বই : সূর্যগ্রহণের পাশে [ফিলিস্তিনের কবিতা]
ভাষান্তর : মামুন মুস্তাফা
ধরন : অনূদিত কাব্য
প্রচ্ছদ : চন্দন চৌধুরী
প্রকাশক : লেখমালা
মূল্য : ১৬৫ টাকা
সংগ্রহ করা যাবে : বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের লেখমালার ১৪৭ নম্বর স্টল থেকে
বই সম্পর্কে অভিব্যক্তি
প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন, বিশ^রাজনীতির এক তালগোল পাকানো অস্বস্তিকর জনপদ। যার সূত্রপাত দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধোত্তর ১৯৪৮-এর সময় থেকে। আর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নীরব সমর্থনে ইসরায়েলেরা দফায় দফায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে নির্যাতন, হত্যা ও ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের মাধ্যমে শান্ত সবুজ দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, প্রতিটি মুহূর্তে বৃদ্ধি করে চলেছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংখ্যা। সাম্প্রতিক সময়ে বিগত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি নিধনযজ্ঞ ইতিহাসখ্যাত অতীতের সকল গণহত্যাকেও হার মানিয়েছে।
প্রতিনিয়ত এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি সাহিত্য বিশেষভাবে কবিতা বিশ^ব্যাপী গণমানুষের কাছে সমীহ তৈরি করেছে। একটি জাতির বহু বছর ধরে চলে আসা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি সবুজঘেরা শান্ত একটি জনপদের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা শূলব্যথা, যন্ত্রণা, কষ্ট ও কান্নার নিনাদ শুনতে পাওয়া যায় এ অঞ্চলের কবি-সাহিত্যিকদের কলমে। এঁদের কবিতা প্রমাণ করে ফিলিস্তিনের কবিতা মানে প্রতিদিন বারুদের ঝাঁঝ, ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও সংগ্রাম, অবিরাম রক্তক্ষরণ ও বিক্ষুব্ধ মনের ঝড়তোলা প্রতিবাদের এক দীর্ঘ নকশিকাঁথা। বইটিতে মোট ১০জন ফিলিস্তিনি কবির পরিচিতিসহ তাঁদের কবিতাগুলোর অনুবাদ নয় বরং বলা যায়, মানবিক ভাষান্তর ঘটেছে বাংলাদেশের নব্বই দশকের স্বতন্ত্র কবিকণ্ঠ মামুন মুস্তাফার কলমে।
পাণ্ডুলিপির অংশ [৩জন কবির ৩টি কবিতা দেয়া হলো]
মুরিদ বারঘৌতি-এর কবিতা
ভাষ্য
একজন কবি কফিশপে বসে লিখছেন।
একজন বয়সি মহিলা মনে করছেন
সে তার মাকে চিঠি লিখছে,
যুবতী ভাবে
সে তার বান্ধবীকে চিঠি লিখছে,
শিশুটি মনে করে, সে ছবি আঁকছে,
একজন ব্যবসায়ীর চিন্তা
সে একটি চুক্তির বিষয়ে ভাবছে,
পর্যটক মনে করেন
সে একটি পোস্টকার্ড লিখছে,
আর চাকরিজীবীর ভাবনা
সে তার ঋণের হিশাব কষছে,
অথচ গোয়েন্দা পুলিশ
ধীর পায়ে তার দিকেই এগুচ্ছে।
নাজওয়ান দারবিশ-এর কবিতা
আমি আমার দেশের রচয়িতা
আমি রচনা করি আমার ভূমি,
আমি শব্দ চাই
নিজেই হতে চাই একখণ্ড জমিন।
কিন্তু আমি রোমানদের খোদাই করা একটি মূর্তি মাত্র
অথচ আরবরা তা ভুলে গেছে।
ঔপনিবেশিকগণ আমার কাটা হাত চুরি করেছে
আর তারা এটি একটি যাদুঘরে আটকে রেখেছিল।
কোনো ব্যাপার না। আমি এখনও নির্মাণ করতে চাই-
একখণ্ড জমিন, আমার স্বদেশ।
এখন সর্বত্র আমার কথা ছড়িয়ে পড়ে
তবুও নীরবতাই আমার গল্প।
মায়া আবু আল-হায়াত-এর কবিতা
দিবাস্বপ্ন
আমি এমন একটি আনন্দের কথা লিখবো
যা জেনিনকে ছয় দিক থেকে আক্রমণ করে।
আমারি ক্যাম্পে শিশুদের বেলুন হাতে ছুটোছুটির কথা,
ওই আবেগমথিত বিষয়ে যা আস্কারে
সারারাত ধরে স্তন পানরত শিশুদের শান্ত করেছিল;
সামান্য সমুদ্রের কাছাকাছি-
তুলকারেমে আমরা যার উপর ও নিচ দিয়ে হাঁটতে পারি,
বালাতায় মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখ সম্পর্কে,
কালান্দিয়ার চেকপয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের জন্য
একজন মহিলার নাচ সম্বন্ধে,
আজাউনে হাস্যরত পুরুষদের শরীরজুড়ে যন্ত্রণা নিয়ে;
এবং তোমার আমার বিষয়ে-
আমাদের পকেটভর্তি সমুদ্র-শেল ও পাগলামি
আর একটি শহর নির্মাণ প্রসঙ্গে।
![মামুন মুস্তাফা’র নতুন বই~ সূর্যগ্রহণের পাশে [ফিলিস্তিনের কবিতা] Mamun Mustafa Translated Poem ~ [Palestinian Poems]](https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiCMpNnVqW7dSmLzEDAduqdYbHvdexsHKDSua3wliT-3HQFfkYMkmTWbRi_w-w1-c6BOxmceg7ddmYvlWcLVeNHCNXMHhrvh0T48rkiRKUQTKZATQmrspaCioEfaLZDA87RGdB_PMs4B-KQohI-Nk3OdSgVGMX_-xqXWsS4vqtLIaSId9UlHkkhI7tUWKjM/s16000/mamun%20mustofa1.jpg)
0 Comments