বিনয় কর্মকার এর কবিতা

Poems by Vinay Karmkar (Binaẏa karmakāra ēra kabitā)


স্থান-কাল

কার্নিশের চুয়েপড়া জলে
জন্মানো শ্যাওলায় সবুজ কলঙ্ক দাগ, 
পৃথিবীজুড়ে চুনকামের তাগাদা।
অথচ;
মঙ্গলে হতে পারতো নভোচারীর উল্লাস!




বর্ণবাদ 

কালো হবার কিন্তু কোনো ক্রিম নেই, 
যদিও;
ফর্সা মানেই বরেণ্য বা মহাপ্রাণ; এমন কোনও কথা নেই। 

তবু বিলবোর্ডে বেনিয়া দাপট।
এ্যানামেল পেইন্ট নাহয় বাদ-ই  দিলাম;
আলকাতরার বিজ্ঞাপনেও থাকে সাদা-সাদা মুখ!

পৃথিবী বুঝি এখন আর বই পড়ে না?
 সাদা পাতায় কালোর আলো অক্ষর---

মাইকেল জ্যাকসন রঙ পাল্টালেও; ম্যান্ডেলার দরপতন হয়েছে; এমনটা কিন্তু শুনিনি।




বাড়ি

একদিন সেনগুপ্ত দিদি বলছিলেন;
আমার ফ্ল্যাটের এই ব্যালকনিটা আমার খুব প্রিয় জায়গা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে এখানটায় এসে বসি,
বুলবুলির ডাক শুনি
টুনটুনির ডাক শুনি
ঘুঘুর ডাক শুনি
দোয়েল, চড়ুই আরও কত-শত পাখি আসে,
রাতে লক্ষ্মী পেঁচা__

গরমের দিনে হওয়া খাই __
বর্ষায় আকাশে কালো মেঘেদের আনাগোনা, অঝোর ধারার বৃষ্টি__
শরতে রোদ-মেঘে লুকোচুরি,
রাতে পূর্ণিমার চাঁদ।
শীতের সকালে মিষ্টিমাখা নরম রোদ__

সেনগুপ্ত'দি যখন বললেনঃ
আমার মনে হয়, সকলেরই তার বাড়ির কোনো একটা জায়গা বেশ ভালো লাগার থাকে।
আমি শুধু বলেছিলাম;
সবার তো বাড়ি থাকে না! 




সম্রাজ্যবাদ  

চেনা বন্দরে আজও অচেনা জাহাজের ভিড়,
উপকূল জুড়ে এ-কি মাংসের বাজার?
দাম্পত্যে বিশ্বস্ত নাবিকও বিবর্ণ ফুলের রেণুতে খোঁজে প্রলোভিত প্রবঞ্চনা সুখ। 
সময়ের সিঁড়ি বেয়ে রাত নেমে এলে, 
কৌতূহলে অবিন্যস্ত শরীরবিদ্যায় কেঁপে ওঠে একেকটা জনপদ।
শেষে অনিবার্য এই;
খাপ ছেড়ে বেরিয়ে এলেই তলোয়ারে লেখা হয় খুনের ইতিহাস।



আর্য মহীরুহ 

খানিকটা দূরত্ব থাকে বলে ম্যাজিকে বিরাজ করে দারুণ বিস্ময়!
নিকটবর্তী হলে তবেই গোচরে আসে পরিপাটি কাপড়ের ববলিন দৈন্যতা। 

আপনাকে জানার জন্য নিকটে যেতেই, ঘনত্ব হারাল প্রগাঢ় বনের সারি,
স্পষ্ট হলো একেকটা গাছের দূরত্ব। 

মেহগনিগাছ ছুঁয়েই টের পেলাম, অমসৃণ গুইসাপের চৌচির বাকল__


Post a Comment

0 Comments