সুজান সাম্পান এর দু’টি কবিতা





বিপরীতমুখী মৃত্যু


রাত যতই গভীর হয়
হাসনাহেনার গন্ধ ততই
তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে,
মৃত্যুক্ষুধা বুকে নিয়ে
ঘুমিয়ে পড়ি চঞ্চল
পথিকের মতো।

থেকে থেকে এই জাগ্রত আমি
নিজেকে সঁপে দিতে যাই
সাপের কাছে, হাসনাহেনার নিচে।
ফিরে আসতে হয় আমাকে
ঘুমন্ত চোখে,
হাসনাহেনার গন্ধ গায়ে মেখে।

এভাবেই কেটে যায়
বেশ কয়েকটা দিন।
তবু মেলে না কোনো
একটা সাপের দেখা।

এ জীবন বড় ক্ষুধিত!
মৃত্যুসাধ না পেয়ে বেঁচে আছি
আর পাপগুলো গিলে গিলে খাচ্ছি
এক এক করে।
ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালায়
পাপ-পূণ্য সমান হয়ে গেছে আজ!

জানি, কোনো পথচারী সাপ
মৃত্যু ডেকে আনবে না আমার।
কেননা, এ দেহে গাঁথা আছে,
বিষাক্ত সাপের খোলস।
যার ঘ্রাণে সুগন্ধী হাসনাহেনাও
বিমুখ হয়ে যায়, প্রতি রাতে।
তাই দেখা মেলে না কোনো সাপের।
অথচ, অন্যের কলমি গাছের বেড়ায়
বেশ চমৎকার সাপ ঘুরতে দেখেছি আমি!






নির্বুদ্ধ নিয়তি


নাড়ীর সতীত্ব এখন ছিঁড়ে যাচ্ছে প্রতিমুহূর্তে।
আমি বিক্রি হবার বাসনায়
লালন করছি পণ্ডশ্রম।

যে জলে স্নান করছি এখন—
ত্ওা বিশুদ্ধতার বহির্ভূত।

আমি চর্যাপদ হতে চেয়েছিলাম—
নিয়তি তার করুণ কানুনে,
আমাকে করে তুলল নির্বুদ্ধ।

আমি সময়ের শরীরে বাঁধতে চেয়েছিলাম—
এই নির্জন হাতের পাঁচটি আঙুল;
এখন দেখি—
হাত ঝ্লসে পড়ে আছি নিষ্প্রাণ শীতলতায়।






Post a Comment

0 Comments