ঘুমগ্রহ
সখের মিটার, বাঁচার আলাপ।
ঢেউ চোখে বুনোফুল কাঁচা কাগজের
আত্মসমর্পণ করে এমন কতোদিন—
আলাপসহ পোঁটলা স্তুপ করে।
বালিশের ঠোঁটে : সেদিন সব মনে থাকে।
জমতে থাকে ঝাঁক দেয়া কাঁঠালের ডাঁট
পুঁইশাক যেমন কোরে যায়গা দেয় পাতে..
আলাপ বাড়ে, কবিতা পড়ায় স্তুবক।
কিরকম জানা নাম অজানা থাকে ভুলে।
জীবনবৃত্তান্ত
জীবন বলতে দেয়ালে-দেয়ালে হাত রেখে চলি
সুন্দর মখমলে নিজে থাকি হ্যাঙ্গার হয়ে
ঠোঁট থাকে চাবুকের মতো;
কথা যেমন প্রেমের গল্প, নদীর হাওয়া!
মনের খোঁজ যেমনটি নৌকো হয় :
বাক্সের গানে ভরপেট থাকে হজমের স্বাদ
চোখের বালিশে প্রেমিক নিজস্ব
আকাশের চোখে চেয়ে বলি,
আমরা পছন্দ করি মিথ্যের শ্লোক
পকেটের কাঁটা হাত, নাক অথবা শক্ত শ্লোগান।
আহবান
হৃদয়ের স্বরে চৌকাঠটি জমে
বিলি করছে অনাড়ম্বর মেঘ ঘর ভরে
গৃহস্থের সংসদ পাঠের রঙে এঁকে
পাখিরা হাওয়ায় ভরে নিয়ে এলো বৃষ্টির জামবাটি।
খাবি খাওয়া ঠোঁট চাষাবাদ করে
এঁটেল-আঁশটে গরম স্নেহ
পরম তৃপ্তি পেয়ে ঘুমিয়ে যায় যেখানে
...তেমন আকাশ মাঝেমধ্যে মেঘলা হোক।
সাময়িক
ভালোলাগা-সখ মেঝেতে পেতে বসি
আমার বেড়ানো চোখ ঘুরপথে থাকে
দূরবর্তী শৈশব যেকোন লম্বা নদী
প্রেমের মতো বইতে থাকে।
ঘুমের নামে সিঙাড়া কিনতে যাই
চায়ের হাতে রাখি নিজেকে, দাঁড়িয়ে
ক্লান্তির মেমসাহেব ছোঁয়াচে অসুখ হয়ে আছে
মাঝেমধ্যে তুমিও বইতে থাকো
মাঝরাস্তায় ঘুম ভাঙে
সমস্তদিন সমস্তরাত
আমার সমস্ত দিন চোখ বন্ধ করে আছে
দ্বিতল বিদ্ধবাহু, আদলে প'রে কুয়াশা-চাদরের
দিনতারিখ বদল করে ঘুরে আসার অবসর
আশ্চর্য বাড়ি ফেরার সময় য্যানো
শ্রাবণের মতো, এলোপাথারি বারান্দা ইটের দেয়াল
শুকনো চুনকাম দুটো পাখির বাসা বুণে
ঠোঁট আবৃত পোতাশ্রয়,
কেবল নীল জলের যৌথচক্করে দখল চাইতে থাকি।
তোমার চোখ আমার চোখ থেকে দূরে-
প্রচণ্ড জড়ভিক্ষে সবটুকু তুলে রাখে
সাহস নিয়ে বেঁচে থাকার বালিশে তুলো ভরিয়ে রাখি।
............................................................................
সিয়ামুল হায়াত সৈকত
কবিতাকর্মী।
স্থায়ী ঠিকানা- উলানিয়া, মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল
বর্তমান ঠিকানা - কাটাসুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
সম্পাদনা - কবিতা বিষয়ক অনিয়মিত ছোটপত্রিকা 'শূন্য : কবিতায় ভাস্বর'
প্রকাশিত পকেটবুক - প্রেম ও একিলিসের ঘোড়া (বার্তা প্রকাশন,কলকাতা) (২০১৭)

0 Comments