অনীশ রুহান এর কবিতা

অনীশ রুহান এর কবিতা


ছবি


কুড়েঘরের সেই ছোট্ট দেওয়াল-

একটা ছবি রেখা ঝুলিয়ে,

যত্ন নিচ্ছি প্রত্যেকদিন ছবিতে হাত বুলিয়ে, যেন হয়না মলিন।

ছবিতে কয়েকটা তারকাটা লাগানো

ছবিতে তার সৌন্দর্যের পুরোম্যাপ আঁকানো।


মাথা ভরতি দীঘল কালো কেশ,

হাসি যেন, পৃথিবীর সমস্ত সুখের অংশবিশেষ। 

কপালের মাঝেখানে ছোট্ট একটা টিপ, 

টিপ তো নয়, মন্দির আলোকিত করার সান্ধ্য প্রদীপ।


কানের দুইটা দুল...

দুল নয়, যেন ভালোবাসায় ফোঁটানো বকুল।


নীল শাড়ী, রয়েছে দাড়িয়ে-

আমায় সে ডাকে রোজ দু্হাত বাড়িয়ে।


চোখে যে হাজারো মায়া, 

এই কি তুমি?

না, না এটা তো তোমার মিথ্যা ছায়া!




উপসংহার


ধর্ম নিয়ে মানুষ আজ করছে কতোই হানাহানি,

আমরা তো সবাই মানুষ এটা কয়জনে মানি?


হিন্দুরা করছে পুজা, মুলসলমান পড়ছে নামাজ,

তবুও মানুষে-মানুষে কেন এত দিধা-দন্ড আজ?


মন্দিরে হচ্ছে নিত্যনতুন প্রতিমা ভাংচুর, 

মসজিদেও চুরির খবর আজও রটছে প্রচুর।


বেদ আর কুরআন পড়ে দেখ ভাই, 

দুটোতেই লেখা নেই ‘করো অন্যায়’।

আমরা এক-ই পথে যাই, 

তবু কেন হায়!

পথের মাঝে এত রক্তক্ষয়?


ধর্ম যার যার আনন্দ সবার, একথা বলবো কতবার? 

সবকিছু মিশে যাবে মাটিতে, মাটিই হবে শেষ উপসংহার।




শুন্য সুখ


কবির মনে আজ কবিতা প্রসবের যন্ত্রনা,

মানুষের মানসিকতায় কেন এতোটা ছলোনা?

প্রকৃতি যেন আজ চাইছে ভালোবাসা, 

বলে যাচ্ছে আমাকে আর মাইরো না।


রাস্তার মোড়ে মুচি ‘রাম কাকা’

সে আর কেন আসে না?

কতোদিন হয় সেই বুড়িমাকেও বারান্দায় আসতে দেখিনা।


দিদিটারও জানালা বন্ধ

আশে পাশে কি কোন দুর্গন্ধ?

মাঝিটাও তো গায়না গান,

হলো কি তবে আজ আনন্দের অবসান!


বাগানেও ফোটে নাই ফুল, মধু না পেয়ে মৌমাছি ব্যাকুল।

“জন্ম নেওয়াটাই ছিল ভুল” বলছে, বৃদ্ধ নকুল,


আজকে সত্যি সবার মনে ফুটেছে হয়তো বেদনা মুকুল।




নন্দিত এই নগরে


নন্দিত এই নগরে

নাগরের বেসে রাক্ষস আসে

সুর্দশন চাহনি, কোমল দেহের আলিঙ্গন

রাক্ষস মিলনের মোহে

চার দেওয়ালের মাঝে সুক্ষ্মশরীর রক্তাক্ত অবশেষে।। 


রক্তাক্ত শরীর চোখের জলে পরিপাটি হয়,

আঘাত লুকানো কাপড়ের ভাজ,

ক্ষুধার্থ পরিরারের না বোঝা তফাৎ

প্রত্যেক মুহুর্তের মৃত্যু, অভাব শুধু দুমুঠো মাটি।


Post a Comment

0 Comments