আনজানা ডালিয়া’র কবিতা


স্বপ্নভাঙ্গার হাতুড়ি নিয়ে দাড়িয়ে ছিলে





সম্মোহনী শক্তি

সম্মোহনী শক্তি বিবর্ণ হয়ে গেছে,
দাও তাতে সপ্ত সুরের বীণ
দাও ছড়িয়ে সপ্ত রঙের রঙধনু
বিকিরনে তেজ দাও,
দাও সত্যের আদলে পবিত্র
তাযা হবে শিল্পীর কারুকাজে,
হেলেনের রূপশ্রীর কাছে ম্রিয়মান।
বিনির্মিত হবে তুমি বর্ণালী সাজে
দ্বিমাত্রায় তরঙ্গায়িত হবে ওই সাগর,
বিমোহিত হবে উৎসুক স্বর্ণালী ভোরের পাখিরা।



পূর্ণতা


সব অপূর্ণতা যেন পূর্ণতা পেলো
সব পাওয়া'য় ফুল চন্দন
মন খারাপরা খেলছে খুব
হাসছে প্রানখুলে ।
ভালোবাসা টা যেন সদ্য বৃষ্টিস্নাত
নির্মল কোন হাসিফোঁটা জুঁই,
যেন স্বর্গ থেকে আসা সুর,
মনকাননের বীণাতারে কিছু চুপকথা
জেগে উঠে সহসাহয় হৃদয়ে বিকিকিনির সম্মিলন
উত্তাপের শব্দে বেজে উঠে শঙ্খধ্বনি।



ক্ষনিকের অবসাদ


নেই আজ ঘরে ফেরার তাড়া
যেখানে পেতেছো ভালোলাগার শয্যা
সেখানে ঝুলে আছে এখনও
মেঘ লুকিয়ে উঁকি মারা সূর্যরশ্মি
এ তো এক অন্য জগতের সীমারেখা
যেখানে ভালোলাগা শত।
যেখানে মিশে আছে ঘনঘন নিঃশ্বাসে
মুক্তির ছোঁয়াচ।
বয়ে চলার অহংকার নেই ওই আবদ্ধ হ্রদের
উড়োমেঘের সাথে হয় ভাব নিঃস্ব বিষাদের।
আঁধার বক্ষে সময়ের প্রতীক্ষায়
ঠাঁয় দাড়িয়ে আকাশের বারান্দায় শুক্লাদ্বাদশী কেটে দেয় ক্ষনিকের অবসাদ।



ফিরে এসেছে সে


নিউরনের ভাঁজে
নিত্য যে সুর বাজে
সে অনুভুতি নিয়ে তাহাকে লেখা হয়েছে।
অজস্র রঙ্গীন অনুভুতির রেনু তাতে
রঙধনুর সপ্ত রঙ্গে বিকিরিত বর্ণিল আভাতে
অজুত গুণে বর্ধিত হবে সম্মোহনী শক্তিতে।
সে যে আছে নিষ্কাম পুজার আসনে
ফিরে এলো ভালাবাসার ইতিকথনে
সৌরভী খেয়ালের উৎসব ত্রিভুবনে ।



স্বপ্নভাঙ্গার হাতুড়ি নিয়ে দাড়িয়ে ছিলে


থমকে গেছে ভালোলাগা
পাথর খুঁড়ে খুঁড়ে নির্মান করতে পারিনি
তার ভেতরে মায়াখাদ।
তীব্রতর দহন মেখে দিলে আশাঝুড়ি ।
প্রথম চুমুর ছেড়া পাতা উড়ে গেছে
স্বপ্নভাঙ্গা  দুচোখের আলোআধাঁরিতে
ভালোবাসার উল্টোপিঠের ঘৃনায় পুড়ে গেছে প্রেম, পৌরুষ।
নিঃশ্বাসের বিষে ধুয়ে গেছে কথার ফুলঝুরি।
নিমেষে ছিন্নভিন্ন সুখের লোকালয়।
মিথ্যে বলতে আমি তাকে চিনেছি,
ছল তার মুখোশের নাম,
স্বপ্ন ভাঙ্গার হাতুড়িটাও তার হাতে।



হিজলের ফুলে বিভোর



হিজলের গাছটা কিছুদুর পাশ বনে
হিজল ফুল ঝরছে টুপটুপিয়ে
পুকুরের স্বচ্ছ জলে ভেসে আছে কিছু,
কিছু পথের ধারে,
সুন্দর কারুকাজে নিজে নিজেই সাজছে।
প্রতিদিন দুর থেকে হেটে যেতে পাই মৌ মৌ সৌরভ
কেমন যেন প্রানে জড়িয়ে গেছে সৌরভটা।
আজ হঠাৎ সুবাস না পেয়ে বুক টা ধক করে উঠলো
দু'পা এগিয়ে চোখ ভিজে গেলো
প্রানে গেঁথে যাওয়া হিজল আর ফুটবেনা আমার চলার পথে ।
কিছু মুহুর্ত বিভোর হওয়াটা আর হবেনা
মদিরতায় নিজের মধ্যে ডোবা আর হলোনা।
নির্মম করাত কেড়ে নিলো আমার আনমনা হওয়ার সুযোগটুকু।




গোধূলীর রঙ ঠোঁটে


ফাগুনের কোন এক বিকেলে
সব অভিমান,
সব সীমারেখা ভেঙ্গে তোমার সামনে গিয়ে দাড়াবো
খুঁজোনা বসন্ত,
খুঁজোনা কৃষ্ণচুড়ার পাপড়ি,
কোকিলের ডাকে হইওনা আনমনা ।
তোমার আমার খুঁনসুটিতে হেসে উঠবে
বুনোফুল গুলো
গোধূলীর রঙ মেখে নিবো ঠোঁটে
দিও কুয়াশার টিপ পরিয়ে মাঝকপালে।
কিছু অনুচ্চারিত শব্দে মেলাবো জীবনের সমীকরণ।




Post a Comment

0 Comments