সাত্বিক জীবন
মানবজীবন জেনো অতসীরূপ-সৎষ্ক্রপ্রাণ
সাত্বিকগুণেতে হতে হবে গুণী ;
অশুচি আত্মাকে করো তবে শুচি,
এ দেহ পূণ্যজলে করে তবে দাহ
লও লও প্রাণে গেঁথে সে নকশিকাঁথা বুনি।
জীবনে হতে হবে অমোহ ত্যাগী
ভোগ নয় ভোগ নয়,বাঁচতে যা চাই;
লও সঞ্চয় করি ঐ সম সঞ্চারি,
স্বাভাবিক সমাজে হতে সামাজিক
তবে শুদ্ধতায় পেতে পারো স্রষ্টাতে ঠাঁই।
জীবনে সবার চাই রসময় আলো
যে আলো জোছনারূপ সুধার মতন;
যে জীবন পারিবারিক সম্মান মহীর
ঐ পথের হও পথিক দেহজগতে
করো ত্যাগের মাঝে তারে যতন।
অক্ষর পুরুষ
যদি পুরুষ থেকে হও পুরুষোত্তম
তবে হও তবে হও অক্ষর পুরুষ ;
তোমার পথ হবে তবে কমণীয়
ফুলের ঘ্রাণের মতো নন্দিত খোশ।
এ জীবন তুচ্ছ নয় তুচ্ছ নয় জীবও
সৃষ্টি যে স্রস্টার অতি আদরের ;
এ জীবন গৈরিক ঈষৎ ধূসর বর্ণিল
নয় কভু অসবুজ কঠিন পাথরের।
অশ্বত্থ বৃক্ষের চাই জ্ঞান আরোহন
চাই চাই শাস্ত্রজ্ঞান আর বিজ্ঞান ;
তবে পাওয়া যাবে এ জীবনের স্বাদ
তোমার হস্তে হবে জগৎকল্যাণ।
ঈশ্বর
ঈশ্বর সকল জীবে গমন করেন
কেউ ছুঁতে পারে তারে কেউ পারে না,
অপবিত্র জীবাত্মায় সে থাকে না
পবিত্র চোখের আলোয় সে ভাসেন।
ঈশ্বরও কথা বলেন তার মতো করে
জিতেন্দীয় জগতে হয় যে সাধক;
যে যেরূপ সাধনায় তারে নেয় বরে
তার বাণী তার বার্তার সে হয় রক্ষক।
ঈশ্বরের বাণী পাঠ করবে যেজন
সে হবে জগতে ঈশ্বর প্রিয়জন।
বৃক্ষ ও অশ্বত্থ বৃক্ষ আর মানুষ
বৃক্ষের বিপরীত অশ্বত্থ বৃক্ষ
মানুষও তাই
বৃক্ষের মাথা মানে মূল মাটিতে থাকে
তারপর মেলে অংকুরোদগম
আর মানুষও মায়ের গর্ভে তেমনি।
তার মাথা মূল উপরে থাকে
কান্ড,ডালপালা নীচের দিকে
পাতা মানে পাখা মানে দুই হাত
আর কান্ড মানে মেরুদণ্ড
আর দুই পা দুই ডাল
পা থেকে আঙুল আর পাতা।
স্বরূপ সদৃশ অশ্বত্থ বৃক্ষের
আর সব বৃক্ষের বিপরীত
বৃক্ষও এক প্রকার বিপরীত সদৃশ মানুষ
মোহমুক্তি
বাচিক তপস্যায় প্রাণ করো হে উজার
কাম ক্রোধ লোভ করো দেহে নিয়ন্ত্রণ;
অমোহ জীবনযাপন করো এই ধরাপরে
তবে পেতে পারো জ্ঞানের সন্ধান-জ্যোতির নয়ন।
এ নয়নে দেখলে এ জগত সংসার
খোঁজ পেতে পারো তবে পরমাত্মার।
তামসকর্তার পথে চলোনা হে তুমি
আসুর স্বভাব করো এ দেহের দাহ;
তবে তুমি আলো দেখবে সাত্ত্বিক রবির
তোমার মাঝে হবে নদী প্রবাহ।
বৈরাগ্যরূপ অস্ত্রে করো আসুর নিধন
তবেই পাবে তুমি নাক্ষত্রিক জীবন।


0 Comments