আকলিমা আঁখি’র কবিতা

 

Akalima Ankhi's poem



শরৎ:সাদা কাফনমোড়া নীলরত্ন

 

সমতলের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠের উপর সীমাহীন এক নীল আকাশ ঝুলা।

পাহাড়চূড়া ঠায় দাঁড়িয়ে মাথায় নিয়ে সাদা বরফ চাই মেঘের ভেলা।   

গহীন অরণ্যে থৈ থৈ অন্ধকার ধুয়ে মুষলধারে

বৃষ্টি নামে ভরা ভাদ্রে।   

আশ্বিনের নদীরা কাশফুলের শাড়ি পরে দেয় জ্যোস্না ভাসান মহানন্দে। 

ঢেউ ঢেউ নীলকষ্ট বুকে আছড়ে পড়ে সমুদ্র  শোক পিয়াসীর ভ্রমণপায়ে।  

শরতের শিউলিফুলের সুবাস বুকে দূরআলাপে

কুলবধূ আছে রাত পাহারায়।

শরতের পদ্মবিলে দেয় হানা দস্যু যত নবীন প্রেমিক জলবোড়ার ডর ভুলে।

টোডা আসমান-ফাডা জমিনের কান্নাঝরে কৃষকের উঠোনজুড়ে সদলবলে।

 

আহা!শরৎ আমার:সাদা কাফনমোড়া নীলরত্ন;

লাল গোধূলীর রংধনু,সাদা জ্যোস্নাপোড়া 

ঝলসানো চাঁদ।             

 

 

 

এ মেঠোপথ আমার স্বর্গদ্বার

 

এ মেঠোপথ আমার স্বর্গদ্বার –

পায়েরা হাঁটে ছায়ায় মায়ায়;প্রজন্মান্তরের চিহ্ন এঁকে স্পর্শমাখা ধুলোর গায় কাদা পায়–

যে পথে ঝরে পড়ে আমের বোল, পলাশফুল;মচমচে ভাঙে শুকনো পাতা;পাকা আম-কাঁঠালের মাতাল হাওয়া উপচে পড়ে সে পথের নাকে,

পাকা জামের মধুর রসে রঙিন ঠোঁটের বুলবুলিরা কলহাস্যে খায় লুটোপুটি এ পথের বাঁকে;নগ্নপায়ে মার্বেল চলে, ভনভনিয়ে লাটিম ঘুরে, বাজে তালপাতার বাঁশি থেকে ভুভুজেলা;কিশোরপায়ে ফুটবল দৌড়ায় নয়তো চলে ক্রিকেট খেলা–

ঐতো বেজে উঠলো দূরন্ত কোন কিশোরীর সাইকেল বেল!উদোম গায়ে কৃষকেরা খায় দক্ষিণা বাতাস আমগাছের ছায়ায় বসে বিতর্কসভা,গালাগালি, কুৎসাজিকির;তরুণেরা বন্ধুত্বের পাঠ শিখে জ্যোস্নাবিহার নয়তো জোনাকজ্বলা নক্ষত্র রাতে এই মেঠোপথেই–

এ পথের গায়ে লেপ্টে থাকে পড়শি গাঁয়ের দস্যি ছেলের উঁকিঝুঁকি হৃদয় ভাঙা ত্রস্তপায়ের ভয় কুড়ানি –

যে মেঠোপথের উদাস বুকের পাঁজর ভাঙে শুনে ষোড়শীর গোলাপ গালের নূপুরপরা আলতাপায়ের রিনিঝিনি ;কখনো ধুলোয় উড়ে সুখ মিছিলের আনন্দধ্বনি;আবার এ পথের বুকেই আঁচড় কাটে মাটির কান্না কত শত শোক মিছিলের পদভারে–

লৌকিকতার অমোঘ তাড়নে এ শিশু আত্নার তৃষিত পায়ের অপেক্ষাতে যে মেঠোপথ আগলে রাখে আমার মাটির স্বর্গে ফেরার আকুলতা। 

 

 

মাথামোটা দৈত্য 

 

মাথামোটা দৈত্যটি চিৎকার করে ঘোষণা দিলো -

সে-ই সমূহ শক্তি ও সৌন্দর্যের আধার-

হিমালয়ের ভাই,

আফ্রোদিতির প্রেমিক!

পর্বতের চূড়ায় সূর্যের আলোয় জ্বলতে থাকা বরফ খণ্ডকে তার সাফল্যের তাজ বানালো-

মহাসমুদ্রের পানি যে নীল

তার চোখই তা দেখতো!

কালো মেঘখণ্ড মোঠুয় পুরে গিলতো 

পৃথিবীর অন্ধকার তাড়াতে-

কেবল বাতাস তাকে নাড়িয়ে দিতো,কাঁপিয়ে তুলতো 

সময় সময়-অটল অ্যাকনকাগুয়ার শরীরে ঘামতো আর হাসতো দাঁত কেলিয়ে-ছোটখাট ভূমিকম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়লেও তড়িৎ গতিতে উঠে গায়ের ধূলি ঝাড়তো

যেন কিছুই হয়নি-

একদিন বেহুলা-লক্ষিন্দরের সাপ কুটুস করে কামড়ে দিলে ভূপতিত মস্তকে মুগ্ধ নয়নে প্রত্যক্ষ করলো-

শিশির বিন্দুতে সূর্য বন্দি!

 

 

 

 

 

 

Post a Comment

0 Comments