কবি, কথাশিল্পী, ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যক দিলারা মেসবাহ। বাংলা সাহিত্যের
নিভৃতচারী এই কথা শিল্পীর সাহিত্যের সবকটি শাখায় অবাধে সৃষ্টিশীল বিচরণ রয়েছে। আজকাল সাহিত্য রচনায়
জীবন ঘনিষ্ঠ বা জীবন কে টাচ্ করে যাওয়া লেখার অভাব রয়েছে। একটি জীবন ঘনিষ্ঠ বই
মনের গভীরে সম্মোহনী শক্তি বাড়ায়। গভীর
মায়াময় আকর্ষণে নিয়ে যায় জীবনের বাহির থেকে ভিতরের জগতে। যেন জীবনের বিশাল
দর্পনে লেখকের একটি অবয়ব প্রত্যক্ষ করা। কখনও বা অবলোকন হয়
কথাশিল্পীর বাস্তবতার প্রতিমূর্তি। দিলারা মেসবাহের 'কিশোর সমগ্র ' তেমনি একটি শিশুতোষ বই। যা আমাকে জীবনের শিকড়ে
গিয়ে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবির মধ্যে আলোড়িত ও জীবনকে উপলব্ধির মাধ্যমে সম্মোহিত
করেছে।
আশির দশকের এক উজ্জ্বল ও নিভৃত কথা
শিল্পী দিলারা মেসবাহ। নিমোহ, শিশুতোষ, ভৌতিক, সৃষ্টিশীল, জীবন ঘনিষ্ঠ, শিক্ষা মূলক তার সাহিত্য রচনা। কবিতা ও ছড়া রচনায় তিনি
সপ্রতিভ। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে দিলারা মেসবাহ একটি
বিশেষ নাম। জগত সংসারের নানা বিষয়, নানা জীবন্ত অনুসঙ্গ তার লেখায় ফুটে উঠে।কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও শিশু সাহিত্য তিনি দীর্ঘ চার দশক ধরে লিখেছেন।
মানুষের জীবন ও প্রকৃতির সৃষ্টির জীব নানা
ঘটনার সমারোহে ভরপুর। কিন্তু
ক’জনই এসব ঘটনার প্রকৃত রূপ শিক্ষার আঙ্গিকে
প্রকাশ করতে পারেন। একজন জীবন ঘনিষ্ঠ প্রকৃত লেখকের পক্ষে সম্ভব
জীবনের বাস্তব চিত্রকে উপলব্ধির মাধ্যমে উন্মোচন করা। কবি-লেখক দিলারা মেসবাহ
তাই। যেখানে তিনি বাস্তবতার
সৃজনশীল ছোঁয়ায় নিজের সবটুকু প্রকাশ করেছেন। ' কিশোর সমগ্র ' বইয়ে তিনি শিশু কিশোরদের কাল্পনিক ভৌতিক ছোঁয়ার মাঝে জীবনের
ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি, ভৌতিক ভূতের গল্প, পিপড়ের জীবন কাহিনী, উপদেশ মূলক কথায়
তরুণদের নবজাগরণ ঘটার চিত্র এঁকেছেন।
লেখক বিভিন্ন অধ্যায়ে ভাগ করেছেন তার গল্প ও
উপন্যাস। অধ্যায়গুলো হলো- আরো ভূতের গল্পঃ ১.অন্য রকম
ভূত, ২.ছায়া সঙ্গী, ৩.গোলাপ বাড়ি, ৪.তিন নম্বর বাংলো, ৫. ভূতের কান্না, ৬.বেচইন বাচ্চু,৭.পেনতি তলার উপকথা, ৮.শামুক, ৯. পটুর ভর দুপুর, ১০. টেলিপ্যাথি, ১১.লিলুয়া, ১২. সাজুর গল্প, ১৩. মোড়গ ঘরি, ১৪. রাতভর কাওয়ালী, ১৫. কুসুম ফোটার বেলা, ১৬. গল্পের সাতনরী, ১৭.এক যে আছে পিঁপড়ে, ১৮.দাঁড় কাক ও পাতি কাকের কেচ্ছা, ১৯.তপুল এর টিফিন বাক্সের গল্প, ২০.মোনাব্বর ও স্বাধীনতা দিবস, ২১.টুকরো গল্প, ২২.নিউ পিঁপড়ে কলোনী ও
রানী পিঁপড়ে, ২৩.এক টুকরো বাংলাদেশ, ২৪.দাদুর ইজি চেয়ার, ২৪.পাখির একদিন, ২৫.বকু মামা, ২৬. কাঞ্চন মামা, ২৭.মধু মাস, ২৮.আনন্দ ভোজ, ২৯.ভূত ও ভেনট্রিলোকুইজম, ৩০.রুটিপিঠা ও বাল্যবন্ধু, ৩১.গোলাপ ফুপুর বাড়ি ৩২.অন্য রকম ঈদ, ৩৩.মহারাজ ময়ূরী ও পার্থ, ৩৪.দরজা খুলে যায়।
