আগুন
বসন্তের রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল..! শিমুল তুলার
থোকা থোকা ফুলের মধ্য দিয়ে আনমনা
মনে কাঠবিড়ালী কি যেন খুঁজে বেড়ায়..দেখি
কাক কি এক অবিদিত বিষন্নতায় মরা চোখে
চেয়ে রয়! আমার ভাই-বোনেরা আগুনে পুড়ে
মরে যায়.. দেখি অশান্ত পৃথিবীর বুক শান্ত
করার প্রতিবাদে আটলান্টিকের ওপাশে এক
যুবক আপন গায়ে আগুন লাগায়_পুড়ে মরে
মানুষ জলপাই গাছের মতো করে নগরে নগরে_
পার্থিব মোহাচ্ছন্নে অন্ধ হয়ে নাকবার মতো
ঘটনা ঘটিয়ে পবিত্র ভূমিকে বিষাদের অভয়ারণ্যে
পরিণত করতে চায় হতচ্ছাড়া নরপিশাচ
হিংস্র হায়েনার দল..! হতদরিদ্র দু'চোখে দেখি
আমি পৃথিবীর অশান্ত রুপ_মানুষ সকলের মন
যদি হতো বসন্তের বাগানবিলাসের মতো সুন্দর...!
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদ
রৌদ্রোজ্বল ফ্লাগুনের সকাল,দেখি
পানকৌড়ি অর্ধস্বচ্ছ পানির মধ্যে ডুবে-ডুবে
খাবার খুঁজে বেড়ায়...! পানকৌড়ির দিক
পরিবর্তন ঐসব মানুষের হৃদয়ের মতো
যারা ভালোবেসে আপন করে নিতে পারেনি
আজ পর্যন্ত কাউকে..!
শিশু-কলা-কাঁঠাল-কদম সহ নানাবিধ বৃক্ষ
নিজের রঙে রাঙিয়ে তুলেছে কেমন পানিকে
যেমন করে রাঙিয়ে তুলে মানুষ-মানুষকে
ভীষণ খারাপ সময়ে..যদিও প্রকৃতঅর্থে তাঁদের
অধিকাংশই থাকে না ভালো...! হৃদের ধারে
মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কেমন ব্যথাতুর
ভঙ্গ হৃদয়ের ন্যায় বুকফাটা কলাপাতা...আহা__
যেন কিছু কিছু মানুষের প্রতিবিম্ব হয়ে..!
দেখি ঈষৎ খয়েরি-লাল শাপলা ফুটে আছে...
যেন, আবছা আলোয় প্রিয় মানুষের খোঁপায়
গোঁজা একগুচ্ছ লাল গোলাপ।
প্রেম জেগে উঠে...প্রেম রয়ে যায় সিন্দুকে...!
কি এক বিদিত অথবা অবিদিত কারণে মন
পরিবর্তন হয়ে যায় ঐসব পানকৌড়ির বারবার
দিক পরিবর্তন করার মতো করে....!
অপূর্ণতায়
কিছু কিছু অপূর্ণতায় যদি লুকায়িত থাকে প্রকৃত ভালোবাসার আসল সুখ,
তবে তুমি থেকে যেও খুবই দূর;
দেখবো না আজীবন তোমার মুখ!
অপূর্ণতা শোনাবে প্রকৃত ভালোবাসার আসল সুর।
পূর্ণতা সেতো সবকিছুর সমাপ্তি নির্দেশক-
প্রকৃত ভালোবাসা সেতো চিরন্তন!
তবে প্রকৃত ভালোবাসা শেষ না হয় অপূর্ণতায় হোক_
পূর্ণতার আক্ষেপে থেকে যাক এ অপূর্ণ মন।
শুনেছি....
প্রকৃত ভালোবাসার সুখ নাকি নিহিত নয় সকল পূর্ণতায়!
কিছু কিছু অপূর্ণতায় ও নাকি প্রকৃত ভালোবাসার সুখ নিহিত থাকে।
তাইতো পূর্ণতার মূল্য আমার কাছে খুবই কম!
যদিও তোমাকে হারানোর আক্ষেপে বেরিয়ে যাচ্ছে যেন বারংবার আমার দম_
তবে তোমাকেই ভলোবেসে সুখ নিবো আমি তোমাকে হারানোর অপূর্ণতায়!
এক বাদলের দিনে
যদি কখনো_কোনো এক বাদলের
দিনে- অভিমানী মনে খুব নিরবে
দাঁড়িয়ে থাকি আমি জলের ধারে!
তবে_তবে সে কি আমায় বুঝে
নিবে না বলো ?
বলো_সব কিছু ফেলে রেখে সে
কি খুঁজে নিবে না আমায়?
অভিমান ভাঙিয়ে সে কি আমায়
খুব কাছে টেনে নেবে না?
তখন যদি তাঁকে আমি গন্ধহীন
কাশফুল এনে মাথায় গুঁজে দেই?
তখন_তখন রাখবে না সে?
বলো রাখবে না সে?
আহা_ ঐ গন্ধহীন ফুলেও মিশে
থাকবে আমার প্রণয়!
প্রণয়ের গভীরত্ব মিশে থাকে সকল ফুলে।
ফুল নিও_ প্রিয় ফুল নিও;
আমার সকল অভিমান ভাঙিয়ে!
অভিমান ভাঙিয়ে আমায় কাছে
টেনে নিও খুব! দেইখো আমার মন
যাবে তখন সব প্রণয়ী বিষাদ ভুলে!
হিমাদ্রি
হিমাদ্রি তুমি ময়না পাখির মতো করে কেনো
আসো না আমার জীবনে..? এ জীবন আমার_
এ জীবন তোমার_এ জীবন ময়নার...!
তুমি ময়না পাখির মতো করে কেনো কাছে
আসো না_কেনো পাশে বসো না_কেনো
ভালোবাসো না......?
পাখির মতো করে আমার কথায় কথা বলবে_
আমার কথায় চলবে_আমাকে নিয়ে হাঁটবে
বসন্তের ভোরে..ফজরের পরে...ঘুরে বেড়াবে
'বৈশাখ' মাসের শীতল হাওয়ায়
রাতের আঁধারে..!
পূর্ণিমার চাঁদ কেমন হাঁসে_সবাই হাঁসে..!
তুমি কেনো হাসো না...তুমি কেনো
আসো না আমার জীবনে...!
তুমি হাসলে হেঁসে উঠবে বাওড়_হেসে উঠবে নদ!
তুমি হাঁসবে_তুমি হাঁসবে শাপলার মতো করে...
তুমি হাঁসবে
প্রবাহমান পাহাড়ি ঝর্ণাধারার মতো করে...
জোনাকির আলোয় নির্জনে বসে তোমাকে
নিয়ে কবিতা লেখা রয়েছে এখনো বাকি..!
কলমি ডগার মতো করে অথবা পুইশাকের
ডগার মতো করে পরিস্ফুট উজ্জ্বল মুখে
তুমি এখনো আমার নয়নে তাকাওনি...!
তুমি আসবে বলে 'আবেগ সমুদ্র' নিয়ে
চাতকের চেয়েও অধিক চাহনিতে থাকি
কেমন চেয়ে আমি........!

0 Comments