লুৎফা শাহিনের কবিতা

 

Poetry of Lutfa Shaheen


হৃদয়প্রণিতজোছনা ওড়ে মাতামুহুরিজলে


মাছরাঙা স্বচ্ছসকালের জলে ঈশ্বরের আয়নায় ঘুমভাঙা স্বপ্নের সেই স্মৃতিস্নাত দিন

সেই সোনালি-রুপোলিদিন আমাদের শৈশবঘেরা কৈশোরের দুরন্তপনা এবং যৌবনের

জোছনাঘেরা মাছের ফিজিওলজি উল্লাসঘেরা রাত্রিযাপন আর পাহাড়ার ঝিঝি পোঁকার

ভালোবাসার শব্দ জমে আছে স্রোতে জমে আছে প্রমিত অস্তিত্বের জলের মায়াবী প্রেম।

পাখিরা একেঁছে আকাশের মুক্ত তারার সোহাগিরোদ, সোনালিধানের শীষের দোলায়িত

ধূ-ধূ বালুচর,রক্তাক্ত কুয়াশায় ঢাকা দূর্বাঘাসের পাড় নদীর কিনার কিংবা জলের

ঈশ্বরিমিথ। লোকালয়ের সাহসি চোখের কল্পনার রঙের স্রোতে ভেসে যায় আলোর

মেঘবালিকারা। হাজার দুয়ারির ফেলে আসা স্মৃতির বাগানে ময়ূরপঙ্খির মতো নৃত্যের

খেলা করে মাতামুহুরির বালুচর।

ভালোলাগা মুক্ত দখিনা হাওয়ার গোধূলী কাঁপিয়ে পার হই বেলাভূমির বুকে। প্রতীকীবর্ষার

স্রোতধারা চকোরিয়া স্নান দুপুরে অসংগতির জোয়ার। গ্রীষ্মের উত্তপ্ত গরমে

হাহাকারের কান্না। কী রোমান্টিক তোমার দিন বদলের মাতলামি প্রেমে মগ্নতায় বয়ে

চলে জলেরধারা হে আশাময়ী নদী আমার!

মাতামুহুরি আমাদের যৌবনমত্ত প্রাণের চোখে আঁকা অনাদিকালের ইতিহাস। অতপর

মাতামুহুরির পায়ের চাপে জীবন মগ্নতার চোরাবালিতে প্রাণের স্পন্দন বহে যায়

দিগন্তলাগোয়া ধূসরতায়। কতো জনজীবনের সুখ-দুঃখের জলাঞ্জলি প্রিয় বসতবাড়ির

মায়ের স্বর্গীয় ভালোবাসা-অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমির তীরে মাতামুহুরি ছড়িয়ে

আছে প্রিয় চকোরিয়ার অনিন্দ্য জীবন প্রচ্ছদে-




অপেক্ষায় থাকবো না


যেতে চাইলে যাও-

বিবিধইচ্ছের প্রমোদভ্রমণ দেখে এসো লুকোনো ভাসান লোভে,আমি কিচ্ছু মনে

রাখতে চাই না। সমুদ্রের রঙ কেঊ কী ধরতে পেরেছে! এখনো পথের পুরোটাই

বাকি-নির্বিকার জীবন বাতাসে অনিশ্চিত দ্বিধাময় অন্ধকার নিয়ে বেঁচে আছো

বোধের একাকিত্বে। স্পন্দনহীন সেলফোন পড়ে থাকবে মাথার ওপর আমার মাতমবিহিন

আয়ূর আয়নায়-

যেতে চাইলে যাও-

আমি নিষ্ঠুর ভালোবাসার জ্যোৎস্নায় এক থাকবো ! প্রাপ্তির কোনো হিশেব-নিকেশ

করবো না, আসলে এক জীবনে সবটুকু হয় না-অপ্রতিরোধ্য বিশ্বাস যদি বিদীর্ণহৃদয়

না বোঝে, শূন্যতার অগম্যতায় আজ আমি বিস্ময়-স্মম্ভিত বিষণ্ন অনায্য সাহস

নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো একা

যদি বলো- ফিরে যাও,আমি মিথ্যে সুখ কিনবো না কারো কাছে আমার বোধের

বিপরীতে। আমি ফিরতে আসিনি,গ্রহনের মানসে সবাইকে দিতে এসেছি কেবল

মায়া-অম্লান থেকে যাবে এই কালান্তরের হৃদয়খানি আমার নীলাম্বরি খেলাঘরে

চলে যেতে চাও- যাও আমি প্রতীক্ষার চাবি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো না, আপত্তির