দিলারা মেসবাহের আরো ভূতের গল্প শিহরণ জাগানো তারুণ্যের অনুভূতি দিয়ে আরাম্ভ
হয়েছে ' কিশোর সমগ্র। আবার শেষ হয়েছে ভূত ও
ভেনট্রিলোকইজম গল্পের নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে। একজন কিশোর তরুণে
লেখালেখির ভূবণে ভূতের গল্প লেখার
প্রাণপণ চেষ্টার মধ্য দিয়ে গল্পের
শুরু হয়েছে। পড়ুয়া ছেলে ইতুর মাথায় একটাই ভাবনা ঘুরপাক
খাচ্ছে, ভূতের বিচরণ নিয়ে লেখা। একজন তরুণের যে একজন
বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বির ইতুর মেঝ চাচা লেখক শরফুদ্দীন সাহেবের প্রভাব পড়েছে । চাচা লেখক হওয়ার জন্য চাচার প্রতি সবার ভক্তি ও শ্রদ্ধা
দেখে ইতুও লেখক হওয়ার প্রাণপনে চেষ্টা করে। ইতুকে তার বন্ধু বান্ধব
সবাই হবু লেখক বলে টিপ্পনী কাটে। এতে ইতুর
আরো জেদ চেপে যায় যেভাবেই হউক
ভূতের গল্প লিখতেই হবে। একজন কিশোরের কল্পনার আকাশে লেখক হওয়ার বাসনার ভৌতিক চিত্র ভেসে ভূতের
গল্পে। বাঙালি যাপিত জীবনের ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি ভেসে
উঠে মামা ও ভাগিনার রাত জেগে ভূতের গল্প শোনার মাঝে আমাদের জীবনে অতীত স্মৃতিকে
উদ্ভাসিত করে। জীনের আসরে
পড়লে কেউ ঘরের বাইরে পালিয়ে যায়। এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে কাউকে দেওয়া হয়
পীরের তাবিজ। এসব অবস্থা
' ছায়াসঙ্গী' গল্পে ফুটে উঠে।
গোলাপ বাড়ি
গল্পে লেখিকা বাস্তব জীবনে মানুষের বিচিত্র চরিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। বাড়িওয়ালা কাজের মেয়ের
উপর যে অমানুষিক ও অমানবিক নির্যাতন করেন তার চিত্র ভেসে উঠে। গল্পের এক পর্যায়ে
লক্ষ্য করা যায় কাজের মেয়ে ছমিরন সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রম শেষে গভীর রাতে মসলা
বাটতে গিয়ে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে আগুনে পুড়ে জীবন নিঃশেষ করেন। ছমিরনে নির্যাতিত
অতৃপ্ত আত্মার বিচিত্র রূপ বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়ার কাছে কল্পনায় ভূতের ন্যায়
ভেসে উঠে।
ভূতের কান্না গল্পে লেখিকা নানা বাড়িতে আকাশ
মামার কাছে ভূতের সব ভয়ংকর গল্প শুনতে শুনতে ভূত আবিস্কারের ভাবনা চেতনায় জেগে উঠে। পরে সাহসী বন্ধু
সুজাউদ্দীন কে নিয়ে গোরস্তানের পাশ দিয়ে রাতের আঁধারে মনের মাঝে ভয় ভূত অবলোকন করা
শুরু করেন। তারা কবরের পাশে ঝটপট শব্দ শুনতে পায়। পরে কবরের কাছে
অসুস্থ্য লক্ষীপেঁচা দেখতে পায়। পরে আকাশ বুঝতে পারে অসুস্থ্য পেঁচা শরীরের
যন্ত্রণায় ইনিয়েবিনিয়ে কাঁদে।এই গল্পর শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, ভূতের যতখানি বাস্তব অস্তিত্ব খঁজি বাস্তবে মানুষের দৃষ্টি
ভঙ্গির ব্যাপার।
শামুকের মতো খোলসের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে
চলবে কি?
