তোমাদের ঘৃণায়ও চমৎকার!
আমার পুন:জন্ম
আমি আমার পরিচয় নিয়ে যতোই
অহঙ্কারী হয়ে থাকি না কেনো
নগরের যে-কোনো মোড় এবং জটলাতে গেলে
শোনবে এ-কোনো চোর বা প্রতারক
অথবা আমার গ্রামে মিথ হয়ে আছে আজও
পথিক এক ধানচোর
যতোই আমি চুরির এই ধান
ক্ষুধার্ত বীরাঙ্গাণাকে দেই না কেনো গোপনে
এ-ও শোনবে পাটক্ষেতের ডাটা চুরি করে
উপোস নার্গিস বালা'কে দিয়ে বাবার মার খেয়েছি
আর বন্ধুরা আমাকে ঘিরেই থেকেছে চুরির টাকায়
মদন কটকটি খাবার লোভে
এবং আর যা যা ভোগ্য
আবার তারাই আড়ালে চোর বলে বলে মজা লুটেছে
সো আজও মেঘের পড়ায় আমি চুরির দায় নিয়ে লুকিয়ে আছি
আর ভেসে যাচ্ছি টুকরো টুকরো মেঘ হয়ে অতলের দিক
প্রতারকের ডানায় চড়ে
আমার মৃত্যুপুরীতে তোমাদের ঈর্ষার হাসিগুলো
রোদ্দুরের মতো দেখায়
এবং তোমাদের ঘৃণায়ও চমৎকার বাকচাতুর্যময়
কেননা শুধু নিজেকেই ভালোবাসো তোমারা, আমিও জানি
মানবতার বুলির নামে সততার শ্লোগান দিয়ে দিয়ে
গড়েছো সুশীল সমাজ
আহা!
আমি পরশ্রীকাতর তোমাদের চোখে আমার
আত্মা পোড়া ছাই ছড়াতে ছড়াতে
বেড়ালের মতো হেঁটে যাই ব্যক্তিগত নরকের দিকে
আর কেউ দেখে না রোজই বেড়লটাকে
দলবদ্ধ ইঁদুর গিলে খায় কীরূপে
কেবল আমার বৃদ্ধ মা আমার বাড়ি ফেরার দিকে
চেয়ে থাকে লাঠি হাতে ক্ষুধার্ত আমাকে বাঁচাবার জন্য
এবং বিড়বিড় করে বলতে থাকে,
'পয়মালটা আজও মানুষ হলো না'
ফলে আমি আর কখনো তোমাদের দিকে ফিরি না
মায়ের এই বাক্যটির গর্ভে ভ্রূণ হয়ে যাই প্রতিবার
তবুও ভোরবেলা আবার জন্মাই তোমাদের সাধু পাড়ায়
আমি যে বড় অসহায়!
এই জন্ম-নিরোধের তরে কী কোনো কনডমও নাই?
হা-ভাত ৩
তো, আজ আবার
জানালার কার্নিশে দুটো কাকের কা- দেখে
এই কথা মনে পড়লো,
ক্যাম্পাস লাইফে খুব অনটনে থাকতাম
ফলে প্রায়ই সারাদিন উপোসের পর সন্ধ্যায়
একটু নিজের মগজ বেচে পেটভরে ভাত খেতাম
এইভাবে বেচে খেতে খেতে
একদিন দেখলাম মগজ ফুরিয়ে গেছে
কি হবে?
উপোস তো থাকা যায় না,
তো তখনই বিবেক বিক্রি করা শুরু করলাম
এভাবে চলল বেশকিছু দিন...
দেন আদর্শ, মতাদর্শ যাই বলি, এটাও বিক্রি করে করে
প্রায় নি:স্ব, কেবল শিক্ষাটুকু আছে, তাও মুখস্থ
ফলে শিক্ষা বেচে ভালো কিছু পেলাম না
তবুও বেচে বেচে খেলাম কদিন
এইভাবে একদিন ছাত্রজীবন শেষ হলো...
শূন্য হাতে কি করবো যখন ভাবছি
রাস্তায় দাঁড়িয়ে,
কিছু কুকুর দেখছি ডাস্টবিেেন মুখ দিচ্ছে খাচ্ছে
কিছুই বিক্রি করতে হয় না তাদের, বাহ
ক্লান্ত আমি, এক বন্ধুর মেসবাসায় উঠেছি
জানালার কাছে বসে কেবলি ভাবি
আর কিছু কি বিক্রির নেই উপায়?
