প্রাণজি বসাক এর কবিতা

 



নিশি কথা

রাতের আগুনে অহংকার মাখামাখি 
নক্ষত্রপাড়ায় ঝড়জল ক্লান্তিহীন মহড়া
দিনের আগুনে ভাতজল সিদ্ধ হয় বেবাক মায়া
শরীরের আগুনে কুয়াশা নিরন্তর জমেছে খন্ড মেঘ

আকাশে হারায় মাঝির নজর  --- চাঁদে মেঘ
জলে ডুবছে ছাইভষ্ম উজ্জ্বল ছুরির দেহকান্তি
রাত্রিকে এবেলা সাক্ষী রেখে বাড়া ভাত ঠান্ডা হয়
আগুনকে আর আগুন মনে হয়না যেন পুরনো বন্ধু 

পুনরায় যোগাযোগে আসে বিভূঁইয়ের অন্য ঠিকানা 





ছায়াবৃত্ত


মানুষটি এক অদ্ভুত স্বপ্ন নিয়ে হাঁটে 
কথাও বলে  ---

তার নির্মল ছায়াটি তার সর্বক্ষণের সাথি
সুখে দুঃখে আরামে বিরামে সে তার সঙ্গেই
কথা বলে আলাপ আলোচনা করে  
রাজনীতি করে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা করে 

শুধু মানুষটি ঘুমোলে 
না জানি কোথায় সে পাড়া বেড়াতে চলে যায়

তখন আর মানুষটি কথা বলতে পারে না 
নিঃশব্দে হাঁটতে থাকে 
এক বিকেল থেকে অন্য এক বিকেলের দিকে একা 




এইবেলা আর

দিনলিপির নির্ঘন্ট থেকে উড়ে যায় একটি কাক
তাবৎ অক্ষরমালা থেকে ছুটি

বালিয়াড়ির বালুচর থেকে ফেরে সাপ গোসাপ হরিণ
গিরগিটি খরগোশ নিজনিজ গুহামুখে সন্ধের সাক্ষাতে
খুপরির খিড়কি থেকে কালো আসমানে ফোটে নক্ষত্ররা

কেউ কেউ বেশ জানে ফিরে আসাটা
সন্ধে গাঢ় হলে শুরু হয় কারো কারো আসা-যাওয়া
ঘুরপথে যায় কেউ কেউ অশেষ বেদনায়

ঘনরাতে আমি ফিরি অনির্বাণ গুহামুখে
চোখে জ্বলজ্বল করে কঠিন আঁধার  ---
পেছন পেছন ছুটে আসে মরুঅঞ্চলের উষ্ণ আর্দ্র
হাওয়া বাতাস আর একটি কৃষ্ণকালো কাক ....




পরবাস

যতটা দ্রুত পারো লিখে ফেলো নিরিখনামা

কতটা দূর গেলে জানালাটা আর জানালা থাকে না 

মুখ তুলে তাকালেই অচিন পৃথিবীটা ঘুরপাক খায় 


বেহালায় বেহাগ সুর তুলে একাত্ম নদীতে নামলে  

প্রদীপ ভাসে ক্ষীণ আলোয় স্রোতমুখী প্রত্যয়ে


অবাক হলে হও  ---


শেষ পিরিয়ডের আধমোছা ব্ল্যাকবোর্ড যেন 

আগাম বলে রাখে ফাজিল অংকের উত্তর 


সব ভুলগুলো আজ আর ভুল নয় --- ঠিক 

যতটা দ্রুত পারো পড়ে ফেলো নিরিখনামা 



পারাপার

রকমফের আছে বলেই চিহ্নিত হয় রকম-এর
যা কিছু ভেসে যায় স্রোতে বা অকুণ্ঠ ইশারায়
কর্ম-কর্তা নিশ্চিত নিদ্রিত চিরাচরিত তন্দ্রাসুখে

বর্ষা শেষে পাতলা কুয়াশায় ভেসে আসে গান
একটা ঘুম-ঘুম ভাব বাংলা জাগরণে
যেসব মন্ত্র অকেজো ভুল উচ্চারণে

শহরতলির লোকালয় থেকে ওঠে ঢেউ
কে আর সাড়া দেবে এমন পাগলের প্রলাপে
একটা নদী জেগে থাকে বেসুরো গানের ভিতরে


Post a Comment

0 Comments