ষায় তাকিয়ে থাকি ধূমায়িত নীলিমার গহনে।
পিপাসায় কাতর হয়ে আসে অন্তর্গত শিরা উপশিরা
হৃদয়াক্রান্ত বালুচরের নিঃসঙ্গ শ্মশানে কাঁদে আহত চোখ
আফিমের নির্যাসও ভোলাতে পারে না অতীতের ব্যথা
ক্রমশ চিতার গনগনে আগুন গলে পড়ে বিবশ শরীরের ক্ষতস্থানে!
আশ্রয় নেই কোথাও— কেবলই ব্যাকুল শূন্যতার হাহাকার
দেহের সিঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে পড়ে ক্রোধ–রক্ত–কান্না
পিরামিডের চূড়ার মতো রোদে জ্বলে যাচ্ছে পিঠ
আর সেখানে তুমি ঠুকে দিচ্ছো উত্তপ্ত লোহার লাল পেরেক।
ঈশ্বরের আঙিনা
নিজের দীর্ঘ আত্মজীবনী পড়ে বুঝলাম—
আমার গতজন্মের শৈশব কেটেছে ঈশ্বরের আঙিনায়।
ঈশ্বরের অভিজাত ছায়ায় বসে পরমানন্দে শিখেছি— প্রেম
এরপর বহুবছর কেটে গেছে অশরীরি আত্মা নিয়ে
এখন মানুষ হয়ে পৃথিবীর পথে হেঁটে হেঁটে রপ্ত করেছি— বিপ্লব।
ক্রমাগত প্রেম এবং বিপ্লব আগুনের মতো জ্বলে উঠে
ক্রমাগত প্রেম এবং বিপ্লবের অশ্রু জ্যোৎস্না হয়ে ঝরে পড়ে,
আগুনের অশ্রু হাতে নিয়ে আমি আর ঈশ্বর দাঁড়িয়ে আছি
কেবল আমাদের মাঝে বয়ে যাচ্ছে এক বেদনাগ্রস্ত নদী।
আমি বিপ্লবী হয়ে উঠলে—
ঈশ্বরের আঙিনা নির্জন পড়ে থাকে
আমি প্রেমিকা হয়ে উঠলে—
ফাঁকা হ্যাঙারে ঝুলে থাকে প্রেমিকের মৃতদেহ!
নিলামগ্রস্ত নাভী
অভীমানী পালকে লেগেছে রক্তের দাগ
দু'চোখে আত্মগোপন করেছে প্রেমিকের কান্না
শরীরের ছায়া ঋণগ্রস্ত হতে হতে
নিলামে তুলেছো এই নয়নতারা দেহ।
এখন বিষাদের কোমল ছায়া
শ্লোগানমুখর সন্ধ্যার উঠোনে দাপিয়ে বেড়ায়
চারদিকে কস্তুরীর সুবাস ছড়িয়ে—
তুমি কোথায় থেকে আসো মশাল হাতে?
তোমার আগুনের প্রবাহে পুড়ছে আমার নিলামগ্রস্ত নাভী!

0 Comments