বহ্নিশিখা
তোমার তৃষ্ণার্ত চোখে আমাকে আবিষ্কার করো না।
আমি বহ্নিশিখা!
তোমার নেশার পাত্রের সুমিষ্ট পানীয় নই যে
চুমুকেই তোমার ঠোঁটে আবিষ্কার করবে নগ্ন পেয়ালা...
আমি বহ্নিশিখা!
তোমার তৃষ্ণার্ত বুকের শিহরিত ঢেউ নই যে
তোমার তীরে ভীড় জমাবো...
বৃথাই তৃষ্ণার পাত্র ভেবে ভুল আবিষ্কার করছো নেশার ঘোরে
আমি বহ্নিশিখা!
ভুল করে তৃষ্ণার সুরা ভেবে চুমুক দিও না জ্বলে পুড়ে ছাই হবে।
নীলাম্বরীর অন্তরে
আমি অন্ধকারে আমার মনের আকাশ মেলে
নীলাম্বরীর বেদনাময় অন্তরে মেঘের নকশা আঁকি।
রঙধনুর রঙিন মেলা গোধূলির সূর্যাস্তের সাথে
নিমজ্জিত হতে হতে আমার আকাশে জলরঙে
জলকেলিতে মেতে ওঠে...
নির্বাক দৃষ্টিতে আমি অন্ধকার জড়িয়ে ধরি
চৈতন্যময় সত্তায়, প্রকৃতির পুরুষ যেখানে
অন্ধকারে আশার আলোর মশাল হাতে ঘুরে বেড়ায়...
প্রাকৃত
কত শত শরীরের ভাজে ভাজে
বিবেকহীন কালো কলমের শীসে
রক্তের কালি লিখে দিচ্ছে শুধুই নির্মমতার ইতিহাস।
বর্বরতা আজ পাহাড় ছুঁয়েছে...
ঝর্ণা বলে; আমি আপন ধর্মে মিশে নুড়ি থেকে বিশাল
শিলাকে স্পর্শ করে মিশি সমুদ্রের জলে
আর পদ্মা মেঘনা গঙ্গা যমুনার স্রোতে ভাসি
প্রকৃতির মাঠে মাঠে।
তোমাদের মতো ধর্ম নিয়ে তর্ক করি না...
বৃক্ষ বলে; আমার শরীর জুড়ে ছোট ছোট পরগাছা
আমি ভালোবেসে বুকে আগলে রাখি
জাত বুঝিনা জাত খুঁজি না, তাই
লালন ফকিরের গানের একাতারার সুর আজও হৃদয়ে।
তোমাদের হৃদয়ে সে সুর তোমরা বাজাতে পারো না...
অসাম্প্রদায়িক চেতনায় যুদ্ধের চিতা জ্বালাও হিংসার দাবানলে...
প্রকৃত ধর্মের মানে তোমরা বোঝ না।
তুমি টের পেলে না
তোমার পকেটে হাত দিলাম তবুও তুমি টের পেলে না...
কতশত শব্দের বীজ রোপন করেছো,
সেইসব কবিতার শেকড়ে বিস্তৃত মাঠ-ঘাট-শহর-গ্রাম। সেখানে
ভালোবাসার বৃক্ষ সারি সারি দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে
আমার হাতে হাত রেখেছে পাতাঝরা ছন্দের সুরে,
আমি অবাক হয়ে ডুবে গেলাম
সবুজ পাতার ক্লোরফিলের ভেতর স্বপ্নভরা নিঃশ্বাসে।
বাহ্ কি সৌভাগ্য আমার!
তোমার পকেটে হাত দিতেই খুঁজে পেলাম পান্ডুলিপি,
পান্ডুলিপি থেকে বই, বই থেকে সারা বিশ্ব।
তোমার পকেটে হাত দিলাম তবুও তুমি টের পেলে না
অচৈতন্য
প্রহরে প্রহরে সুখ পাখিটা ডেকে গেলো
অচৈতন্য আমার সজাগ হবার সুযোগ দিলো না...
দিলো না জোনাকির আলো মাখা ঠোঁট থেকে চুমুর পরশ নিতে,
শুনতে দিলো না ঝিঝিপোকার হৃদয়ের না বলা কথা...
চাঁদের আলো ভালোবাসার অন্ধকার অতিক্রম করে
জানালার ফাঁক দিয়ে এসে অচৈতন্য চোখের পাতাতে বুঝি
আদরের জোৎস্না ঢেলে গেলো তবুও
অচৈতন্য আমাকে টের পেতে দিলো না...
এতো প্রেম জড়ানো সুখ পাখিটার কাছে ঋণি হলাম...
ঋণি হলাম প্রেম জড়ানো একটি অন্ধকার রাতের কাছে।

0 Comments