ছায়া
প্রতিবেশী বনমালীর ডাবকা সুন্দর বউ।
দু-চামচ লবণ, দু-চারটে কাঁচা মরিচ দুপুরের রান্নায়
কম পড়লে আমার মায়ের কাছে এসে ধার নিতো।
আমি জোয়ান মরদ। লজ্জায় তার চোখের দিকে
তাকাতে পারি না। তার ছায়ার দিকে তাকাই।
গোপনে গোপনে তার ছায়া দেখি।
সেদিন ঘুমিয়ে আছি। দরজায় কে যেন টোকা দিলো।
কণ্ঠটি পরিচিত।
বললাম, তুমি না গত সপ্তায় আত্মহত্যা করেছ?
‘বাবু, যে আত্মহত্যা করেছে, সে তো বনমালীর
ডাবকা সুন্দর বউ। আমি তার ছায়া গো ছায়া। তুমি
যার দিকে গোপনে গোপনে তাকাও।'
বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠল। আসতেও তো
পারে। মানুষ কবরে গেলেও ছায়াটা নাকি পৃথিবীতেই
থেকে যায়।
তার ডাকের সত্যতা পেলাম তৃতীয় সপ্তায়।
যেদিন আমার লাশটি দড়ি কেটে নামানো হলো,
সেদিন পাড়ায় রটে গিয়েছিল—
আমার ছায়াটিকে ঘরে পাওয়া যাচ্ছে না।
আমার ছায়াটিকে ঘরে পাওয়া যাচ্ছে না।
আমার ছায়াটি নাকি বনমালীর বউয়ের
ছায়াটিকে নিয়ে দূরে কোথাও পালিয়েছে।
ভ্যানিটি ব্যাগ
ভ্যানিটি ব্যাগ
বাংলা মিস্ট্রেস আমাদের ছোটগল্প পড়ান।
টেবিলের ওপর ভ্যানিটি ব্যাগটি রেখে ক্লাস শুরু করেন তিনি।
আর পুরোটি ক্লাসজুড়ে আমার দৃষ্টি পড়ে থাকে ম্যাডামের ভ্যানিটি ব্যাগের দিকে।
নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ আমার কাছে এক অবাক বিস্ময়।
মনে হয় ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে আস্ত এক গ্রাম আছে। আছে কিছু বাড়ি। তারপর ধানখেত।
সবুজ খেতে দাঁড়িয়ে এক বালক তাকিয়ে আছে দূর দিগন্তের দিকে।
আরও কত কত অজানা যে এই ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে আছে, এসব দৃশ্যের কোনদিনই ঠিকঠাক খোঁজ পায়না পুরুষ ও বালকেরা।
এসব যখন ভাবছি। হঠাৎ তখন বাংলা মিস্ট্রেস আমাকে বললেন —
তুমি তো কবিতা লেখো। ছোটগল্প লেখো না?
আমি চুপ করে থাকি।ক্লাস ভর্তি সকলের মাঝে মিস্ট্রেসকে কীভাবে বলি—
পৃথিবীর সমস্ত ছোট গল্প তো আপনার ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর।
_________________________________________________
মনে হয় ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে আস্ত এক গ্রাম আছে। আছে কিছু বাড়ি। তারপর ধানখেত।
সবুজ খেতে দাঁড়িয়ে এক বালক তাকিয়ে আছে দূর দিগন্তের দিকে।
আরও কত কত অজানা যে এই ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে আছে, এসব দৃশ্যের কোনদিনই ঠিকঠাক খোঁজ পায়না পুরুষ ও বালকেরা।
এসব যখন ভাবছি। হঠাৎ তখন বাংলা মিস্ট্রেস আমাকে বললেন —
তুমি তো কবিতা লেখো। ছোটগল্প লেখো না?
আমি চুপ করে থাকি।ক্লাস ভর্তি সকলের মাঝে মিস্ট্রেসকে কীভাবে বলি—
পৃথিবীর সমস্ত ছোট গল্প তো আপনার ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতর।
_________________________________________________
রিগ্যান এসকান্দার
জন্ম ১২ জুন ১৯৮৩, কুষ্টিয়ায়, বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। বর্তমানে তিনি চুয়াডাঙ্গার শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে চিন্তা ও চর্চার দর্শন 'চর্চায়ন' নিয়ে কাজ করছেন। সম্পাদনা করেন সাহিত্য পত্রিকা 'চর্চায়ন'। সেই সাথে মুক্তচিন্তা ও গবেষণামূলক সাহিত্য পত্রিকা 'দর্পণ'-এর উপদেষ্টা ও কবিতাবিষয়ক সম্পাদক তিনি।
প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ: পেরেকপুস্তক ২০২২, দর্শনপুস্তক ২০২২, সুফিয়াতন্ত্র ২০২১, দ্রোহশাস্ত্রবুলি ২০২০, প্রেম কবলিত প্রসব ২০১৪, নারীগদ্য ২০০৭।
প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ: পেরেকপুস্তক ২০২২, দর্শনপুস্তক ২০২২, সুফিয়াতন্ত্র ২০২১, দ্রোহশাস্ত্রবুলি ২০২০, প্রেম কবলিত প্রসব ২০১৪, নারীগদ্য ২০০৭।

0 Comments