শামুক গল্পে লেখিকা আমাদের সংসার জীবনের
বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। গল্পে দুই কিশোর কাজল ও সজল দুই ভাই। কাজল বড় ও মেধাবী ছাত্র
এবং সজল ডানপিটে কৌতূহল স্বভাবের। সে দূর্বার, দয়ালু ও চঞ্চল চরিত্রের। নানার অসুস্থতার খবরে
মায়ের হঠাৎ নানা বাড়িতে চলে যাওয়া। বড় ভাই কাজলের পরীক্ষায় ব্যাস্ততার মাঝে সজল জ্বরে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সেবা যতেœর অভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে। মা নানাবাড়ি থেকে
মামাসহ বাড়ীতে ফিরে এলে ছোট ছেলের অসুস্থ অবস্থা দেখার পরও বড় ছেলের প্রতি প্রকাশ
পায় অন্ধ মাতৃস্নেহ। এত অসুস্থতার মধ্যে কাজল সজলের কোন খোঁজ খবর
রাখেনি। মামা রবিন হতাশার মাঝে দীর্ঘশ্বাসের সাথে
ভাগিনা কাজলকে বললেন একজন পূর্ণ মানুষ হতে
হলে বিপদে আপদে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। শামুকের মতো খোলসের
মাঝে নিজোকে গুটিয়ে রাখলে চলবে না।
টেলিপ্যাথি গল্পে লেখিকা কৈশোর কালে কিশোরদের থ্রিলিং মনে হতো। অতি স্বাধীনতা অনেক সময়
বিপদ ডেকে আনে তা দেখিয়েছেন। গল্পের তিন চরিত্র বিলু, টুলু পরীক্ষা শেষে খালার বাসায় বেড়াতে গেলে কাজিন তিতুসহ
দুপুরের খাবার খাওয়া শেষে খালা ঘুমাতে গেলে তারা অতি স্বাধীনতা পায়। তারা চুরি করে আচার খায়। দোতলার ছাঁদে বড়
ট্রাংকের ভেতরররে লুকোচুরি খেলে। এভাবে খেলার এক পর্যায়ে বিলু ট্রাংকের ভিতরে
আটকা পড়ে গেলে কেউ বুঝতে পারে না । এদিকে খালার ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙে
গেলে বিলুকে খোঁজা শুরু করেন। এক পর্যায়ে ট্রাংকের
ভেতরে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করেন। বিলু কাপছে
থরথর করে মুখ থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না। পরে ডাক্তার টেথিস্কোপ
শরীরে লাগিয়ে পরীক্ষা করার পরে বলেন, আর কয়েক সেকেন্ড পার
হলে হয়তো কি হত , তা বলা যায় না। ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে
বিলু সেই যাত্রায় সুস্থ হয়। টুলু ও তিতু এই ভয়ংকর অবস্থা উপলব্ধি শেষে একে
অন্যের কানের কাছে মুখ রেখে বলে, " স্বাধীনতা পেলেই হয়
নারে, মাত্রা ঠিক রাখতে হয় "।
লিলুয়া অর্থ ঝিরিঝিরি বাতাস। লিলুয়া গল্পে লেখিকা
একটি পোষা প্রাণী মোরগের জীবনে মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা তুলে ধরেছেন। একটি মোরোগের চলা ফেরা, বৈশিষ্ট্য, খুব ভোরে ডাক দিয়ে
বসতির ঘুম ভাঙা সবই তুলে ধরেছেন। একটি পশুপাখি অনেক সময় মানুষের শত্রু হয়ে যায়, যা খুবই দুঃখ জনক। গল্পে ময়মুনাদের পরিবারের বিরোধ পক্ষের
অত্যাচারে লিলুয়ার ইহজীবন নিঃশেষ হয়ে যায়, যা আমাদের স্বাভাবিক
জীবনে কারোই কাম্য নয়।
আমাদের সবার জীবনে কিছু অতীত স্মৃতি থাকে। রাতভর কাওয়ালী গল্পে মা
তার সন্তান কে কৈশোর কালের বাদুড় তাড়ানোর
গল্প শোনান। বাদুড়ের দল পুরাতন বটবৃক্ষের ডালে সবাই
মিলেমিশে বসবাস করে। অথচ মানুষের মাঝে গন্ডগোল থাকে। 'কিশোর সমগ্র ' বইয়ে শিশু কিশোরদের
