বগি
শহরের বুক চিরে ছুটছে লোহার বগি
কেটে কেটে যাচ্ছে সিসা-পারতের গায়;
রেখে যাচ্ছে--হাজার হৃদয়ের ক্ষত!
চাঁদের গায়ে কে যে কেটে দিয়ে গেলো
আজন্ম অভিশাপ চিহ্ন!
কেন তবুও চাঁদ এতো জোছনা বিলায় ?
মেশিন
একটা গোলাবারুদের ঘরে শান্ত-শান্তির বার্তা
লুকিয়ে থাকে নিশ্চুপ
হঠাৎ একটা অশান্ত কার্তুজের মেশিন ডুকে যায়
ফেরারী আঘাত!
এলোমেলো করে দিয়ে গোলাঘর লুটে নেয় সব।
যতবার
যতবারই তোমার কাছে গেছি
হারিয়েছি অস্তিত্ব, বৈভব!
আমি আর নিজেকে খুঁজে পাই না।
সুগন্ধি ছড়ানো!
কি এক জাদুকরী বিদ্যা তোমার
এখন কূল যায় প্রাণ যায় আমার।
ঘোড়া ঘোড়া খেলা
খয়েরি রঙের ঘোড়া! তীব্র চাহনি
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ওঠে ---তার নিশ্বাসের ঢেউ
চড়ে বসতেই দেয় ছুট; দিক দিগন্তের অনন্তে
আহা কী দারুণ সুখ!
ধার
একটা শুক্রবার ধার দিও
চেটে চুষে খেয়ে দেখবো
স্বাদ এখনও নোনতা আছে না পানসে হয়ে গেছে?
আমার তৃষ্ণা আর
ঠোঁটে বরাবর লবণ লবণ লোভ ।
যাত্রা
বখতিয়ার একদিন সগৌরবে জানতে চাইবেন
আপনি কিছু ভাবলেন আমার রাজদণ্ড নিয়ে?
আমি ভেবেছি অনন্ত--- রাজার ঘোড়-দৌঁড়!
চৌরাস্তায় দারোয়ান সটান-মনে ভীতি অকারণ
আহা- ঐ পাড়ে পারি দেবো নদী
কিসের এতো ভীতি?
দারোয়ান ধরলেই বিপদ - জেল জরিমানা,
ঐতো চোখ রাঙানো প্রহরি
আবদার মানে না।
রাজার কি কি আবদার ছিলো?
প্রেম পুষ্পের বুকের সেল্
খসে পড়ে
প্রহরি নিঠুর দারুণ!
পাড়ে ঢেউ খেলে মনে জোয়ার
আহা ঢেউয়ের বুকে ছুরি চালায় কেউ;
মাঝি নাও বাও মাঝি আমারে নিয়া যাও
ঐ পারে সবুজ রঙের ঘোড়া মাঝি!
বুকে পেতেছে ঘর মাঝি, সঙ্গে যেতে রাজি।
পাতা
কাঁঠাল পাতার গায় বাতাস ছুঁয়ে যায়
আমি ছুঁতে চাইলেই বুক উলটে পিঠ দেখায়
বাতাস যদি নাই বইতো পাতার গাও ঘেঁষে
আমারও বুঝি ভাগ্য ফিরতো আপন দিনের শেষে
এমন পোড়া কপাল বুঝি শত্রুরও নাই
আশার আশ্রয়ে তবুও তাকেই ছুঁতে চাই।
দাঁড়টান
একরাজ্যের গল্প পয়ার নিয়ে তোমার মুখে -
অপলক চেয়ে থাকি!
ঠোঁট বিলাস নিতে তুমি তুমি করে খুব
বয়ে চলছে বুকের দাঁড়টান
অথচ তুমি শুধু পাষান হয়ে থাকো।
তোমাকে প্রতি মুহূর্তে শব্দ কথা দিয়ে বাঁধছি
ঘোর নিয়ে সুর মূর্ছনায় হৃদস্পন্দন
মাদল বাজিয়ে তোমার সঙ্গীতে মাতি
মাঘ চিত্র
১.
স্মৃতির চৌকাঠে গোলাপী ঠোঁট যদি তোমাকে
ছুঁয়ে ফেলি
বিস্মৃতি অন্ধশীত ছুটে আসে সর্ষে বন বাঁশতলা মাড়িয়ে
হরিণ পায়ে- জোনাকির পিঠে
পাহাড়ি হিম, নির্জীব মৌনতা
শতশত কামনা বাসনা
সমস্ত হলদে ফুল শীতার্ত,
উষ্ণতায় আড়মোড়া দিতে চায়
তুমি শীতঘুমে বুনট স্মৃতি মাখো শরীরে
আর নিভৃতে চন্দ্রমল্লিকা ফুটে আমার বুকে।
২.
হৃদয় পুড়ছে
একশীত শূন্যতা আঁকড়ে চলছে জীবন
মেঘ ঘোলা আকাশে তখন পূর্ণ চাঁদ
শীত রাত জেগে - পৌষের চাঁদ শুধু জানে
তুমি একটা পরপুরুষ!

0 Comments