এনামুল মীর এর কবিতা

Enamul Mir's poem


প্রেমহীন ভালোবাসা 


মখমলে রাত্রি শেষে পানকৌড়ির ঠোঁটে ভর করে সূর্য ওঠে 
চৈত্রের শেষ পোড়া মৃত্তিকায় প্রথম বৃষ্টির ঘ্রাণ, 
হৃদয়ের মরু বেলাভূমিতে উর্বরতায় ফিরে পায় যেনো প্রাণ।

সোনা রোদ্দুর বিকেলে,কখনো বা রাত্রি নিশিথে কিংবা
সোনালী ভোরে বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে এক মুঠো সুখ দাবি ছিলো খুব আমার 
আর এক ফালি জোসনাতে চেয়েছিলাম উৎসুখ।

মোহনিয় রূপের শিহরণে 
প্রিয় মুখ,চেনা কন্ঠ,প্রিয় কিছু শব্দের অপেক্ষায় ভোর হয় খুব সহজেই!
বুকের ভেতর জমে থাকা আবেগ দিয়ে কখনো ছুঁয়ে দ্যাখা হয়নি সিক্ত,উষ্ণ অধর!
অথচ ঘাসের শরীরে জমা থাকা শিশিরের আয়ু হয় আমাকে ঘিরে

আমার চারপাশের দিন-রাত্রি ধণাত্নকের শেষ শূন্যে!
ঋণাত্মকের গুণ ফলের মতো আজ আমি নষ্ট থেকে আরো নষ্টতর!
আমার বুক ফুড়ে চিতায় সাজানো ঘৃত চন্দনে জ্বলে চিতাগ্নি!





কুয়াশার আবরণে 


ওমহীন নিঃশ্বাসে কাঁপে রাতের শরীরে সমস্ত প্রাণ,
কুয়াশার আবরণে ইচ্ছের পূর্ণতা হারিয়ে,ফসলের মাঠে তবু খুঁজে ফেরা সরষের ঘ্রাণ।

হিমঘরে কেঁপে যায়  প্রেয়সীর হাসি রুক্ষ গোলাপী ঠোঁটে 
লাল সূর্যের অপেক্ষায় থেকে থেকে বিষাদগুলো ভোর হয়ে আসে খুব সহজেই!

চেনাজানা পথ যেনো  অচেনা এক তুষার নগর 
সবুজ পাতার সমস্ত বিষাদের কান্না ঝরে পড়ে শিশিরের ঘাম হয়ে 
ঘোলাটে দর্পণে দেখা প্রতিবিম্ব যেনো পাথরে মুখ!
সামান্য দুপুর চলে রোদ্দুরের প্রশান্তি প্রেমে উন্মুখ।

উত্তুরের হাওয়ায় সুখগুলো যেনো  ফেরারী হয়ে কাঁপে  
তবু গোধূলিতে চলে সরষের হলুদের ধুম,
হিমরাতে জেগে থাকে ঘাসের শরীর আর ওমহীন নিঃশ্বাসে ভাঙে প্রেয়সীর ঘুম।

Post a Comment

0 Comments