মানুষ মারা বৃষ্টি ও ঠোঁট
ফুলের অতীত থাকে না
বিলিয়ে দিতে ফোটে সমস্ত সৌরভ।
আনন্দ মূলত নারীর গল্প বলে
যা ছাড়া পৃথিবীর কোন অর্থ হয় না।
জল নদী সমুদ্র ছাড়া ছাড়া
বৃষ্টির বিশেষ অস্ত্র নেই
তবুও মাঝে মাঝে নামে
মানুষ মারা যুবতী বৃষ্টি।
ঠোঁটেও থাকে না চুমুর অমরত্ব
তবুও মানুষ দেখলেই ফোলে ওঠে
কারও কারও মানুষ মারা ঠোঁট।
পুরাকীর্তি
দৃশ্যত একটি নদী, পূর্ণিমা পড়তেই
রুমালে বসে অঙ্কন করে সুগন্ধলিপি
ওঠে নামে খেলা করে জলে
তার ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাসে মৃত
রজনীগন্ধা ঢেলে দেয় রাত্রির যৌবন
পালকে-পালকে সৃষ্টির হাওয়া
আবরণ সরিয়ে দেখায় পৃথিবীর পুরাকীর্তি
দুয়ার খোলে জোয়ার তোলে মুখ
তবুও কী বিষন্নতায় আকাশ কাঁদে
রঙ মুছে চিৎকার করে
পৃথিবী বয়সী ফোঁটা ফোঁটা রক্ত।
বিশ্বাস /অবিশ্বাস
জন্মের পর কখনও ঈশ্বরে
অবিশ্বাস করিনি।
এইযে মহাকাশ সূর্য চন্দ্র তারা
দিন এবং রাতের ফারাকে
একটা অদ্ভুত আঙুল
চোখের দিকে তাক হয়ে বলে
"ফাবি আলাইয়ি রাব্বিকুমা তুকাযজিবান।"
কিন্তু এখন মায়ের সামনে দাঁড়ালে
ঈশ্বরে বড্ড অবিশ্বাস হয়
বাবার সামনে দাঁড়ালে মনে হয়
ঈশ্বরের দয়ামায়া বলতে কিছু নেই।
বাড়ি
বিষন্ন মাটির কণা
চিরকালের নতুন অতিথি
হেঁটে যায় রোজ নব উদ্যানে।
আয়ুরেখা খুঁড়ে খুঁড়ে
চোখের জলায় নির্মাণ করে
আচানক বাড়ি।
আদত বাড়ি বলতে বোঝায়
ইচ্ছে করে ভুলে থাকা ঘর
পূর্বপুরুষের মাংসের দানা।
আমার শৈশব
আমার শৈশব একটা বোতামহীন শার্ট
একটা ভাঙা পেন্সিলে মৃত নদীর ঘ্রাণ নিয়ে
বয়ে চলা সাদা কাশবন
আমার শৈশব একটা আন্তঃনগর ট্রেন
বুক কাঁপানো হুইসেল
একঝাঁক শালিকের পাখিকে বাসা।
আমার শৈশব একটা দুর্ভিক্ষের শিবির
ক্ষুধার নানারকম চিত্রশালা
বেঁচে থাকার বোতাম নিয়ে
অসহায় জননীর অন্তহীন ছোঁটা।
আমার শৈশব এখনও আমার মতো
কান্নার মাংসে ডোবে যাওয়া জ্বলন্ত নদীতে
দু'হাত তোলে একজন ঈশ্বর খোঁজা।
পৃথিবী এক হাসপাতাল
শ্মশানঘাট পেরিয়ে নদীর ঘাটে যাই
নদীতে ভাসে মানুষ পোড়া ছাই।
অতীতে বা ভবিষ্যতে
কখনও এক পয়সার শত্রু কিনিনি
তবুও প্রতিরাতে শুনি রোদনধ্বনি-রক্তধ্বনি।
উন্মাদ ঘোড়ার শব্দে খোলে যায় কসমিক দুয়ার
হৃদপিণ্ডে ঝড় তোলে টর্নেডো-হ্যারিকেন
গাঙের বাতাস ধরে আসে খবরের ট্রেন
দীর্ঘশ্বাসে খোদাইকৃত শত বছরের শিল্পকর্ম
চিত্রের চোখে ফুটে যে গণিতের ফুল
শিম্পাঞ্জি হাসতে-হাসতে কয় তা বানরের বাল
পাথরের ঢেউ ভেঙে মাছেরা দেয় বাঁচার সাঁতার
অরণ্যের শেষ পাগলের বিবৃতি পৃথিবী এক হাসপাতাল।
...............................................................
কবি পরিচতিঃ
দালান জাহান
একজন কবিতাকর্মী। তিনি ১৯৮৩ সালের ২০ অক্টোবর ময়মনসিংহে জন্ম গ্রহন করেন।
পড়াশোনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে নিয়ে। তার প্রকাশিত গ্রন্থ চারটি।

1 Comments
অতি সুন্দর।
ReplyDelete-সালিমুল