শিশির আজম এর গুচ্ছ কবিতা

 

Bunch of Poems by Shishir Azam




তুষারাচ্ছন্ন প্যারিতে তসলিমা নাসরিন


পারিতে এখন তুষার পড়ছে

তুষার আর দালির গোঁফ

এরা

কীভাবে টিকে আছে পরষ্পর সহ্য করে

আজও

হ্যা

সূর্য আর চাঁদ পালা করে

প্যারিকে পাহারা দেয়

 

আর

পুবের এক দেশে মানুষ ঘুমোয় না

পাখির রক্ত

কুকুরের রক্ত

মানুষের রক্ত

জ্বলে

গনগনে অন্ধকারে

 

 

 

 

হুল

 

এই কাহিনীর নায়ক আমি নায়িকা আমার স্ত্রী

মাথার ওপর সান এ্যান্ড শেড ফ্যানটাসি কিংডম

মাথার ভেতর চন্দ্রবোড়া বিষবাগান

সে

মৌমাছির হুল খাওয়া এক দ্রাবিড়কন্যা

কবিতা পড়ে না

খবরের কাগজ পড়ে দুগ্ধজাতীয় শিশুখাদ্য প্রস্তুৎকারক বহুজাতিক

কোম্পানির রঙিন বিজ্ঞাপনসমেত

কালো অবিবাহিত ঘোড়াদের আমার পেছনে লেলিয়ে দেয়

আউশ আমন ধানে কম্যুনিস্ট ক্যানভাসে

তার আর তাদের কি দাবড়ানি কি অসংগম লাইলিমজনু মাইন বিষ্ফারণ

হতে পারলাম না খাঁটি মধু খাঁটি পরমহংসদের

নেই হোমোইরোটোফোবিয়া

অথবা পরম সত্য বলে যা কিছু একটা আছে বলে ভাবো

ও বস্তুটা আমার ভেতর কক্ষুনো গজায়নি

আমি টের পাইনি অবিস্ফোরিত গ্যালাক্স্রির ইন্দ্রিয়ময়তা

আর বিছানায় ব্যাকরণসম্মত ঢাকঢাক গুড়গুড়

আমার ধাতে নেই

যা হোক সভ্যতাসংস্কৃতি বলতে তোমরা যা বোঝাও তার কুলদিশা

তোমরাই জানো হয়তো দেখেছো রেফ্রিজারেটরে মেয়েদের ক্যাকটাস

হেলিপ্যাড বানাইনি বৃষ্টিতে ভাটিকানের উইন্ডস্ক্রিন

খচমচ করে উঠলো আর কি আশ্চর্য দেখো আমাদের বিপ্লবী ক্ষুদিরাম

টিভি সিরিয়ালের মুচমুচে চিপস

এখন আমরা ঢুকে পড়বো আমাদের জিনেটিক গ্রান্ড ক্যানিয়নে

আমাদের অখ্রিস্টিয়ো বোবা শুয়োরটা নিয়ে

আমি

       আদম

আমার স্ত্রী

       হাওয়া

 

 

 

 

 

কাফকা

 

কেউ একজন বলেছিল কাফকা হলো এক ধরণের গুবরেপোকা

আচ্ছা

আমরা তো গুবরেপোকাদের সঙ্গেই থাকি আর ওদের বমির ওপর

নৌকা বানায়

তাহলে এইসব গুবরেপোকার ভেতর কেউ কেউ তো রয়েছে

যারা কাফকা

যারা আমাদের চিন্তা দুঃখ আর আসবাবপত্রের ভেতর

ঢুকে পড়েছে

কোন প্রতিশ্রুতি বা সংকেত ছাড়াই

এখন ভাবা দরকার এই কাফকাদের নিয়ে আমরা কী করবো

এদের তো আবার ডানা নেই

তাই শুঁড় দিয়ে হেঁটে এরা মানুষের কাছে পৌছে যায়

মানুষ টের পায় না

 

 

 

 

 

চারু

 

যদি আমি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে চাই এই বিষাক্ত ইলেকট্রিকের আলোয়

তাহলে আমাকে এ-ব্যাপারে নিঃসংশয় হতে হবে

যে রবি ঠাকুরের চারুলতা না নকশালবাড়ির চারু মজুমদার

কাকে আমি বেশি অনুভব করি

অনুভব করছি

এখন

আপনারা তো চারুকে চেনেন

চারুলতা

ওর দেখাটাকে চারু মজুমদারের দেখার সঙ্গে

কিভাবে আমরা গুলিয়ে ফেলছি

তা গুলিয়ে ফেললামই বা

গুলিয়ে ফেলা মানে কি ভুল করা

ভুল করা আর যাবো যাবো করে পায়রাবন্দে না গিযে আর্টিকেল লেখা

আর রেশমগুটির ভিতর বেড়ে ওঠা মারাত্মক মথ

আর্ট জাংগল

ভুল কে করেনি

চারুলতা

চারু মজুমদার

এরা তো ভুলের সমাহার

আর সেই ভুলগুলো এরা এমনভাবে চারিয়ে দিয়েছে আমাদের ভেতর

যে আমরা অস্বস্তিতে পড়ে গেছি

আর সন্দেহ করছি নিজেদেরকে

আর আগুন খুঁজছি

আগুন

নিজেদের ভেতর

হ্যা এ-ব্যাপারে তো আমরা দ্বিধাহীন যে এরা আগুন রেখে গেছে

আমাদের ভেতর কোথাও

 

 

 

 

 

সুরাইয়া

 

রাতে আমার ঘুম আসছিল না সুরাইয়া গায়ছিল

ও নাচেও

কেন নাচো তুমি জিগ্যেস করেছিলাম ওকে

তোমার তো নাচবার দরকার নেই

তুমি গাও

হ্যা অভিনয়টা তুমি ভাল পারো

কিন্তু তোমার তো অভিনয়ের দরকার নেই

নেই

সত্যি সত্যি তুমি অভিনয় করো এটা দয়া করে আমাকে

বিশ্বাস করতে বলো না

 

 

 

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

 

শিশির আজম

জন্ম : ২৭ অক্টোবর, ১৯৭৮

mail : shishir01978@gmail.com


কাব্যগ্রন্থসমূহ:

ছাই (২০০৫), দেয়ালে লেখা কবিতা (২০০৮), রাস্তার জোনাকি (২০১৩), ইবলিস (২০১৭), চুপ (২০১৭), মারাঠা মুনমুন আগরবাতি (২০১৮), মাতাহারি (২০২০), টি পোয়েট্রি (২০২০), সরকারি কবিতা (২০২১), হংকঙের মেয়েরা (২০২২), বিষ (২০২৩)

 

সম্পাদিত ছোটকাগজ: শিকড়  (৫ টি সংখ্যা প্রকাশিত), সম্পাদিত কবিতার 

ভাঁজকাগজ: বাংলা (৩ টি সংখ্যা প্রকাশিত)

 

 

Post a Comment

0 Comments