মানানসই ফিগার ।। হো স নে আ রা ম ণি ।। বামিহাল (পঞ্চম সংখ্যার ওয়েব ভার্ষণ) “Bamihal" eigjt year, five issues- march 2019





‘তোমাকে একটু মোটা হতে হবে। একটু স্বাস্থ্যবান ধাতের পুরুষই আমার পছন্দ। তাতে তাদেরকে বেশ ম্যানলি দেখায়।’ কথাটা বলল আমার বহুদিনের ইপ্সিত নারী যে কিনা তার অজান্তেই আমার বহু নিশীথের ঘুম হরণকারিনী এবং যার ফলস্বরূপ আমি গত ছয় মাসে দশ কেজি ওজন হারিয়েছি।

‘তুমি হ্যা বললেই আগামী তিনমাসে আমি তোমাকে ষাট কেজি ওজন উপহার দিতে পারব।’ বলে আমি তার চোখে আশান্বিত চোখ রাখলাম।

‘আমি আট কেজি ওজন নয় বরং একজন মানানসই চেহারা-ফিগারের অধিকারী সুপুরুষ চাই। সেক্ষেত্রে ষাট কেজি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়। তুমি বড্ড ঢ্যাঙ্গা আর লম্বা।’

‘বেশ, তাহলে সত্তর।’

আমার কাক্সিক্ষতা গালে টোল ফেলে হাসল। আমার বুকের ভেতরটাতে আমি জলোচ্ছ্বাসের চাপ অনুভব করলাম।

তিনমাস পর। আমার ওজন এখন ছিয়াশি কেজি। অপর্যাপ্ত গব্যঘৃত(যার মধ্যে প্রচুর ডালডা মিশ্রিত), মাখন(ময়দা মিশ্রিত হলেও হতে পারে), ফার্মের মোটাতাজা কুক্কুট ও ডিম্ব অপরিমিত ভক্ষণের চমকপ্রদ ফলাফল। আমি আনন্দিত, আমার বন্ধু ও প্রতিবেশিগণ বিস্মিত এবং আমার পরিবারবর্গ আতঙ্কিত।

তারানার খোঁজে বের হলাম। আমি জানি ওকে এসময় কোথায় পাওয়া যায়। একটা বেবীহোমের ও খন্ডকালীন শিক্ষক-- অনারারী। পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবার কন্যার প্রণয়প্রার্থনা করতে তার বাসায়তো আর যাওয়া চলেনা।

তারানা আমাকে নির্ণিমেষ দেখল। তারপর হাসল। না, আজ তার গালে টোল পড়লনা, ওষ্ঠদ্বয় কিছু অনিয়মিত বক্রতা পেল মাত্র।

‘তোমাকে ওয়েলকাম জানানই উচিৎ বটে কিন্তু একটা ক্ষুদ্র সমস্যা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমি আমার চয়েজ চেঞ্জ করেছি। এখন আমার পছন্দ মাঝারী উচ্চতার স্লিম ইয়ংম্যান।’ তারানা নির্বিকারভাবে বলল।

‘আমি কি জনাবার পছন্দ পরিবর্তনের কারণটা জানতে পারি?’

‘নিশ্চয়ই। মেদবহুল পুরুষের চেয়ে মেদহীন ছিপছিপে দেহের পুরুষেরা অধিক উদ্যমী ও পারঙ্গম হয়ে থাকে। তথ্যটা মাত্র কদিন আগে একটা আমেরিকান জরিপ থেকে জানতে পেরেছি।’

‘তাহলে কি আমি ফের কমে আসব?’

‘তার কোন দরকার নেই। আমি যেদিন তথ্যটা জেনেছি সেদিনই আমার সঙ্গীও বেছে নিতে পেরেছি এবং আমেরিকান পরিসংখ্যান নির্ভুল প্রমানিত হয়েছে।’

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস মোচন করলাম। করবনা করবনা ভেবেও প্রশ্নটা করে ফেললামঃ মাত্র একদিনের মধ্যে সঙ্গী মিলে গেল?

‘ওও তোমার মতই ওয়েটিং লিস্টে ছিল এবং মোটাতাজাকরণের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছিল। ভাগ্যিস নিতে পারেনি। ও যেদিন প্রথম ডিম-মুরগী কিনে আনে সেদিনই আমি ওকে ওয়েলকাম জানাই।’ তারানা মিষ্টি করে হাসল। এবার তার গালে সেই দুর্দান্ত টোলটা দৃশ্যমান হল।

আমি উঠে পড়লাম। তারানাও উঠল। আমাকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ সে আমার দুটো হাত তার হাতের মধ্যে টেনে নিল। তারপর মিনতি ভরে বলল, তোমাকে একটা অনুরোধ করলে তা রাখবে?

‘চেষ্টা করব।’ আমি নিস্পৃহস্বরে বললাম।

‘এই হোমটা চলে চ্যারিটিতে। ইদানীং দেশের নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থার দরুণ আমরা ডোনার পাচ্ছিনা। আমাদের নিয়মিত ডোনাররাও হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। তুমি কি তোমার দুধ-ঘি-মাংস বাবদ মাসিক অতিরিক্ত বরাদ্দটা এই হোমে ডোনেট করবে?’

‘নিশ্চয়ই।’ আমি একটুও না ভেবে বললাম।

‘দেন আই স্যালুট ইউ।’ তারানা সত্যিই আমাকে অভিবাদন করল।

Post a Comment

0 Comments