কোনো ঢেউ তুলবো না কক্ষনো শুধু এই

স্বপ্নটুকু গোপনে রাখবো তোমাকে আমার অন্তরগহিনে হয়তো একদিন

ভালোবাসা-বুকে অরণ্য-অতলে কুহক শব্দে পাখির হৃদয় ভাঙবে! এখন অনায়াসে চলে যেতে

পারো -

চলে যাবে-যাও

আমার অনিবার্য স্পর্শাতীত আনন্দ-তৃপ্তি মারিয়ে অগণনচোখের ভর্ৎসনায় আমি

সমস্ত শরীরে মেখে গণতন্ত্রের মন নিয়ে বসে থাকবো অপেক্ষা নয় স্মৃতির মলাটে প্রকাশ্য

অর্থময় শ্রাবণে

আমি এই শহরের সর্বনাশা ফুলের মধুদিনে কারো জন্য অপেক্ষায় বসে থাকবো না

অপসৃত রাঙানদীর তীরে!




জীবন এক অপচয় উপসর্গ


বাড়ি থেকে কেউ যায় না-আসলে বাড়িতে কী কেউ থাকে!

কোথায় যাবো আজ? অশ্রুস্নাত ভালোবাসাহীন ঘরে একা থাকি-

প্রতিদিন নিয়ম এবং শব্দচালক মুঠোফোনে স্বাধীনতার মৃত্যু হয়

প্রিয় বিষণ্নতা আর অপাঠ্য অনন্ত পুড়ে দু:খগুলো কারণে-অকারণে

ছায়াশিল্পের মুদ্রণে দলবেঁধে হেঁটে যায় বাতাসের সংসারে

স্বপ্নদৃশ্যায়ানের শুন্যতা পুড়ে পুড়ে জীবনে উপরিপাত কাঁদে-শর্তহীন পিপাসায়

আকাশ কাঁদে, পাহাড় কাঁদে, সাগরও বোধহয় যুক্তিরোগি হয়!

সহগ প্রয়োজন জমা থাকে তরঙ্গে আর চোখের মেঘের বিষফুলে-

আমার অনুভবের হিরামন পাখিরা ঠোঁটে নিয়ে যাবে অব্যক্ত ভাষার বিরহ

একদিন হারিয়ে ফেলা অবজ্ঞার মহাগ্রন্থের সীমাবদ্ধতা রেখে

অসম্ভব ফিরে পাবো কোনো কল্পনার বারান্দায়-অভিভাষণে নয়

বিশ্বাস করো- বাড়ি আমার অসতর্ক ছাদের উপসর্গ!





মুঠোফোনের সর্ম্পক


আজকাল মানুষ মুঠোফোনে বদল হয়-উপলব্ধির ভেতর সর্ম্পকগুলো শব্দমালা-শব্দসোহাগের

সাথে এক হাত থেকে অন্যহাতে চলে যায়। যেনো জীবন কারাগারে বন্দি হয়ে মুখোশের

বাইরে আসতে পারে না- এক মুখোশি সর্ম্পকে আটকে থাকে। আমরা বোধের ষষ্ঠিতে

নিজেকে লুকোতে পারি না-স্বার্থের যতিচিহ্নে যৌবনপাগল হয়ে নিজস্বরোদে পুড়ি

অক্ষরধর্মে। যুগ্মতার অক্ষরধামে চোখের বহ্নিতে লিখে রাখি অলিক ইচ্ছেসমূহ।

মুঠোফোন নির্ভর যাপনে নতুনত্ব মডেল পরির্বতন,পছন্দের তালিকায় হেরে যায় মৌলিক

প্রয়োজন আর মানসিকতা। কোথায় মানুষের বিবেকবোধ কিংবা অনুভূতি! খহর

সম্প্রসারণে হারিয়ে গ্যাছে খেলারমাঠ,শিল্পের ধ্বনি! হায়রে ডিজিটাল সভ্যতা হায়রে

সময়ের অলংকারগুলো কেমন আবহের দোলন-চলনে বোবাঘুমে নক্ষত্রের রাতে চরিত্র বিলিন করে

বেঁচে থাকে কৃত্রিম প্রেমের আঁকা গোলাপে। আমরা বর্ণবিবেচক আমরা

অন্তরভাবনায় স্বপ্নবান বাঙালি স্বয়স্বর হতে পারি-স্পর্শের বিহ্বলে পৃথিবীতে

প্রতিসরণে ঘটাতে পারি! হৃদয়ে হৃদয়ে সন্ধি হবে তথাকথিত ফেইসবুকে নয়-কবিতার

সহস্রমুখে-

জানি-একদিন এই ধ্যানলোকের মুঠোফোনের নষ্ট উদগ্রীব সর্ম্পক ভেঙে লু-ম এর

নয়নে কাব্যযুদ্ধে জয়ী হবে ঈশ্বরি আত্মার ভবিষ্যত স্বররলিপি!


লুৎফা শাহিনের আরও কবিতা

Post a Comment

0 Comments