আমার মা এক টুকরো বরফ
আমার মা এক টুকরো বরফ-
স্বচ্ছ শীতলতায় আবৃত।
সংসারের উতপ্ত আগুনে-
নিজেকে পুড়িয়ে দেন,
গলে গলে নিঃশেষ হন!
সকলের ভালো থাকার
প্রার্থনায়-
সূর্যোদয়ে লাল সিঁদুরের
পৈত পরেন।
কপালে দেন রাজটীকা
সংসারের কল্যানে ব্রতী
হোন- হোন সাধিকা।
আপন মহীমায় আলো ছড়ান।
মায়ের কষ্টগুলো বাঁকা
চাঁদের হাসিতে ঢেকে থাকে।
জোসনার নির্মল আলো ঢলে
পড়ে সেই হাসির মূর্ছনায় ;
এই হাসিতে মা বেঁধে
রাখেন দুখের অমোঘ মেঘ।
অতঃপর মা হয়ে যান এক
টুকরো বরফ।
উদভ্রান্ত পথিক
নিজেকে খুঁজতে গিয়ে-
উদভ্রান্তের মতো
বহুক্রোশ হেঁটে;
আজও জানলাম না-
আমি কে?
কে আমার!
শুধু পশ্চাৎ ফিরে
দেখলাম
অনেক দূর চলে এসেছি-
শূন্যতার ফালি ফালি
রাস্তা
ধূসর তামাটে রং ধারন
করেছে।
আপন পরের প্রভেদ বুঝি
না-
ভালোবাসা কি তাও বুঝি
না।
সবই যেন ধোয়াশার মলাটে
বাঁধা।
শুধু নিজেকে টেনে হেঁছড়ে
শৃঙ্খলার রেশ ধরে কিঞ্চিৎ জানবার চেষ্টা করেছি।
ক্লান্ত চরণ বার বার
থমকে যায়-
হারিয়ে ফেলে
পথ।
অগ্র পশ্চাৎ যতটুকু
খুঁজলাম
দেখলাম তোমাদেরই খুঁজে
চলেছি ;
দিনের পর দিন
রাতের পর রাত
মাসের পর মাস
নিজেকে খুঁজিনি! নিজেকে
বুঝিনি!
নিজের কাছে নিজেই রয়ে
গেলাম অজানা।
আমি কে!
কে আমার?
শুধু খুঁজেছি,দেখেছি,
বুঝেছি-
তোমাদের সকাল
সন্ধ্যাবেলা।

0 Comments