আকাশের বন্ধুরা কেমন থাকে
এক.
মাঝে মাঝে এমন অবসর এসে যায় যখন তুমি থাকো বৃত্তবন্দি নিয়মের আঙিনায়। আমি তখন আকাশের সাথে মেঘ বিনিময় করি। আর বৃষ্টি দেখে তুমি ভাবতেই পারো কোঠরগত পাখির মন খারাপ।
মন খারাপের কালে আমি যা করতে পারি তা নিয়ে পাতাদের কোন অভিযোগ নেই,তবে জলের অভিযোগ বিস্তর। গত ভাদ্রে শালুকের কোন খোঁজ নেইনি বলে শাপলা ফোঁটেনি বিলের জলে। এ বছর বৃষ্টিতে ভিজেনি বলে বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে উঠানবাড়ি। দু-একটা সাপ এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে যায় মেঝেতে-মাচায়...
আমি শুধু মেঘপিয়নের খামে লিখে দিচ্ছি তোর নাম। তুমিতো একবারও জানতে চাওনি- কেমন আছি?
দুই.
আকাশের সাথে দেখা নেই বহুদিন।
রিক্সাচালককে বললাম-চলো, আকাশের কাছে যাই।
আমাকে মাতাল ভেবে পালিয়ে গেল
এ শহর আকাশের ঠিকানা জানেনা!
মৃদুলয়ে হেঁটে গেছি নদীর কাছে।
নদীর সাথে আকাশের
প্রকাশ্য অভিসারে চলছে মেঘবন্ধন।
আমাকে তাই হাঁটতে হচ্ছে অরণ্যের পথে...
ঐতো প্রান্তে সবুজের সাথে নীলের সঙ্গমে
জন্মনিচ্ছে রঙধনু প্রাণ
গ্রামের কোলাহলে ছড়িয়ে পড়ছে
ফসলের ঘ্রাণ
বনপ্রান্তে যে গ্রাম তার নাম সুখিনীলগঞ্জ।
এ গায়ে রটেছে খবর আকাশযোগী আমি
চাষীর বুক খুলে দেখছি আকাশ।
আকাশের সাথে ব্যাপক আড্ডা হলো।
দিনশেষে পাখি আমি,ফিরে যাই নীড়ের টানে।
শ্রীমন্ত আর নীলাকাশ আমার বুকে পাহাড় হয়ে যায়
যখন দেখি ভিক্ষুকের থালায় চুপটি করে
বসে আছে একটা আস্ত আকাশ...
তিন.
কোন গন্তব্য ছিলোনা,
আমরা দাড়িয়ে ছিলাম চৌমাথায়।
যেকোনো কোলাহলে ঢুকে
পরতে পারতাম, অথচ
আমরা হেঁটে গেলাম জলের দিকে...
পথে যাদের সাথে দেখা হল
রিক্সাচালক,,ট্রাফিক পুলিশ,চায়ের দোকানদার__
আমাদের পথ আটকে দিলো তুমুল বৃষ্টি,
তার সাথে কথা হল কিছুটা সময়।
আজ অনেকদিন পর,পার্কের সাথে দেখা হয়ে গেল
এই রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে প্রতিদিন।
প্রেমিকের চুম্বনদৃশ্য দেখতে উৎসুক কাক
ভীড় করেছে পার্কের গাছে
ক্রমাগত ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণের শব্দে দিশেহারা
ছুটে চলছে এদিক সেদিক...
নদীর কাছে যখন পৌছে গেলাম
ঢেউ তুলে ছুটে যাচ্ছে গাজী রকেট।
জলের আয়নায় দুলছে আমার মুখ।
মিনার থেকে ভেসে আসছে সন্ধ্যা সঙ্গীত-
বিষন্ন বিড়ালের মতো নদী তীরে বসে থাকি
নদীর সাথে আমাদের কোন গল্প নেই।
আমাদের প্রেমিকারা এক একটা ভীতুর ডিম
বেদের নৌকা বেধে রাখি মগজের ব্যাকেটে...
চার.
