সমকালীন আফগান কবি ফেরেশতা নিলাব সাহেল নুরজায়ির কবিতা
ফেরেশতা নিলাব সাহেল নুরজায়ি ১৯৭৭ সালে কাবুলের হেরাতি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০২ সালে হেরাত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন কিন্তু ২০১০ সালের শুরুর দিকে অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটে। তার সংগৃহীত কবিতার বইয়ের জীবনীতে তার পরিবার জানায়- নুরজায়ি তার মৃত্যুর চল্লিশ দিন আগে এরকম একটা স¦প্ন দেখে যে সে একটি নতুন চিরন্তন দেশে ভ্রমণ করবে। এর ঠিক চল্লিশ দিন পর, হিসাব অনুসারে, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে তিনি ঘুমের মধ্যে মারা যান। তার মৃত্যুর পর একই বছর তার কবিতার বই ‘উইদা’ (বিদায়) প্রকাশ করা হয়।
কিন্তু আমি পারিনি
আমি ভেবেছিলাম আমার জগৎকে উজ্জ্বলভাবে সাজিয়ে তুলবো
আনন্দকে আমার জীবনে সম্মানের জাগয়া হিসাবে গড়ে তুলবো
কিন্তু আমি পারিনি
আনন্দকে আমার জীবনে সম্মানের জাগয়া হিসাবে গড়ে তুলবো
কিন্তু আমি পারিনি
আমি বলেছিলাম আমার পিঠ সোজা করে তুলবো
একটি থেঁতলানো ইতিহাসে ন্যুব্জ
কিন্তু আমি পারিনি
তোমার ভাবনায় নিজেকে রোমাঞ্চিত করতে
সিল্কের জন্য বেসাতি করতে চেয়েছি আমার পটের কাপড়
কিন্তু আমি পারিনি
আমি বলেছিলাম- আজ আমার সংকল্প দৃঢ়
হৃদয়কে প্রসারিত করবো সমুদ্রে
কিন্তু আমি পারিনি
ভেবেছিলাম আমার প্রেমকে দেবো হৃদয়ের গোপন আভাস
উন্মোচন করবো তাকে
কিন্তু আমি পারিনি
তার মনোমুগ্ধকর উপস্থিতিতে আলগা করতে চেয়েছিলাম
এই জটবদ্ধ জিহ্বা
কিন্তু আমি পারিনি
এই বিদ্রোহে প্রেমের আঘাত
শপথ করেছিলাম আমার চিন্তা থেকে নির্বাসিত করবো তাকে
কিন্তু আমি পারিনি
আমি দাঁড়াতে চেয়েছিলাম প্রতিবাদে
জীবনের নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে- প্রেমিকের প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে
কিন্তু আমি পারিনি
টেনে নিয়েছিলো তার নিপীড়ন- ভেঙে পড়েছিলো আমার দৃঢ়তা
চেয়েছিলাম ন্যায় বিচারের জন্য চিৎকার করতে দাবি জানাতে দুঃখের প্রতিকার
কিন্তু আমি পারিনি
এসব দিনগুলো
এসব দিনগুলো
তাদের অত্যাচার আর কঠোর পরিশ্রমের জ¦ালাতন
আমাদেরকে শাসন করে নিষ্ঠুরভাবে- কেনো?
তাদের অত্যাচার আর কঠোর পরিশ্রমের জ¦ালাতন
আমাদেরকে শাসন করে নিষ্ঠুরভাবে- কেনো?
আমাদের প্রতি
দয়া করুণা বা সমবেদনার কোনো চিহ্ন নাই
সময় হৃদয়ের প্রেম-উৎকীর্ণ
ছাদের কড়িকাঠ ছিঁড়ে ফেলে
আমাদেরকে উন্মোচিত করে নগ্ন আকাশে
এসব মধ্যরাতের উপদর্শক
সন্দেহ করে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে
সময় আমাদের জন্য রেখে গেছে স্মৃতিচিহ্ন
(এমনকি তা জাগিয়ে তোলে নতুন নতুন যন্ত্রণা)
প্রতিকার ছাড়া
একটি রুগ্ন শরীর আর ব্যথা
পৃথিবীর দুষ্টু জোয়ার পরিত্যাগ করে আমাদের
এই রাত্রি-যাত্রার কোনো আশা নাই
আদৌ সকালে পৌঁছলে :
ভাঙা জাহাজ
অক্ষত ক্যাপ্টেন
আমাদের পক্ষে সম্ভব না পিঠ সোজা করা
যখন উত্তরাধিকারের বুক অনুশোচনায় ভরা
আমরা হয়েছি নিষ্পেষিত
সময় আমাদের জন্য সেরা পরামর্শ?
অভ্যস্ত হয়ে যাও আমার নিষ্ঠুরতায়
যদিও তা পোড়ায়
তবু তুমি শিখে ফেলতে পারো সহ্য করতে পোড়ানো
আমাদের তা-ই বলে
এজন্য
আমাদের হৃদয়ে কবর দিয়েছি আমাদের কান্না
ক্লান্ত গলার সমাধিস্থলে কবর দিয়েছি কণ্ঠস্বর
আর কি বাকি আছে
শুধুস্বপ্ন কল্পনা করা- যা হতে পারে সত্য আমাদের জন্য?