জীবন উপযোগী ভূতের গল্প, পিঁপড়ের জীবন কাহিনী নিয়ে উপন্যাস। সব গল্প ও উপন্যাসে
ছড়িয়ে রয়েছে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবির মাঝে দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষনীয় বার্তা। যা শিশু ও কিশোরদের স্ব
সচ্চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হতে সহযোগিতা করবে।
'কিশোর সমগ্র ' বইয়ে " কুসুম ফোটার বেলা' উপন্যাসে লেখিকা সময়ের আলোকে ধনী উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত
পরিবারের সংসারে জীবন যাপন বর্ননা করেছেন। গল্পে দুই কিশোর চরিত্র জুঁই ও গুলরুখের জীবন
যাপনের অবস্থা তুলে ধরেছেন। জুঁই মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছে যেখানে সাধাসিধে সাধারণ জীবন প্রণালী
অপরপক্ষে গুলরুখ উচ্চবিত্ত পরিবারে নানান ব্যায়বহুল জীবন যাপন করেন। নিয়মের ছকে সাধাসিধে
জীবন যাপনের পরও জুঁই লেখাপড়ায় ভালো এবং বাস্তব জগত সম্পর্কে জানার প্রবল ইচ্ছা
প্রকাশ পেয়েছে। আপন বান্ধবীর উচ্চ বিলাসবহুল জীবন যাপন দেখে
জুঁইয়ের মনে কষ্ট ও অভিমান কাজ করে। আবার মুরুব্বিদের উপদেশমূলক কথা শোনার পরে তার
অভিমান উরে যেত মন থেকে। মাঝে মধ্যে জুঁই বাবা মায়ের সাথে বড় বড় ফাস্টফুড রেষ্টুরেন্টে
খাবার খেলেও তার বাঙালি খাবার সবজি মাছ ভাত তার কাছে অতুলনীয় মনে হয়। আকাশ সংস্কৃতির মাঝেও
সে বাবা-মায়ের কাছে রূপকথার গল্প শোনে। জুঁই তার বান্ধবী গুলরুখের কাছ থেকে সায়েন্স
ফিকশন নিয়ে আসে । কিন্তু তাকে এসব তেমন টানে না, তার কাছে জীবনমুখী বাবা-মায়ের বলা নীতি আদর্শের উদাহরণ ও
গল্প শুনতেই বেশি ভালো লাগে। জুঁই মামার কাছে বাংলাদেশের ভ্রমণ ঐতিহ্য
সমৃদ্ধ সব জায়গার গল্প শোনে। একজন কিশোরীর জীবন বিকশিত হওয়া বিদ্যার আলোয়
বেড়ে উঠা সবকিছু ' কুসুম ফোটার বেলা ' উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। মির্জা পরিবার ছিল
বিদ্যা পিপাসু ভ্রমণ পাগল। কিশোরী তরুণ জুঁই মামার সাথে দেশের বিভিন্ন সমুদ্র সৈকত ঘুরে ফিরে জীবন কে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। মামা ঢাকার কাছাকাছি
পারিবারিক .ভ্রমণে মা জুঁই কে সোনারগাঁও
ঘুরাতে নিয়ে গেলে বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্যে সুলতানী আমল সম্পর্কে শিক্ষণীয় তর্থ্য দেন। এই আমলে বাংলার জগৎ
বিখ্যাত পণ্য তাঁতে তৈরি মসলিন শাড়ি সম্পর্কে বর্ননা দেন। জুঁই মায়ের কাছে জীবনের সুখ-দুঃখের স্মৃতিগুলো শুনে জীবন কে বিকশিত করার চেষ্টা
করেন। জুঁইদের এখন কুসুম ফোটার বেলা।
একটি ফুল ফোঁটার সৌন্দর্যের মাঝে একটি পরিবারের
বৃত্তে ঐক্যের বন্ধনে ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। ' কিশোর সমগ্র ' বইয়ে নিশিপদ্ম ফুটেছিল সেই রাতে উপন্যাসে অধ্যাপিকা মনিরা
হাসান তার কিশোরী মেয়ে রাস্নাকে খুব যতেœ শিক্ষিত মানুষ রূপে গড়ে
তুলতে চান। মেয়েকে তিনি যেমন প্রকৃতির মাঝে আলোকিত
পরিবেশে পাঠ দেন কিন্তু ছেলে রাতুল কে সেভাবে পান না। ছেলে প্রযুক্তির মাঝে
