তুষার ভট্টাচাৰ্য’র কবিতা




ব্যর্থ কবি জন্ম


তারপর আকাশ দিগন্তে উড়ে গেলে দুঃখের সব খড়কুটো,
ব্যর্থ কবিজন্ম জেগে ওঠে
ভোরের বকুল, রজনী গন্ধা বাতাসে ;
বিবর্ণ পাণ্ডুলিপির পাতায় পাতায়
উঠে আসে কলকল ঢেউ তোলা
পায়ে ঘুঙুর বাঁধা একটা নদী,
আর রাতপরিরা নীরবে শুনিয়ে যায় ভালবাসার গান ;
ব্যর্থ কবি জন্ম আবার জেগে ওঠে নতুন স্বপ্ন বুনে l 





শিকড়ের মায়াটান

বীজপত্রের ভিতরে লুকিয়ে রাখি ভাঙাচোরা জীবনের অপূর্ন সব
সাধ স্বপ্নগুলি ;
চারপাশে হিমেল শীতার্ত বাতাসে শুনি
হলুদ শুকনো ঝরাপাতার মর্মর গান ;
আহত পাখির দু'ডানায় দেখি  -
লেগে আছে যন্ত্রণার কত ক্ষতচিহ্ন ;
তাই ভাঙাচোরা ব্যর্থ জীবন আমি ধুলো,
বৃষ্টি, বেগুনি রোদ, বরফ, লবনাক্ত সফেন সমুদ্র হাওয়ার আঘাত থেকে,
আড়াল আবডালে লুকিয়ে রাখি বীজপত্রে,
আমার শিকড়ে ;
বুকের ভিতরে জমিয়ে রাখা অনন্ত আকাশ কুসুম স্বপ্নগুলি আমি দিয়ে যাবো
শিকড়ের মায়াটানে সন্তানের হাতে l




ভয় পাইনা

রাত্রির নিঝুম অন্ধকার ডানার আড়ালে অমোঘ মৃত্যুর
পরোয়ানা নিয়ে যে লুকিয়ে থাকে থাকুক
আমি আর ভয় পাই না ;
কেননা শৈশবের কাশবন, জল জংলা, খাল বিল, ধূ --ধূ নদীচর পেরিয়ে
আমি দুরন্ত পায়ে
একছুটে চলে যাই - মাঞ্জাকাটা  ভোকাট্টা
রঙিন ঘুড়ির পিছনে ;
আমার হাতে ধরা থাকে রোদ্দুরের
বর্শাফলক,
আমাকে মারবে কে ? আমি তো
আজন্ম এক প্রেমিক বাউল ,
যে ক্ষ্যাপার মতন খুঁজে বেড়ায় 
ওই দিগন্তের আকাশতলে
ভালবাসার এক  খিড়কি দুয়ার l






একদিন চলে যাবো

অপমানিতের সমস্ত দুঃখ নিয়ে একদিন চলে যাবো দিকশূন্যপুরে
নিরুদ্দেশে ;
যাবার আগে তোমার হাতে দিয়ে যাবো
ভালবাসার স্মৃতির পতাকা l




পলিমাটির শরীর

অশ্রু অভিমান মুছে আমাকে যে দেবে
দু'দন্ড ভালবাসার নিবিড় আশ্রয় -
ছায়া
চৈত্র বাউল আমি তার কাছে নীরবে
ফিরে যেতে পারি দ্বিধাহীন ;
সে যদি আমাকে দেয় খুলে সংগোপনে 
পলিমাটির শরীর
আমি তবে তাকে
শোনাতে পারি একতারায়
ভালবাসার ঝুমুর গান l










.............................................................................
তুষার ভট্টাচাৰ্য 
পো: কাশিমবাজার l বহরমপুর l
জেলা: মুর্শিদাবাদ l পশ্চিমবঙ্গ l 
২৮/০৮/২০২১ বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে কবিতা লেখেন l দুটি কবিতা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে কলকাতার সিগনেট প্রেস ( প্রযত্নে -আনন্দ পাবলিশার্স ) থেকেl মুর্শিদাবাদে থাকেন l

Post a Comment

0 Comments