একটা শিশুর শ্বাস-কষ্টের দিন তোমার দিকে উড়ে যাচ্ছে। তুমি কোমল হও। যেনো ফুল ঝরে যাবে, জানবে না গাছটির পাতাও। তবুও অন্ধকার, রমণীর কান্নার স্বরে, ক্রমশ ভারী হয়ে উঠবে বাতাস। ফলশ্রুতিতে আমি তোমার দিকে ধাবিত হবো।
যেভাবে একটা বিড়াল সারা রাত ধরে খুঁজে ফেরে প্রিয় হাড় ও মাছের কাঁটার চিহ্ন। এই তাদের স্বভাব, আমাকে ভেবো না বিপরীত, ইতরের মতো তোমার গা ঘেঁষে থাকবো, ঝুলে থাকবো কানে ঝুমকো জবা হয়ে। সুন্দর, আমাকে করো তোমার চোখের কাজল করো, রয়ে গেলো আবদার, যদি এড়িয়ে যাও, তবে জেনো অভিশাপ।
ঢেকে যাচ্ছে মুখ, তুমি চিনবে না, এতো কদাকার হয়ে যাচ্ছি, আমাকে দেখে আশ্চর্য হয়ো না। কেবল একটা মানুষের মতো বর্ণনা করছি, নিজেকে শিকারের পদ্ধতি।
স্বপ্নের ভেতর রাজহাঁস
তোমাকে বর্ণনা করতে পারেনি আমার কবিতা। তুমি সৌন্দর্যের দেবী, আমার অন্ধত্ব দূর করো। তোমাকে ভালবাসার শর্তে দু-কাঁধে পাহাড় বহন করছি। সন্দেহ পোষণ করো না, শরীরের কোষে কোষে ছড়িয়ে পড়েছে মরণ ব্যাধি। দাঁড়িয়ে রয়েছি, মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে ছিলাম গুহায়, তুমি কি পাঠিয়েছিলে ঝুড়ি ভরা ফলমূল, কৃতজ্ঞতা জেনো।
আমার সমস্ত শব্দ জুড়ে তুমি। যেনো হন্তারকের স্মৃতির ভেতরে হেঁটে বেড়াচ্ছে একটা রাজহংসী, এইসব গানের পাশে সন্ধ্যা নেমে এলে তোমার শরীরের সমান দূরত্বে পাখিদের বিরহ সংগীত । ছিলাম মেষের রাখাল, কেনো পড়ালে স্বর্ণের মুকুট।
এখন ভূতগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করতে ইচ্ছে হয়। ধুতুরার বীজ ও ফুলে কেনো তোমাকে চাই। গাছের ছাল-বাকল ও পশু চামড়ায় লিখে রাখি, আমার মৃত্যুর জন্যে একমাত্র তুমি দায়ী, প্রিয় বিষের খঞ্জর।
ব্যাক্তিগত শটগান
সোনালী কফিনের ডালা খুলে উড়ে যাচ্ছে পায়রাগুলো। তুমি কি তাদের দিকে তাক করেছিলে, ব্যাক্তিগত শটগান। তাই তারা মৃত্যুর ঢলে পড়ছে, আহারের উপযোগী হয়ে উঠছে ক্রমশ। তোমাকে মস্তিষ্কের ভেতর নিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, বারো হাজার ক্রোশ। খুলে ফেলছি পোশাক পরিচ্ছদ।
বরফ যুগের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন যেনো এক বংশীবাদক আর পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে শ্বেত ভাল্লুকের ছানারা। মাঠের মধ্যে তোমাকে দেখে হেসে উঠছে সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত। সাড়ে তিন কোটি বছর মমি শিল্পে ডুবে থেকে, নিজেকে মরফিউস বলে মনে হয়, কার ঘুম পাহারা দিচ্ছি।