সাহেলকে আচ্ছন্ন করে সমুদ্র- প্রতিধ্বনিত হয় যার কান্না
পদচিহ্ন ম্লান হলে রেখে যায় চোখের জল আমাদের তরে
আন্তরিকতা
প্রিয়
আমার ভোরের পাথুরে সুরকে কেনো তুমি রাঙাও
কেনো তার মিলনের ব্যথায় আমাকে সিক্ত করাও
যেনো ছুরিতে বিদ্ধ
আমার ভোরের পাথুরে সুরকে কেনো তুমি রাঙাও
কেনো তার মিলনের ব্যথায় আমাকে সিক্ত করাও
যেনো ছুরিতে বিদ্ধ
প্রিয় শিকারি
তোমার চোখের ফাঁদ বন্ধ হয়েছে
আমার হৃদয়ের গোড়ালি ধরা পড়েছে
তোমার আড়ধনুকের আর কি দরকার?
আমার সর্বনাশা ক্ষত সারাতে ছুটে যাবো কোথায়
আবার এ অতল গহ্বরে ফাঁদে ফেলতে চাও আমায়?
সবাই বলে তুমি জাদু ব্যবহার করতে চাও
তোমার আগের জাদুবিদ্যা ব্যর্থ হয়েছে লক্ষ্যে
কি হতে পারে
হে আমার নিষ্ঠুরজন
তুমি কি তোমার বিশুদ্ধ রঙের মোমবাতি জে¦লেছো
চেয়েছো আমার কালো সময়ে সূর্য উঠুক একবার?
এই রক্তাক্ত অর্ধ-লাশের প্রতি করুণা করো
যাকে মৃত্যুর অভিমুখে রক্তিম আহত করে
পাশ ফিরে তাকাও এক পলক
তোমার অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে
অনেকদিন ধরে ঝরিয়েছো অগ্নিঝরা ভয়ের বৃষ্টি
অবশেষে নিষ্পেষিত করেছো তার জ্বলন্ত অঙ্গারে
তোমার অবস্থান কখনো হবে না বিপন্ন
হে আমার সমুদ্র
যদি দাও সদয় দৃষ্টি সাহেলের কষ্টের প্রতি
লাল সীমানা
এই লাল সীমানায়
এই ঢালে
কেনো তুমি পা রাখবে
কেনো?
দূরে সরিয়ে নাও তোমার পা- দ্রুত!
পাছে অতল গহ্বর
তোমাকে মুছে ফেলে
তথ্যসূত্র : LOAD POEMS LIKE GUNS
Women’s
Poetry from Heart, Afghanistan
FARZANA
MARIE
Holy Cow! Press
কায়েস সৈয়দ
জন্ম ১৭ মে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ
বেড়ে ওঠা অঞ্চল বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জ
ই-মেইল: kayessyed786@gmail.com
জন্ম ১৭ মে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ
বেড়ে ওঠা অঞ্চল বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জ
ই-মেইল: kayessyed786@gmail.com
প্রকাশিত বই :
পাবলো পিকাসোর কবিতা (ভাষান্তর কবিতা) ২০১৯, প্রকাশনা : বেহুলাবাংলা
রৈখিক রক্তে হিজলফুল (কবিতা) ২০২০, প্রকাশনা : লালপিঁপড়া
চার্লস বুকোস্কির অপ্রকাশিত কবিতা :
সোজা তোমার কবরে যাও (ভাষান্তর কবিতা) ২০২১, প্রকাশনা : জাগতিক
জঁ ককতোর বাছাই কবিতা :
যুদ্ধ বিদ্যালয় (ভাষান্তর কবিতা) ২০২১, প্রকাশনা : জাগতিক
আফগানিস্তানের কবিতা (ভাষান্তর কবিতা) ২০২২, প্রকাশনা : আদর্শ
মাও সেতুঙের কবিতা সংগ্রহ :
আকাশে আলো আনে মোরগের ডাক (ভাষান্তর কবিতা) ২০২২, প্রকাশনা : দ্যু
পাবলো পিকাসোর কবিতা (ভাষান্তর কবিতা) ২০১৯, প্রকাশনা : বেহুলাবাংলা
রৈখিক রক্তে হিজলফুল (কবিতা) ২০২০, প্রকাশনা : লালপিঁপড়া
চার্লস বুকোস্কির অপ্রকাশিত কবিতা :
সোজা তোমার কবরে যাও (ভাষান্তর কবিতা) ২০২১, প্রকাশনা : জাগতিক
জঁ ককতোর বাছাই কবিতা :
যুদ্ধ বিদ্যালয় (ভাষান্তর কবিতা) ২০২১, প্রকাশনা : জাগতিক
আফগানিস্তানের কবিতা (ভাষান্তর কবিতা) ২০২২, প্রকাশনা : আদর্শ
মাও সেতুঙের কবিতা সংগ্রহ :
আকাশে আলো আনে মোরগের ডাক (ভাষান্তর কবিতা) ২০২২, প্রকাশনা : দ্যু

0 Comments