নিজেকে বিকশিত করতে চায়। মা মেয়েকে ফুলের বাগানে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন
ফুলের সাথে পরিচিত ঘটান। রাস্না ফুলের বাগানে বিভিন্ন ফুলের মাঝে
প্রজাপতির উড়ে চলা দেখে নিজেকে নতুন সৃষ্টিশীলতায় আরোহন করেন এবং মনে মনে ভাবনার
আকাশে নিজেকে একজন কবি- সাহিত্যিক রূপে
দেখতে চান। রাস্না চাচার সাথে দাদু বাড়ি রংপুরে গিয়ে দাদু
ভাইয়ের সাথে দাদুর নির্মিত ফুলের বাগান
পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফল গাছের সাথে পরিচিত হন। এক পর্যায়ে দাদুর কাছে
বট আর অশ্বত্থ গাছের পার্থক্য জানতে পারে। আরো জানতে পারে কলকাতায় শিবপুর বোটানিক্যাল
গার্ডেনে দশ বছর বয়সী বটগাছের রয়েছে ১১০০ ঝুুরি। এশিয়ার সবচেয়ে বয়স্ক
চারশ বছরের পুরানো বটগাছ যশোর জেলার কালিগঞ্জে অবস্থিত। রাস্না দাদুর কাছে
সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে অনেক তর্থ্যমূলক খবর জানতে পারে। দাদু নাতনি কে বলে পঞ্চাশ
বছরের বটগাছ ২৫ লক্ষ্য টাকার অক্সিজেন যোগান দেয়। ছাতিম গাছের কাঠ দিয়ে
ব্ল্যাকবোর্ড তৈরী হয়। এই গাছের ডালের বাটে বাটে থাকে ৫/৭ টি পাতা, তাই একে সপ্তবর্ণীও বলা হয়। রংপুরে গিয়ে রাস্না
দাদা দাদীর কাছে জীবনমুখী অনেক শিক্ষা লাভ করে। 'কিশোর সমগ্র ' তরুণ ও কিশোরদের জন্য
শিক্ষণীয় এবং জীবন গঠনের জন্য শিক্ষা মূলক বই। দিলারা মেসবাহ এই
সমাজের মানুষ হয়েও তাঁর অন্যদৃষ্টিতে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা অতুলনীয়। বিশেষ করে 'কিশোর সমগ্র ' বইয়ে তিনি পিঁপড়ের জীবন কাহিনী নিয়ে একটি অসাধারণ
অনুভূতির সাথে বিরল উপন্যাস রচনা করেছেন। মানুষের মত পিঁপড়েদের বসতবাড়ি ও জীবন সংগ্রাম
তুলে ধরেছেন। পিঁপড়েরাও মানুষের মত জন্মদিন পালন করে। তারাও অনেক সংগ্রাম করে
পৃথিবীতে টিকে আছে তার অসাধারণ বর্ননা পাওয়া যায় এই উপন্যাসে। পিঁপড়ে সম্প্রদায়ের
সবচেয়ে বয়স্ক ও বুদ্ধিমান পিঁপড়া 'পিপিলি'। তারাও মানুষের মতো পাটি জনসভা করে । একদল পিঁপড়া অন্য
সম্প্রদায়ের সাথে মিটিং মিছিল করে
স্বীকারোক্তি দেয়- " আমরা তো নেহায়েত
প্রাণ বাঁচাবার জন্য মানুষের শরীর কামড়ে দেই । লোকালয়ে যাই পেটের
জ্বালায়। একটু চিনি পাউরুটি বিস্কিটের টুকরো পেলেই বর্তে যাই। তড়িঘড়ি শুঁড়ে করে নিয়ে
পালিয়ে আসি শুধুই পেটের ধান্দায়। " এক যে আছে পিঁপড়ে
উপন্যাসে লক্ষ্য করা যায় পিঁপড়েদের জীবনে মৃত্যু ও দূর্ঘটনা নেমে আসে। সামান্য বার্গারেরব
গহবরে পড়ে শখানেক পিঁপড়ে নিহত হয়। তাদের দলনেতা সিসিলি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং
অন্য পিঁপড়েদের সাথে নিয়ে শোক সভায় সিসিলি বলে কীটপতঙ্গের মৃত্যুর পরে মানুষ্য
সমাজের মত সওয়াল জবাব বিচার নেই। আরো লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে পিঁপড়েদের আত্মরক্ষার
জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। দলনেতা পিপিলির তত্ত্বাবধানে যাতে পিঁপড়েদের
প্রাণহানী ক্ষতি না হয় সেজন্য পিঁপড়ে পল্লির গবেষণা কেন্দ্রে পিঁপড়েদের প্রশিক্ষণের