কার্নিশে দেখি কাক কাকের মাংস খাচ্ছে
তাহলে কি প্রবাদটি সত্য নয়?
মানে সবই আপেক্ষিক, আপাত সত্য!
এইটুকু বোধ নিয়ে আমি নেমে পড়ি রাজপথে
আর খাদ্য অন্বেষণে, মিছিলে,
কিছু একটা ধান্দা তো হবেই...দলীয় বা নির্দলীয়
দুনিয়ার মজদুর এক হও, শ্লোগানে শ্লোগানে...
...
নোট
গতকাল গ্রাম থেকে মা মুঠোফোনে জানিয়েছে,
মুক্তিযোদ্ধা বাবা'র জবান বন্ধ হয়ে গেছে'
এ্যাগ্রি কালচার
ওঁ হুম! এই স্কুল পথে আসতে এবং যেতে
ধুলোর চেয়ে ধুলো, আমি।
আমাকেই পায়ে পিষো, মারো।
আর বোনো নিরলস কাদায়, জন্মাই।
আমার আমি, তোমার নীরবতায়।
ফলে তোমাদের অনন্তের আকাঙ্খায়
জলিধানের মতো দোল খাই।
এইখানে সোমপুর এবং পুন্ড্রনগরে
কিংবা ষোড়শ জনপদ
স্কুলছাত্রীদের কোলাহল ভেঙে যায়
সহস্রজাতির তীর ধনুক ঘোড়া
আর মৃত অনুশাসন, নৈরাজ্যের কূজন।
আমি রাখাল, কাদার সন্তান, হেনোকালে
তোমরা চিনেছিলে, ডেকেছিলে কানাই বলে।
আজ এই চৌরাস্তায়, মোড়ে
কোথাও নিজেকে খুঁজে না পেয়ে
ফিরে যাই, সৌরালোকে বেঘোরে।
কোথাও কোনো মাঠ নেই, এই নগরে
নেই ধুলো, আমার সহদর অকাতরে মরে
তবুও মনের কথা বলো যারা
ইনিয়ে বিনিয়ে বলো প্রেম! খুব আত্মহারা!
জেনো আমি ধুলো, ফিরে যাই এলোমেলো
বন্ধুরা কোথায় কোথায়, থেকো!
নারায়ণ, আবুল, রথো, মাইন, জ্যোতি
স্বপনের মতো অথর্ব পাথরও
ফুটপাতে, কেউ ধুলোর পাশে স্বপ্ন রাখো।
আমি ফিরে যাই বাতাসে, নির্জনে।
মন বলে কিছু নেই, আর প্রেম নেই জেনে
হৃদপিন্ডের শেষের একখ- জমিন
নীরবতায় নৈঃশব্দ্যের চাষ করবো।
কাম ও কামনায় যারা যতো এ্যাগ্রি
যতো যতো জাতি, আর জাতীয় কালচার
এমন বহুজাতিক জীবাণুর হাটে
আর আর মাঠে, রাধাদের তল্লাটে।
এই স্কুলের আসা যাওয়ার পথে
ধুলোর চেয়ে ধুলো, আমি।
আমি কেবলি ম্যনুয়াল চাষাদের শেষ অনুগামী।
আপেল জীবন
যদিও আপেল কোনো দেশীয় ফল নয়
তবুও যে কেউ ভাবতেই পারো জীবন একটা আপেল
তাকে সকাল বিকাল
ফালি ফালি করে খেয়ে নিতে পারো
এই রোদ্দুরে নিশ্চয় কোনো দাগ নেই
নেই কোনো সঙ্গমকালীন আঁচড়
তবুও বকগুলো তার ভেতর উড়ে যায়
ফিরে যায় অনাদিকালের দিকে
যেখানে শান্তির পাশে বিষাদের ছাগুলো আজও কাঁদে
আর আপেল খেতে খেতে এমন সন্ধ্যায়
মনে পড়বেই সেই বন্ধুটির কথা, অথবা
যে কিনা বলতে থাকে হৃদয় বলে কিছু নেই
তবুও আমরা আপেল খেতে গিয়ে ভেবেই থাকি
এ-কার হৃদয় ফালি করে করে খাচ্ছি!?
বাতাসে ঝড়বৃষ্টি লুকিয়ে থাকে, আর রোদও
আসো বাতাসে আঁচড় কেটে দেই
মনোলোভা স্তনের মতো,
কেননা জানি সকলেরই আভীষ্ট এই রক্তমাংস!


0 Comments