আমি বাঙালি-আমি ফিলিস্তিনি
আমি বাঙালি-আমি ফিলিস্তিনি!
আমি নিপীড়িত- নিষ্পেষিত-অসহায় মাজলুমের সন্তান_
আমি গাই শান্তির গান!
আমি গাই শান্তির গান........!
এই অশান্ত পৃথিবীর বুকে হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরিত রুপ দেখতে চাই না আর_
শুনতে চাই না আর টেলিভিশনে হিরোশিমা নাগাশিকার মতো বীভৎস সংবাদ_
মনুষ্যত্ববোধের বিশুদ্ধ জলে আয়রন ডোমের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হয়ে যাক চুরমার।
এ অশান্ত পৃথিবীর বুকে ফসফরাস বোমার বিস্ফোরিত রুপ দেখতে চাই আর_
আমি গাই শান্তির গান!
দেখতে চাই না পার্পল লাইন-ম্যাজিনো লাইন-
রাডক্লিফ লাইনের উপর দিয়ে অনবরত রকেট নিক্ষেপন।
আমি বাঙালি- আমি ব্রাজিলিয়ান_
আমি বাঙালি- আমি কানাডিয়ান_
আমি বাঙালি- আমি আফ্রিকান_
আমি বাঙালি- আমি অস্ট্রেলিয়ান_
আমি গাই শান্তির গান!
এই অশান্ত পৃথিবীর বুকে মানুষের বাস্তুচ্যুতির দৃশ্য দেখতে চাই না আর,
শুনতে চাই না পঙ্গুত্ব বরণ করা পঙ্গু মানুষের আকাশভেদী আত্মনাদ_
আমি গাই শান্তির গান!
আমি গাই শান্তির গান_
নিরীহ-নিষ্পাপ জান্নাতি শিশুদের নিদারুণ-করুণ দুচোখের জল দেখতে চাই না আর,
শুনতে চাই না অনাহারী- বার্মিজ বালকের এডিস- ক্ষরিত ক্ষুধার্ত পেটের জ্বালাময়ী আত্মনাদ_
অস্ত্র ব্যবসায়ীর ছিটেফোঁটা এই পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যাক!
শান্তি চাই আমি_ আমি গাই শান্তির গান_ আমি এই পৃথিবীরই সন্তান!
আমি চাই পৃথিবীর বুকে সবাই একটু শান্তিতে ঘুমাক।
আমি বাঙালি-আমি জাপানিজ!
দেখতে চাই না আর টোকিয়োর রাস্তায় চেথিফুলের ছিন্নভিন্ন দেহ_
শুনতে চাই না আর আকাশ-বাতাস ভারী করা সন্তান হারা প্রগাঢ় মমতাময়ী মায়ের আহাজারি_
দেখতে চাই না আর সন্তানের লাশবাহী পিতার জলভেজা করুণ মলিন মুখ_আমি বাঙালী আমি ফিলিস্তিনি।
আমি নিপীড়িত-নিষ্পেষিত অসহায় মাজলুমের সন্তান!
আমি গাই শান্তির গান।
ব্যথা
কথার মধ্যেও থেকে যায় কিছু কথা _
থাকার মধ্যেও থেকে যায় কিছু ব্যথা!
চাইলেই কি ভুলতে পারে মানুষ সে ব্যথা?
দেখি ব্যথায় নুয়ে পড়ে কবুতর যেন বুকে
বিঁধেছে তীর..বাওড়ের তীরে নুয়ে পড়া
শীমের লতায়-পাতাখেকো পোকার দল
করে দেখি ভীড়!
মানুষকে খুব বেশি আপন ভাবতে হয় না_
করতে হয় না মাত্রারিক্ত প্রত্যাশা_
অন্যথায় পেতে হয় ভীষণ ব্যথা!
কথার মধ্যেও থেকে যায় কিছু কথা_
থাকার মধ্যেও থেকে যায় কিছু ব্যথা!
চাইলেই কি ভুলতে পারে মানুষ সে ব্যথা?
