ইন্দ্রনীল ঘোষ এর কবিতা ভাবনা




কবিতা কি এই প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞেস করলে আমরা অধিকাংশই বলব এর কোন উত্তর হয় না, বা হলেও তা মানুষ থেকে মানুষে এতই আলাদা যে তার মধ্যে কোনো একটিকে সঠিক বা ধ্রুবক বলে চালিয়ে দেওয়া অসম্ভব।
খুব ছোট বয়স থেকে কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম। গোড়াতে লিখতাম এইভাবে যাতে মা কাকিমা বা অন্যান্য বয়োজ্যেষ্ঠরা শুনে তারিফ করেন। পরে একটু বয়স বাড়লে এলাকার পার্টি অফিসের লোকজনদের বাড়িতে যাতায়াতের সূত্রে সুকান্ত গোছের কিছু, যা ছিল দারিদ্র অবক্ষয় মুক্তির স্বপ্ন এইসব নিয়ে। সেই বয়েসে দারিদ্র সম্পর্কে আমার যেমন কোনো ধারণা ছিল না তেমনই ছিল না মুক্তি বা তার স্বপ্ন নিয়ে মাথাব্যথা। এসবই ছিল এক বালকের খেলা। কবিতা কী এই প্রশ্নের ভূত তখনো আমায় ছোঁয়নি।
প্রশ্নটা দেখা দিল আরো কয়েক বছর পরে। আমার এক নিকটাত্মীয়, তিনি নিজেও কবিতা লিখতেন... তো, তাকে সব কবিতাগুলো পড়ানোর শখ জাগলো আমার। সব পড়ে-টড়ে তিনি সস্নেহে জানালেন, যা লিখেছি এতকাল সেগুলো একটাও কবিতা নয়। আমার সেদিনের সেই তো অবস্থাটা আজও মনে পড়ে। এতো লেখা তার মধ্যে কত লেখা কত জন তারিফ করেছে, আমি অসহায়ের মতো একে একে সেগুলো খুঁজে কবির হাতে দিই আর তিনি একে একে সেগুলোকে ‘কবিতা নয়’ এর তকমা লাগাতে থাকেন। লজ্জায় জিজ্ঞাসাও করতে পারি না, তবে কবিতা কী। কিন্তু ওই প্রশ্ন’র ভূত সেদিনই প্রথম আগামী বাঁশ বনের রহস্য দেখায় আমাকে।
সেদিন নিজের মনে ঐ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও, আজ মনে হয় এর কোনো শেষ উত্তর হয়তো হয় না, পাওয়াটা জরুরীও নয়। কিন্তু এই প্রশ্ন আর খোঁজ কবির মাথায় এক জার্নি শুরু করে যেটা ভীষণ জরুরী। ওই অল্প বয়সেই এক সহজ বাইনারি তৈরি করি নিজের মধ্যে। ঠিক করি যে কথা, অনুভব আর কোনভাবেই প্রকাশ সম্ভব নয় — গদ্যে, গল্পে, প্রবন্ধ, উপন্যাস, নাটক, সংলাপে, দৈনন্দিন জীবনযাপনে... শুধুমাত্র তাই প্রকাশ করার চেষ্টা করবো কবিতায়। ফলে, ধীরে ধীরে কবিতা হয়ে উঠল বিষয়হীন। গদ্যের মতো আয়োজিত বক্তব্য রইল না তাতে। প্রাণের রেডিও-তরঙ্গগুলো বাজাতে বাজাতে এগিয়ে চলল সে।



Post a Comment

4 Comments

  1. আরো দীর্ঘালোচনা পড়ার ইচ্ছা র'ইলো।।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আগামীতে প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে। পাঠের জন্য কৃতজ্ঞতা।

      Delete
  2. খুব ভালো লাগল...

    ReplyDelete