মৃত্যু
সব ঐশ্বর্যের ভেতর মৃত্যু রাখি
মৃত্যু এসে কাঁকন বাজায়
বিকেলের ধূসর চায়ের দোকানে
মৃত্যু ও শীতকাল অপেক্ষায়
আছে
আমি লজ্জানত
নিজেকে তাদের পাশে চুপচাপ রাখি
সিলেবাস
কেউকে বলার কিছু নেই
ইতিহাস উড়িয়ে দিয়েছে পতাকা
আমরা শুধু সিলেবাস জেনে নিই
আর লুকিয়ে রাখি ধ্বংসাবশেষ
তদন্ত
আমরা বলেছি তদন্ত হোক
নিরপেক্ষ বাঁশি যদি বাজে
তবে সবাই খেলুড়ে হব
এই মাঠে, মানবিক মাঠে....
সমর্পণে এসেছি আজ
তোমার হাতে কি বজ্র আছে?
তাই দিয়ো আমার মাথায়।
ভিজছি একা এই মাঠে
ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢাকা।
সমর্পণ লিখে দিয়েছি
আলোহীন,গৃহহীন,রাস্তাহীন পৃথিবীতে
তোমার মেঘ,তোমার বজ্র,তোমার আকাশ
যা ইচ্ছে হোক , যা ইচ্ছে হোক...
প্রেমের আয়নায় তোমারই মুখ
আমিই বা কে ? আমিই বা কে ?
মিলিয়ে যাচ্ছে আলোর বিন্দু
সিন্ধু হচ্ছে মাতাল ঢেউয়ে
তরণি নেই , ভিজছি একা
সমর্পণে এসেছি আজ....
বৃক্ষমানুষ
আমার প্রহরী ওরা, সভ্যতার প্রহরী
রোজ কাঁদে, রোজ ডাকে
বাঁচার আশ্বাস চায় আমারই কাছে
প্রত্ন-তপোবন থেকে বাণপ্রস্থের পথে
রোজ হেঁটে যাই আমি
আদি-অন্তহীন এই সনাতনভূমি জুড়ে
বৃক্ষের সংলাপ শুধু সবুজ সংকেতে
শরীর বল্কল খুলে সঙ্গম প্রত্যাশী হয়
এক একটি নবজন্মের পুষ্প হতে
আমিই বৃক্ষ, আমিই বৃক্ষমানুষ সর্বংসহ
আমাকেই স্পর্শ করো
আমার আত্মার ধ্বনি বাজে অহরহ।
তৈমুর খান
জন্ম: ২৮ জানুয়ারি ১৯৬৭, বীরভূম জেলার রামপুরহাট সংলগ্ন পানিসাইল গ্রামে ।পিতা ও মাতার নাম :জিকির খান ও নওরাতুন ।শিক্ষা :বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে মাস্টার ডিগ্রি এবং প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতা নিয়ে পি এইচ ডি। পেশা :উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহশিক্ষক । প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ : বৃত্তের ভেতরে জল, জ্যোৎস্নায় সারারাত খেলে হিরণ্য মাছেরা, নির্বাচিত কবিতা, উন্মাদ বিকেলের জংশন, স্তব্ধতার ভেতর এক নিরুত্তর হাসি, নির্ঘুমের হ্রস্ব ধ্বনি, কাহার অদৃশ্য হাতে, ইচ্ছারা সব সহমরণে যায়, আকাঙ্ক্ষার ঘরের জানালা ইত্যাদি । পুরস্কার :কবিরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার, দৌড় সাহিত্য সম্মান এবং অক্সিজেন সাহিত্য সম্মান । ঠিকানা : রামরামপুর, শান্তিপাড়া, রামপুরহাট, বীরভূম, পিন কোড ৭৩১২২৪, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

0 Comments