চন্দনকৃষ্ণ পাল এর কবিতা

 



বিষণ্নতার পংক্তিমালা-১


কুয়াশার চাদর সরিয়ে যাই,

বুঝি মাঘের জমানা।


সাইরেনের তুমুল হুটোপুটি সবাইকে সতর্ক করে

আর আমরা নিজেদের নিরাপদ ভেবে হাই তুলি!

কুয়াশার কুন্ডুলীরা এপাশে ওপাশে ছড়িয়ে যেতে যেতে

আড়চোখে আমাদের নিরীক্ষণ করে

বুঝি তাদেরই দিনকাল আজ।


আমরাও ভাবি মাঘ শেষে আমাদেরই জয়

শিমুল ও পলাশের লাল হবে আমাদের দিন।


কুয়াশা ও রাত গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়।



বিষণ্নতার পংক্তিমালা-২


তমাল তলায় আজ বিষণ্নতার ছড়াছড়ি।


এমন ছিলো না কখনো!

এই তো সেদিন ও ছিলো দোলযাত্রা

আবিরের ছড়াছড়ি কতো

সাথে আরো সাত রং মেলেছে পেখম

ডালেতে ছড়ানো ছিলো পুষ্পের হাসি।

আজ গাদা ও গোলাপ

সাথে তুলসীর সরব আসর...।


বাধানো চাতালে দেখি

ইতস্তত ছড়ানো মোমবাতি,

আগরবাতির ধোঁয়া-

এলোপাতাড়ি তার চলা

সে চলায় গতি নেই

আছে শুধু নীলকে চেনার চিহ্ন

আর ফিকে দিন।




বিষণ্নতার পংক্তিমালা-৩


ঠোঁটই কথা বলছিলো-

আর তার সাথে গাঢ় লাল রং...

লাল পছন্দ নয়, 

তবুও তাকিয়েছিলাম-

নিয়ন্ত্রণহীন নিজে নিজেকে ধিক্কার দেই

সে কি শোনে? হাসে?

কৌতুক বোধ করে?


উত্তর ভাসে না চোখে,ঠোঁটের গাঢ় লালে।

বেকুবের মতো আমি আবরণ ছড়াতে যাই

তার চোখে বিষণ্নতা পড়ি,

ফলাফল শূন্য জেনেও হাতটা বাড়াই...।


তার তীব্র প্রত্যাখানে ছোট হতে থাকি

এই আমি ক্রমশই ছোট হতে থাকি।




জল কল্লোলিত দিনে বলি


তুমুল কলধ্বনি শুনে শুনে বিমোহিত হই

তোমার অঢেল জল নেমে এসে ভরাট এ তট

অনেকেই আনন্দিত, তাদের যৌবন এসে ঢেউ দিয়ে যায়

গলায় আনন্দ ধ্বনি, অন্যকে আহবান করে ক্লান্ত হয়

কেউ সাথী পায়, কারো সুরে ক্লান্তির রেশ-

তাদের জন্য দুঃখ নিবেদন করি,

আহবান করি অপেক্ষার, 

সময় তো আছে আরো, একটু ক্লান্তি ঝেড়ে পুনরায়

নাম গানে, নিবেদনে নিজেকে রাখলে জানি

আনন্দ ডানা মেলে আসতেও পারে...

ভবিতব্য জানি না তো সম্ভাব্যতা যাচাই করে বলা যায় 

সূর্যটা দিতে পারে আলো

কেটে যেতে পারে মেঘ মালা

মন্দ্রস্বরে ডেকে ডেকে সঙ্গী তুমি পেয়ে গেলে

ধন্যবাদ বলার মতো সময় হবে তো?


কলধ্বনী বিমোহিত করে, সঙ্গে থাকে তোমার আনন্দ গান

ঘোলাজলে সাঁতার কাটলে কারো

অবয়ব পড়ে না তো চোখে

মাছ শিকার তাই নিয়তি নির্ভর বলে জানি-


এ জল কল্লোলিত দিনে তোমাদের আহবান করি

আনন্দে মগ্ন থাকো, ভুলে থাকো জাগতিক সব বোঝাপড়া,

 আমি আছি তোমাদের সাথে।





এই সব বিষন্নতা নিয়ে


শব্দ সাজানো থেমে গেলে শূন্য থাকে কাগজের বুক

অন্তমিল ছুটি নেয়,ছুটি নেয় শব্দের ঢেউ

মাত্রারা নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকে নিজেদের মতো

আর আমি

ঘোলা দৃষ্টি মেলে দেখি এই শূন্য চরাচর..,


বনরূপায় নেই বায়ূসেবী আর

টুং টাং থেমে গেছে বড় রাস্তায়

বিষন্ন স্রােতে ভাসে বাউনিয়া খাল

উৎসবের সাজ সজ্জা থেমে গেছে মধ্য চৈত্রেই

পহেলা বৈশাখ আজ চোখ মুছে বিষন্ন রুমালে।


তোমার আঁচল আর উড়ে না তো

বিকেলের কমলা আভায়

ওখানেও বিষন্নতা নিয়ে আজ

থমকে আছে এক নীল বেলকনি!





পৃথিবী উৎসবে মাতে


দিন চলে যায় অবলীলায় স্বপ্নরা সব পাখা মেলে

আকাশ ছুঁবে নীল মাখবে হাতের কাছে তাকে পেলে

হাসি আমি ভাবনা দেখে স্বপ্ন দেখা ভালো জানি

স্বপ্ন থেকে সৌধ হবে, হতে পারে তাও তো মানি

কিন্তু জেনো সেই স্বপ্নের ভিত্তিটুকু থাকতে হবে

তবে স্বপ্ন সফল হবে মাতবে সবাই মহোৎসবে

হাওয়ায় ভেসে স্বপ্ন দেখা, থাকবে পড়ে শূণ্য শুধু

অথই সাগর দেখবে চোখে কিংবা বিশাল মরুর ধু ধু 

বাস্তবের এই শক্ত ভিতে নেমে এসো প্রিয় সুজন

সবুজ দেখো নীল হাতড়াও শ্রবণ করো পাখির কূজন

প্রাণটি খুলে দাও না হাসি হাসুক আকাশ তোমার সাথে

হাসলে তুমি উৎসব হয়, পৃথিবী উৎসবে মাতে!


Post a Comment

0 Comments