ব্যবস্থা করা। পিপিলি তার সংগ্রামী জীবনে বন্ধু হিসাবে
পেয়েছিল সিসিলি কে। তাদের জীবন সংগ্রামে পিপিলি ও সিসিলি মিলে
প্রতিজ্ঞা করে - "আয় বন্ধু আমরা কোনদিন পরস্পর কে ভূল বুঝব না। নিউ পল্লি পিঁপড়ে সমাজে
সবার শান্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। " তার পরে তাদের স্কুল
জীবনে শেখা গান গলা ছেড়ে গায় আমরা করব জয়, আমরা করব জয় একদিন।
'কিশোর সমগ্র ' বইয়ে তুপুল আর টিফিন বাক্সের গল্পে লক্ষ্য করা যায় মারুফা তার স্কুল বয়সী সন্তান তুপুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য দামী
দামী সব টিফিন বাক্সে প্রতিদিন খাবার পাঠান যেন সন্তান ঠিকমতো খায়। কিন্তু সন্তান একদিনও
টিফিনবক্সের খাবার ঠিকমত খায় না। তুপুল ক্লাসে স্যারের কাছে শুনেছিল জীবে দয়া যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। তাই সে তার টিফিনের খাবার কুকুরের সাথে খেলার
ছলে খাওয়ায়। এই দিকে মা ছেলের এই কান্ড দেখে দুঃশ্চিন্তা ও
কান্নায় ভেঙে পড়েন।
'কিশোর সমগ্র ' বইয়ে লেখিকা "মোনাব্বর ও স্বাধীনতা দিবস " গল্পে
স্বদেশের ইতিহাস, জীবন ও
স্বাধীনতা নিয়ে নৈতিক শিক্ষার আলো
ছড়িয়েছেন। এই গল্পে একটি শিক্ষিত পরিবারে স্বাধীনতা
দিবসে বাবা সাজেদ খান খাবার টেবিলে তার ছেলে মেয়ে অনু ও অপুকে বলেন,-"তোমরা তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। আজ স্বাধীনতা দিবসে
বিকেলে 'সিরাজুদ্দৌলা' নাটক মঞ্চস্থ হবে। তোমাদের পলাশীর
প্রান্তরে মীরজাফরদের বিশ্বাস ঘাতকতায় বাংলার স্বাধীনতার দুঃখের অধ্যায় কাহিনী
শোনাবো। তারপর
অনেক উত্থান-পতন শেষে দুইশ বছর ইংরেজ শাসন অবসান হয়ে অনেক ঘটনা প্রবাহ শেষে
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ নতুন করে স্বাধীনতা অর্জিত হয় বাংলার। গল্পের মাঝেই এভাবে
কিশোরীদের ইতিহাস শিক্ষা লক্ষ্য করা যায়। গল্পের আরেক নৈতিকতা শিক্ষা পাঠকের চোখে পড়বে
অপু মা বাবাকে বলে তাদের কাজের লোক মোনাব্বের ও লালমতি যেন তাদের সাথে স্বাধীনতা
দিবসে নাটক দেখতে যায়। অপু হাসতে হাসতে বলে- " আজ আমরা লুচি
খাবো না। খেলে অনুষ্ঠান শেষ করে এসে খাবো। মা, স্বাধীনতা দিবসে মোনাব্বরের স্বাধীনতা দেবে না? ঘরে ঘরে মানুষের স্বাধীনতা না দাও তবে স্বাধীনতা দিবস করার
কি মানে হয়? মাজেদ সাহেব মেহগনি দরজার ওপার থেকে ছেলের কথা
শুনে খুশি হয়ে উঠেন, তিনি বলেন- "ফাহমিদা শুধু মোনাব্বর নয়
লালমতির মাকেও আজ ছুটি দিয়ে দাও। স্বাধীনতার স্বাদ ওরা পাক "। [মোনাব্বর ও স্বাধীনতা
দিবস /২২৭ ]
'কিশোর সমগ্র ' বইয়ে লেখিকা একটুকরো বাংলাদেশ গল্পে বিদেশী বিভূঁইয়ে প্রিয়
বাংলাদেশ কে উপস্থাপন করেছেন। গল্পে লেখিকা দেখিয়েছেন বাঙালি সংসারে একে
অন্যের প্রতি নির্ভরতা, ভালোবাসা, স্বদেশ প্রেম ও দেশের
ইতিহাস ঐতিহ্য জানতে শেখা। সুদুর আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালি পরিবারে কিশোর
চরিত্র পিয়ালের যুদ্ধের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ ও শান্তির আকাংখা লক্ষ্য করা যায়। পিয়াল তার মাকে এসব