ও পথ এসেছি ঘুরে- বহু দূরে
ছায়া ও মায়ার পিছু ঘুরে ঘুরে
ক্লান্ত শরীরে বাজে নির্লিপ্ত কোরাস-
যতটা পার তুমি,আঘাত কর
তীব্র ঘৃণার তীর ছুড়ে দাও আজ
বালখিল্য আবেগি খোলস ছেড়ে
আমিও পড়েছি দেখ ধাতুর পোষাক__
পুরনো সময়কে বালিকার বাসনায়
ফেলে এসেছি পথের মোড়ে
এ পাড়ায় হৃদয়ের প্রবেশ নিষেধ।
পাখির ঠোঁটে গোপন ভঙিমা থাকে
বনবিহারে তাই বাজেয়াপ্ত শীসবিতান
যেভাবে চাও তাকাতে পারো
আমিও মুখস্ত করেছি ইশারার বর্ণমালা...
কিছু মুখ তবু পিছু ডাকে
অবাধ্য হাত বুকে উঠে যায়
প্রতিদিন হৃদয় খুলে হয় ঝাড়-পোছ
তবু কিছু দাগ থেকে যায়।
পাঁচ.
সময়ের বৃত্তে আটকে পড়া কর্পোরেট আমিকে
আজ নদী দেখতে নিয়ে যাবো।
যুথবদ্ধ প্রেমিকের গোপন হাত দেখে
যদি বিগলিত হয়ে উঠে মন
পাওয়া যেতে পারে হৃদয়ের খোঁজ-খবর।
পুরনো প্রেমিকারাও আজ আসতে পারে এপথে।
নদীতে কি তাহলে ঝড় উঠতে পারে!
অন্তত ৫নং বিপদ সংকেত দিয়ে রাখুন,
নৌযান বাঁধা থাক ঘাটে।
পুরনো প্রেমিকারা কেউ বৃষ্টি বিলাসী নয়
তাহাদের ছিল সর্দিকাশির ব্যামো।
একজন ছিলেন আসিফের অন্ধভক্ত,
আরেকজন আতিক হাসান।
তাহাদের কেউ রবীন্দ্র অনুরক্ত ছিলেন
বলে মনে নেই।
তাহাদের হাতে কোনদিন কদমফুল দেখেনি
তবে গাঁদা ফুল দেখেছি একুশে ফেব্রুয়ারী।
এই শ্রাবণে তারা সব রবীন্দ্রভক্ত হয়ে উঠেছে।
সুযোগে আমি রবীন্দ্রনাথকে বিক্রির ধান্ধায় ঘুরি..
ছয়.
বাঁক খাওয়া পথের বাঁকে দাড়িয়ে নেই পুরনো দোকান- স্মৃতির জাদুঘর...
দর্শনার্থী হয়ে খুঁজছি ডাকটিকিট, আমিওতো এসেছিলাম এ গাঁয়ে বেয়ারাখামে__
পথের বাঁকে এখনো যুবক দাড়ায়
বালিকার মুখদেখে বাজে শীষবিতান
এখনো বৃষ্টি নামে এ পথে
আমার হারানো ছাতাটা কোথায়ও পেলাম না!
বালিকাকে আড়াল দিতে।
ধূলো আছে,পথ আছে, নেই বখাটে বালক।
পুলিশ বাবার চোখ রাঙানি নেই, নেই আসাদ স্যারের জোড়া বেত...
আর নেই তুমি কোথায়ও।
পুরনো ইউনিফর্মে বসে আছি ক্লাশ টেনে, সোরগোল হচ্ছে খুব...
ঐতো আসছে ক্লাশ টিচার আবুল কাশেম,
চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়ার আগে করে নিচ্ছেন রোলকল
অনর্গল ডেকে যাচ্ছেন, রোল নং সাত...
তুমিতো অনুপস্থিত ছিলেনা কোনদিন! তবে...?
স্মূতির জাদুঘরে কোন নদী নেই,অথচ তোমার বাড়ীর দরজায় নদী।
তুমি বুজি দুঃখের নদীতে এখনো বাও পালতোলা নাও...


0 Comments