মানুষ বাঁচে কর্মে
মাঘের শীতে শিশিরবিন্দুর ঝরে পড়া হয়ে হিম জল__
দুঃস্থ-অনাহারী-অসহায় মানুষের
হৃদয় দেখি করে কষ্টে টলমল !
কুকুর কামড়ালে যেমন কুকুরকে কামড়াতে
হয় না_তেমনি এক মাঘে শীতও যায় না_
মানুষ জেগে জেগে ঘুমায় না_মানুষ মরে
গিয়েই ঘুমায়_তবে কেউ জেগে জেগে
ঘুমায় যদি?
বসন্তের ঝরে পড়া পাতা_ নগ্নদেহী বৃক্ষের
গাছ হয়ে উঠা_শীত ঋতুতে মাঘের 'শীত'
হয়ে ফিরে আসা_চৈত্র মাসে শুকিয়ে যাওয়া নদী_সবই যেন দু'দিনের খেলাঘরবাদী_
নশ্বর ধরণী.....!
মানুষ যেমন বেঁচে থাকে তাঁর কর্মে_
তেমনি মরে যায় জীবিত অবস্থায়_
কর্মের দ্বারা মানুষের অন্তরে।
থেকে যায় প্রশ্ন
যদি স্বার্থান্বেষী মনোভাব মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্য ক্ষুণ্ন করে তবে_যদি দারিদ্রতার চাদরে কেউ নিজেকে খুব অসহায় ভেবে মনে মনে ভীষণ কষ্ট পায় তবে_যদি সমুদ্রে ডুবতে থাকা কোন নাবিকের বেঁচে থাকার আপ্রাণ প্রয়াসময় চিৎকার শুনেও না শোনার ভান করি তবে?
যদি ক্ষুধার্ত পেটের পাকস্থলী ক্ষরিত এসিড অন্তরচক্ষুর উপলব্ধি অযোগ্য হয় তবে_যদি বার্ধক্যে উপনীত হওয়া বৃদ্ধের শিশুসুলভ আচরণে আর একাকীত্বের বিষাদে বিনয়ী না হই তবে?
যদি কারো হদয়ের বেকারত্বের প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের উত্তাপ অনুভব না করে অবজ্ঞার নয়নে তাকায় তবে_যদি মৃত্যুর অনেক আগেই হায়েনার হিংস্র মানুষখেকো-ছোবলে মরে যাওয়া_কোন বোনের মরে যাওয়ার কষ্ট অন্তরে গভীরভাবে অনুভব করতে না পারি তবে?
যদি কোন অনাহারী-অর্ধাহারী পথশিশুর রুক্ষ চুল-মলিন মুখ আর ছেঁড়া পুরোনো পোশাকের গভীরত্ব উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হই তবে_
যদি মাজলুমের নিপীড়িত-নিষ্পেষিত হৃদয় অনুভূতির দরজায় নাড়া না দেয় তবে?
তবে_তবে থেকে যায় প্রশ্ন....!
আমরা কি এখনো মানুষ হতে পেরেছি___
হতে পেরেছি কি মানবতার ফেরিওয়ালা?
ইগো
অনুভূতি থেকেই ইগোর উৎপত্তি,
সকল অনুভূতি-তবে যে ক্ষণস্থায়ী!
আমিত্বের অনুভূতিই দায়ী-চিরসত্যি,
নশ্বর ধরণী ইগো তবে চিরস্থায়ী?
ইগোয়েস্টিক মানুষ বড়ো যেন নিজে,
সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে যায়-যাক তবু-
সকল মনন 'দাবা' প্রধানের দিকে,
চলার পথকে সরল রাখে না কভু।
চিত্তে নিরবে বহে তবে অজ্ঞাত ব্যথা-
বহে আনে যে চিত্তের অজ্ঞাত অসুখ!
জর্জরিত হয়;আমিত্বে কোমল বুক।
অশান্ত চিত্ত কহে তখন আত্মকথা:
ইগো, মানুষের জন্য যে শত্রু স্বরুপ!
মানব জীবনে প্রভাব ফেলে বিরুপ।
নাম: মো. তোফায়েল আহমেদ
বর্তমান ঠিকানা: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার ঢাকা।
স্থায়ী ঠিকানা: কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

0 Comments