জখমগুচ্ছ
যে জখমের পা নেই, হাত নেই, তাকে
দেখাও যায়না। মূলত জখমেরও শরীর
থাকা চাই; বিশেষতঃ হাত-পা
হাত পা থাকলে সারা শরীর ঘুরে ঘুরে
আস্ত তুলে আনতাম দুঃখবীজ
শরীরের শাখে শাখে, মননে, মস্তিস্কে
পাঁজরের কোণায় কোণায়
চোখের কোটরে বসত করা যত ঘা
অথবা সিথানে পরিত্যাক্ত ভেজা বালিশের ঘ্রাণ
আস্ত তুলে আনতাম-
যদি জখমেরও শরীর বলে কিছু থাকতো
হৃদয় খুঁড়ে খুঁড়ে আয়না বসিয়ে
ঝকঝকে আলোয় খুঁজে আনতাম বেদনার মীন
ওহে বেদনার মীন-ওহে জখম মাছ!
রগে রগে,পেশিগুল্মে থেকে একটু বাইরে এসে
একবার করে ঘুরে যে’ও- প্রতিদিন প্রতিরাতে
দেখবে কিছু বেদনা-
দুঃখ হয়ে সমুদ্র এসে মিশে গ্যাছে
সমুদ্র মিশে গ্যাছে বাঁ চোখের গর্তে-
চোখের ভেতর রুই কাতলার জটলা
চারদিকে আমার অথৈ জখম,হরেক রকম
আয়ু
ক্রমাগত বেলুনের আয়ু খেয়ে যাচ্ছে বাতাস
বাতাস নিয়ে খেলছে বেলুন-
খেলতে খেলতে
উড়তে উড়তে
সোনামুখীদের বৈঠকি বারান্দায়
পড়ে গেলো নেতিয়ে যাওয়া সেই বেলুন
বেলুনের আয়ু বাতাসের হাতে-
চরকি ফেলে ধরে রাখছে কয়েকদিন-দু চার ঘন্টা
অতঃপর ঝরে যাচ্ছে বেলুনের ব্যাক্তিগত ইতি
ভিনদেশি হাওয়া এবং একটি বটগাছ
বটগাছের ছায়ায় জড়ো হতে থাকে কর্পোরেট হাওয়া
অতঃপর নির্মল নিঃশ্বাস-তারপর অক্সিজেন
নিঃশ্বাসের ভেতর অক্সিজেন
অক্সিজেনের ভেতরে মানুষ
আমরা বেঁচে আছি ঐতিহ্যের অক্সিজেন খেয়ে খেয়ে
হাওয়াগুলো ভিনদেশি-
হাঁটতে হাঁটতে এসে এদেশের নাগরিক হলো একদিন
চুল উড়োতে উড়োতে এসে বন্ধু হলো-‘মন খুলে কথা কই’
বট গাছের ছায়া ঘিরে প্রাচীন ইতিহাস
এখানে হৃদয় খুললে প্রেমে মজতে হয়
পাখিরা তাই হৃদয় খুলে বসে থাকে
পথের ধারে সবুজেরা ব্রা খুলে ডাকে ‘আয় আয়’
ভিনদেশি হাওয়ারা আসে
ভিনদেশি হাওয়ারা এভাবে দেশে এসে মিশে গেলো মানুষের সাথে,
গাছেদের সাথে- গড়ে তুললো গাছদের সোসাইটি
আমাদের চৌধুরানী পুকুরের বটগাছ
এই বটগাছটা জীবিতই থাকে-মরেনা
যাদুময়তায় ঘেরা
গাছের পাতায় পাতায় ভূত পেতনী
শেকড় বাকড়ের ঝুল ঝুলান্তর
আগুন্তক হাওয়া এসে চুল এলিয়ে বসে পড়লো এখানে
আঁচল বিছিয়ে মেঘ আর আকাশ ধরে আছে
বটগাছটা ঠায় দাঁড়িয়ে চেখে যাচ্ছে ঐতিহ্যের হাওয়া
বিপিনের স্বপ্ন
ইলশেগুড়ি বৃষ্টির ভেতর কবে যে নেতিয়ে পড়েছে বিপিনের পাকা ধান। সেদিন
গেরামের দখিন পাথারে যেতেই দেখি পাটি সাপ্টার মতোন পড়ে আছে ঘরমুখো
হলদে ধান। বিপিন কাঁদে-
মোড়ের ল্যম্পপোস্টের নিকটে ঝিরিঝিরি আলোয় প্রতি সন্ধ্যায় বিপিন দাঁড়ালে
কি অদ্ভূত হতাশাচূর্ণ নিঃশ্বাস ওড়ে। বিড়ি টানতে টানতে ঈশ্বরের দিকে
ধূঁয়ো উড়ে দেয় ‘আবাদ পাতি আর করুমনা’- বলে বিপিন
ময়লাযুক্ত গেঞ্জির ভেতর থেকে পাকা ধানের আব্রু বিছিয়ে শুতে যায়। ঘুম নেই-
নিঃশ্বাস বড় বড় । ঘুমচোরা চোখ নিয়ে বিপিনেরা মরেও বেঁচে থাকে। স্বপ্নে
স্বপ্নে জমির আইল ঘুরে আসে-ধান আর আসেনা ঘরে
‘জখমগুচ্ছ’
প্রকাশকঃ অনুপ্রাণন প্রকাশন,ঢাকা
প্রচ্ছদঃ আইয়ুব আল আমিন
উৎসর্গঃ কবি সোহরাব পাশা’কে
মুল্য ২৪০/-
বইটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ এ
অনুপ্রাণন এর ৮৫ ও ৮৬ নম্বর স্টলে

0 Comments