যুদ্ধ বিরোধী উক্তি প্রকাশ করলে মা বলেন - " শোন বাবা এ পৃথিবীতে সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ, শান্তি-অশান্তি
পাশাপাশি আছে। আমরা যদিও আমেরিকায় বসবাস করছি কিন্তু মনটা
পড়ে থাকে সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের মাটিতে। আমাদের দেশেও যুদ্ধ মারামারি নানা হাঙ্গামা
হয়েছে কতবার আবার শান্তি এসেছে। সেসব ইতিহাস তোমাকে শুনতে হবে। আসছে ফেব্রুয়ারী মাসটি
মহান ভাষা আন্দোলনের মাস এরও আছে কত ইতিহাস "। [এক টুকরো বাংলাদেশ/২৪৩]
লেখিকা গল্পের এই গভীরতায় কিশোরদের মাঝে দেশের স্বাধীনতা ও ভাষার ইতিহাস
ও ঐতিহ্য তুলে ধরার নিবিড় চেষ্টা করেছেন। যা সত্যিই সময় উপযোগী ও শিক্ষণীয়। কিশোর পিয়াল তার মায়ের
কাছে বাংলা ভাষার ইতিহাস, ১৭ই নভেম্বর ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর ৩১তম
সন্মেলনে ' একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
স্বকৃীতি এবং ভাষা শহীদের ভাষার জন্য আত্মত্যাগ সবকিছু জানতে পারে। আরো জানতে পারে একুশের
অমর গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে
ফেব্রুয়ারির। আমি কি ভূলিতে পারি? এই গানের রআয়িতা আব্দুল
গাফফার চৌধুরী।
'কিশোর সমগ্র ' বইয়ে লেখিকা "গোলাপ ফুপুর বাড়ি" গল্পে একজন শহরের
বেড়ে উঠা তরুণ কিশোর গ্রামীণ পরিবেশে ফুপু ও ফুপার আতিথিয়েতা, ভালোবাসা সর্বোপরি গ্রামীণ পরিবেশে ছয়টি ঋতু, প্রকৃতির মাঝে গ্রাম, নদীনাল, খাল-বিল,পুকুর-ডোবা, সবুজ ফসলের মাঠ, বাগান সবকিছু অবলোকন
করে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার চিত্র তুলে ধরেছেন। গল্পের কিশোর
টুপুর ফুপুর বাড়িতে গিয়ে পুকুরে মাছ ধরতে
গিয়ে পানিতে ডুবে বিপদের সম্মুখীন হন। আবার ফুপার উৎসাহে ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপদ
থেকে উদ্ধারের জন্য সাঁতার শিখে তারুণ্য
কে জয় করেন।
অন্য রকম ঈদ গল্পে দুই জন শহরের কিশোর বন্ধু
বড় শহরে বড় শহরে মা-বাবার সঙ্গে ঈদ উৎপাদন না করে মাঝারি শহরে দাদুর বাসায় ঈদ উৎসব
পালন করার জন্য ঠিক করে। গল্পের দুই চরিত্র ফয়সল
ও তানজিম দুইজন বুজম ফেরেন্ডের এক হরিহর আত্মা। দুজনেই মা-বাবাকে বলে
তানজিমের দাদার বাসা রংপুরে বেড়াতে আসে। তারা ঈদ উৎযাপনের পায়রাবন্দ যাবে ঈদের দিন। দাদাজীর কাছে পায়রাবন্দ
সম্পর্কে জানতে পারে। নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়ার জন্মভূমি
পায়রাবন্দে। দাদার কাছে আরও জানতে পারে এখানে স্কুল, লাইব্রেরি, স্মৃতি স্তম্ভ আছে। বেগম রোকেয়ার মূল বাড়ীর
সামান্য অংশ বিশেষ রয়েছে। ফয়সাল ও তানজিম দুজনেই দাদাজানের সাথে
কুরবানির গরু কিনতে যায় হাটে এবং গরু কিনে আনার পরে দাদার কাছে কুরবানির ধর্মীয়
শিক্ষা সম্পর্কে জানতে পারে। এখানেও লেখিকা নৈতিক শিক্ষার আলোকপাত করেছেন। দাদাজান কুরবানী
সম্পর্কে বলেন- "এই কুরবানি নিয়ে অনেক কিছু জানার আছে তোমাদের। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার
প্রিয়তম পুত্রকে কুরবানি করার জন্য স্বপ্নে আল্লাহর আদেশ পান। তিনি প্রিয় পুত্রকে
