দিনলিপির নির্ঘন্ট থেকে উড়ে যায় একটি কাক
তাবৎ অক্ষরমালা থেকে ছুটি
বালিয়াড়ির বালুচর থেকে ফেরে সাপ গোসাপ হরিণ
গিরগিটি খরগোশ নিজনিজ গুহামুখে সন্ধের সাক্ষাতে
খুপরির খিড়কি থেকে কালো আসমানে ফোটে নক্ষত্ররা
কেউ কেউ বেশ জানে ফিরে আসাটা
সন্ধে গাঢ় হলে শুরু হয় কারো কারো আসা-যাওয়া
ঘুরপথে যায় কেউ কেউ অশেষ বেদনায়
ঘনরাতে আমি ফিরি অনির্বাণ গুহামুখে
চোখে জ্বলজ্বল করে কঠিন আঁধার ---
পেছন পেছন ছুটে আসে মরুঅঞ্চলের উষ্ণ আর্দ্র
হাওয়া বাতাস আর একটি কৃষ্ণকালো কাক ....
পরবাস
যতটা দ্রুত পারো লিখে ফেলো নিরিখনামা
কতটা দূর গেলে জানালাটা আর জানালা থাকে না
মুখ তুলে তাকালেই অচিন পৃথিবীটা ঘুরপাক খায়
বেহালায় বেহাগ সুর তুলে একাত্ম নদীতে নামলে
প্রদীপ ভাসে ক্ষীণ আলোয় স্রোতমুখী প্রত্যয়ে
অবাক হলে হও ---
শেষ পিরিয়ডের আধমোছা ব্ল্যাকবোর্ড যেন
আগাম বলে রাখে ফাজিল অংকের উত্তর
সব ভুলগুলো আজ আর ভুল নয় --- ঠিক
যতটা দ্রুত পারো পড়ে ফেলো নিরিখনামা
পারাপার
রকমফের আছে বলেই চিহ্নিত হয় রকম-এর
যা কিছু ভেসে যায় স্রোতে বা অকুণ্ঠ ইশারায়
কর্ম-কর্তা নিশ্চিত নিদ্রিত চিরাচরিত তন্দ্রাসুখে
বর্ষা শেষে পাতলা কুয়াশায় ভেসে আসে গান
একটা ঘুম-ঘুম ভাব বাংলা জাগরণে
যেসব মন্ত্র অকেজো ভুল উচ্চারণে
শহরতলির লোকালয় থেকে ওঠে ঢেউ
কে আর সাড়া দেবে এমন পাগলের প্রলাপে
একটা নদী জেগে থাকে বেসুরো গানের ভিতরে

0 Comments