হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা

 

Two poems by Harit Banerjee




কোলাহল পার হয়ে 

 

কোলাহল পার হয়ে নদীর সকালের স্রোত ধরে 

যেখানে এসে দাঁড়িয়েছি পৃথিবীর বেশ কিছু সম্পর্ক 

এখানে অনেকখানি গভীরতা পেয়ে 

বেশকিছু বছর ধরে ঘরকন্না চালিয়ে আসছে 

তবুও কুয়াশাজড়ানো ভোরের আস্তরণ এতটাই সংক্ষিপ্ত 

মাটির চারপাশ খুব ভিজে নয় বললেই চলে 

 

একটাই বর্ষার ছড়া এতবার করে পড়ানো হচ্ছে 

মেঘের ঘরের সব জল গেছে শুকিয়ে 

যাবতীয় একঘেয়েমিতা আর বিরক্তির রঙ 

এতটাই কালো যে কোনো সুর উঠছে না 

গতি যেহেতু একমুখী 

ভেজা মাটির গন্ধে বিভোর বেশ কিছু চকচকে চোখ 

শুকনো হাওয়ায় বেসুরো পথে ঘরকন্না তুলে ফেলছে 

 

আমাদের পড়ানো হয়েছে সেইসব দুপুর 

যা অভ্যাসের অঙ্কের মতো বেশকিছু সহজ সংলাপ

অথচ সব আলো যখন কৌটোর মুড়ির মতো 

ছড়িয়ে গেছে  সারা বাড়ি জুড়ে এবং 

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে 

                                       আলার যাবতীয় উৎসপথ

তখনও কুয়াশার আস্তরণ নিয়ে ভীষণই মগ্ন মাথা 

আউড়ে যাচ্ছে একঘেয়ে শুকনো হাওয়ার রুক্ষতা 

 

আমরা পার হয়ে যাচ্ছি একটি দীর্ঘ নদী অথচ 

আমাদের কথায় নামমাত্রও ভাসছে না জলের সর

যদিও এই নদীপথ আর কিছুক্ষণের কিন্তু 

আমাদের হাঁটার ইচ্ছা একেবারে দিগন্ত পর্যন্ত। 

 

 

 

এক অস্থির সকালের নাম

 

হাতগুলো ঠিক যতখানি শক্ত আর তালুগুলো 

ঠিক যতটা গোল হয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকলে

সদ্যোজাতর পিতাদের মুখে হাসির বাঁধ ভাঙতে পারে 

সকাল দুপুরের যাবতীয় শূন্যস্থান অক্লেশে 

ভরে যেতে পারে সবরকমের অভিপ্রায় দিয়ে 

ঠিক ততটা শক্ত ছিল না আর তাই সাতসকালেই

কে যেন মারতে মারতে আকাশকে নীল জামা ছাড়িয়ে 

একখণ্ড ধূসর কাপড় পড়িয়ে দিয়ে বলেছিল

শুধু এখন নয়, যতদিন না বালিঝড় শেষ হয়

এই ধূসরতার নামতাই সুর করে পড়ে যেতে হবে 

 

অনেকেরই চোখের আড়ালে 

আকাশের ছোট্ট বুকের ফুটো দিয়ে নেমে আসছে 

কুয়াশাজড়ানো ভোরের গন্ধমাখা ঠাণ্ডা রঙ

 

এবার নীলের দুয়ারে পা ছড়িয়ে পড়ানো হবে 

বালিঝড় আসলে এক অস্থির সকালের নাম।

Post a Comment

0 Comments