প্যাপিরাসে কি গুপ্ত ভাষা লিখে রাখছি। সূর্যমুখী ফুলের শরীরে সমস্ত কিছু উজাড় করে উড়ছি। আমাকে কি চিনতে পারবে তুমি, সূর্য থেকে ছিটকে পড়া আলোক রশ্নি, কতোক্ষণ আগলে রাখবে বুকের প্রকোষ্ঠে।
জন্মান্ধ উইপোকাদের কবিতা
তোমাকে মনে পড়লে, আমি বোবা হয়ে থাকি। স্থির দাঁড়িয়ে থাকি জন্মান্ধ উইপোকাদের সম্রাজ্যের সামনে, তারা পচা কাঠ ভেবে খেয়ে নিক শরীর। পিঁপড়েরা চিনির দানা টেনে নিয়ে যাক গর্তের ভেতরে, তবুও আমি তোমাকে ভালবাসবো, দু-হাতে কুড়িয়ে বেড়াবো অজস্র পাথর শাবক।
তোমাকে ঘুমের আড়াল থেকে জিজ্ঞাসা করবো, রাত্রির পথ কতদূর, আমার ক্লান্ত শরীর মাটিতে এলিয়ে পড়তে চাইছে। একটা অপচয় ভরা জীবনে কেবল তোমাকে ভালবেসে কত যে অভিশাপ কুড়িয়ে বেড়াচ্ছি। বঁড়শীর টোপ গিলে ফেলার পরে, পুনরায় উগড়ে দেবার অনুভূতি, ছিড়ে গেছে মাছের কানকো, মৃত্যু তাকে জল থেকে স্থলে টেনে তুলছে।
তোমার কাছেও এভাবেই গিয়েছি, যখন বর্শায় বিঁধেছো জন্তুর শরীর, কাঁবু হয়ে গিয়েছি, মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে রক্ত, তোমার রক্তের বর্ণ।
আমি কোনদিন কবিতা লিখিনি
আমাকে যতোটা পোড়াবে তুমি, ততোটাই খাঁটি হয়ে উঠবো। সারা শরীরে লিখবো, পুড়ে যাওয়া পতঙ্গের যন্ত্রণা। তারপর, ব্লিডিং হার্টের মতো ফুটে থাকবো, তোমাকে শীত শস্যের নিদ্রার দিন পর্যন্ত জাগিয়ে রাখবো, যেনো আমি এক চন্দন বন, তোমাকে দিয়ে যাবো মগজ ভর্তি বিভ্রম।
যেনো তোমার ঘুমিয়ে থেকে মনে হবে, এক লক্ষ বছর পৃথিবীর বুকে রাত্রিকাল। তুমি সকাল দেখোনি পঞ্চাশ হাজার বছর। কেবল দেখছিলে, একটি মায়াবী চিতার ছানা খেলা করছিলো হরিণ ছানাদের সাথে, আমিও তাদের মতো করে তোমাকে ভুলবো না।
তুমি আমার দীর্ঘশ্বাস। ভাঙ্গা কাঠের তক্তায় ভেসে থেকে আমি মুখস্ত করেছিলাম, জলের সর্বগ্রাসী হয়ে উঠবার গণিত, এবং একটি নারীর দিকে তাকিয়ে হায়েনার মুখচ্ছবি দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।
তারপর শব্দের দাসত্ব করছি। আমাকে ক্রয় করো, আমার সমপরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে। জানো তো, আমি কোনদিন কবিতা লিখিনি।
লেখক পরিচিতিঃ
জন্মঃ ১২ নভেম্বর ২০০০
ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট
শিক্ষাঃ দর্শন স্নাতক স্তরে অধ্যয়নরত
জয়পুরহাট সরকারী কলেজ, জয়পুরহাট
প্রকাশিতব্য কবিতাবইঃ
করাত কলের গান
হাওয়া ও তাতঁগ্রন্থির কারুকাজ
ডেকে নিও গোপনে
সেলফোন- ০১৭৩৩-৭৪৪৩০৩

1 Comments
ভালো লাগা ।
ReplyDelete-সালিমুল