জুয়েল কলিন্দ’র আত্মপরিচয়’ ও অন্যান্য ১০ কবিতা

Poems by Jewel Kalind


অনুরোধ


কি লাভ বলুন মনের কোষে

এতো রাগ, ক্ষোভ অভিমান আর হিংসা পুষে?

একবার দুঃখিত বলারও সময় নাই

যদি এই মুহূর্তে মরে যাই।

 

আমার প্রতি পুষে রাখা সব

রাগ অভিমান ভুলে

আপসোসে অশ্রু গড়াবে

আপনারই চোখ গলে।

 

তাই বেঁচে থাকতে ভালোবাসা দিন

শোধ হয়ে যাক কিংবা থেকে যাক

ভালোবাসার ঋণ।

 

এই ধরুন বেঁচে আছি যদ্দিন

এই ধরায়,

চলুন না ভালোবাসা দিয়ে

ছোট্ট জীবনখানি ভরাই।






ভালোবাসার দাগ

 

হে প্রাক্তন প্রেমিকাগণ!

আপনাদের সন্তানেরা

আমাদের নাম জানবে ইতিহাসে।

পারলে সেদিন যত্ন করে

তাদের মন থেকে

মুছে দিয়েন আমাদের নাম,

যতটা ধুয়ে ফেলেছেন নিজেরা।

 

মনে রাখবেন,

হৃদয়ে আঁকা ভালবাসার দাগ

আজন্ম চিরস্থায়ী।






আত্মপরিচয়

 

পাপ-পুণ্যের হিসাব জানি না

আপন ঈশ্বরের কসম

ভালোবাসি মানুষ।






নিশ্চয়তা


সন্তানের সু-নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়তে

প্রতিনিয়ত নিশ্চিত বর্তমান ধ্বংস করে চলেছে

নির্বোধ পিতারা






প্রেমিক

 

জীবনের দায়ে বনে যাওয়া

গণিকাদের ভালো না বেসে

প্রেমিক হওয়া যায় না পুরুষ!




গাঁয়ের বধু

 

লাউয়ের ডগার মতন সরু তার হাতে

লাল মরিচ আর শুঁটকির ভর্তা

তুলে দেয় পান্তা ভাতে।  

 

হাতে নিয়ে তালের পাখা

দাঁতের ফাঁকে আচল ধরে

শ্যমা মুখখানি আধ-ঢাকা।

 

স্বামীরে সে চেয়ে দেখে

ডাগর ডাগর চোখে

কত কথা জমে রয়

ছোট্ট তার বুকে।

হয় না বলা কত

না বলা কথা

বাপের বাড়ীর স্মৃতিতে

ফাটে বুকের ছাতা।

 

মাঠে ঘাটে ছুটে ফেরা

ছোট্ট সে কিশোরী

এক রাতে কি যাদুতে

হয়ে গেছে নারী।





সুখস্মৃতি

 

জীবনে শিশুকালের চেয়ে প্রিয় বা

আনন্দের কোন স্মৃতি

থাকে না!




একতা


একত্র হলেই শক্তি অসীম

বিচ্ছিন্ন হলেই অস্তিত্বহীন 




জয়-পরাজয়

 

পরাজয়ই শেষ কথা নয়

চূড়ান্ত বিজয়ের পথে আসে

অনেক পরাজয়।






সিগারেট

 

বিবিধ কারাগারের

সর্বাধিক প্রচলিত মুদ্রা।




.........................................................
জুয়েল কলিন্দ
 সম্পাদক


Post a Comment

0 Comments