কুরবানি করার জন্য প্রস্তুত হন আল্লাহর খুশির জন্য। এই সময় তিনি আল্লার তরফ
থেকে আদেশ পান, তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ । তখন তিনি প্রিয় পুত্রের
বদলে দুম্বা কুরবানি দেন। সেই থেকে চারপা অলা হালাল পশু কোরবানি
মুসলমানদের জন্য ফরজ হয়। এই ঈদ শুধু উৎসব আনন্দের নয়,ত্যাগ ও তিতিক্ষারও শিক্ষা দেয়। [অন্য রকম ঈদ /৩৩২]।
দিলারা মেসবাহ 'কিশোর সমগ্র ' বইয়ের শেষে " দরজা খুলে যায়" গল্পে কিশোর মিজান
শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় দাদু ভাইয়ের সাথে দেখা হলে দাদা বলেন এই রাত
বিরাতে কোথায় যাচ্ছ - তখন মিজান শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার কথা বলেন। দাদা তাদের শহীদ
মিনারের ইতিহাস ও ভাষা শহীদদের অবদানের কথা
বলেন- " ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাভাষাকে মাতৃভাষা করার দাবীতে
বাঙালিরা এই আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে এবং
বুকের তাজা লাল রক্ত ঢেলে দিয়ে জয়যুক্ত
হন। পাকিস্তানি সরকার চেয়েছিল রাষ্ট্র ভাষা হোক
উর্দু। বাঙালিরা এই দাবী কোনমতেই মেনে নিতে রাজী নয়। শেষে ছাত্রদের উদ্দাম
মিছিলে গুলীবর্ষণ হয়ে প্রাণ হারান সালাম বরকত রফিক জব্বারসহ কটি নক্ষত্র মতো
উজ্জ্বল তাজা প্রাণ। জ্বলে উঠা বাংলাদেশে মায়ের ভাষা কেড়ে নেবে
সাধ্য কার। শেষ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা করতে বাধ্য হয়। [দরজা খুলে যায়/৩১৫]। মিজান দাদার কাছে আরও জানতে পারে একটি গর্বের
খবর মঙ্গল গ্রহে প্রেরিত মার্সসহ দুটি রোভার (স্পিরিট ও অপরচুনিটি) তে
বাংলায় 'মঙ্গল ' লেখা রয়েছে। এখানে ইংরেজি সহ ১৭টি ভাষার একটি হচ্ছে বাংলা। তাইতো বাংলা আমাদের
প্রাণের ভাষা।
একজন ভালো কবি-লেখক ভালো শিশুতোষ গদ্য শিল্পী। এ কথার সত্যতা ' কিশোর সমগ্র ' এর প্রতিটি পাতায় পাতায়
মিলবে। ' কিশোর সমগ্র ' এ লেখিকা কিশোরদের
নিয়ে লিখতে গিয়ে দেশের প্রতি দেশপ্রেম
জাগাতে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ভাষা, মুক্তি যুদ্ধ, ভাষা শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা, কবিতা, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, বেগম রোকেয়া, কোরবানির ইসলামি
ধর্মবোধ সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। আমাদের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ, বাংলার প্রকৃতি, আতিথেয়তা, ভ্রমণ, জীবন বোধ, পিঁপড়েদের জীবন কাহিনী সবকিছু সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন।
সবকিছু মিলিয়ে একটি অসাধারণ কিশোরদের এ্যাডভেঞ্চার ও শিক্ষা মূলক শিশুতোষ সাহিত্য 'কিশোর সমগ্র '। লেখিকা দিলারা মেসবাহ এর গল্প-উপন্যাস বলার ভাষা, বক্তব্যের পরিমিতিবোধ অসাধারণ ও শিক্ষনীয়। একটি ভৌতিকতার মাঝে কিছু খুশি মেশানো এক অনবদ্য সৃষ্টি। যা কিশোর তরুণদের জীবনে নবজাগরণ এবং ভালোবাসা সিক্ত রোদ্দুর হয়ে পাঠকে আলোকিত
কিশোর সমগ্র
দিলারা মেসবাহ
প্রকাশনঃ শিল্পতরু প্রকাশনী

0 Comments