বিরহ-ব্যথা
**১.
ফেলে আসা শেষ প্রেম দগ্ধহয়েছে আজ;এক নিমিষেই!
হাতে নিয়ে প্রেমের ভষ্ম মিশে দিয়েছি বাতাসে;
বেঁচে থাকা ভালবাসার শেষ নিঃশ্বাস দিয়ে।
আর প্রেম!!
সময়ের হাত ধরে পালিয়েছে সে
প্রেমিকের বদ্ধভুমি পাবনা এক্সপ্রেস-এ।
**২.
মুখোমুখি ভালবাসারা কখনও কখনওহারিয়ে যায় বিপরীতমুখী হয়ে।
মাঝখানে থেকে যায় কিছু গভীর বেদনা,
লুকোনো ভালবাসার ক্ষত চিহ্নিত দুটি হৃদয়।
রাত নামলেই জেগে ওঠে পুরোনো স্মৃতি,
জেগে ওঠে ফেলে আসা ভালবাসার বিষন্ন মন
অথচ! কত আগেই না তারা মারা
গেছে; দুজন-দুজনার কাছে।
১৮-০৩-১৭
অপ্রকাশিত অনুভূতি
শুধু একবার শুনতে চেয়েছিলাম তুমি
বলবে,
“তোমাকে ভালবাসি,অনেক
ভালবাসি”।
বিনিময়ে তুমি হাজারবার বলেছ
আমায়-
“ভালবাসি প্রিয়,ভালবেসে যাব”।
অথচ! এই আমাকে দেখ-
আজও তোমায় বলতে
পারিনি-“প্রিয়তমা;
চল আজ থেকে দুজন হারিয়ে যাব
প্রেমারণ্যে।
তুমি লুকোবে সেই গহীন
প্রেমারণ্যে,আমি
হারানোর ভয়ে তোমাকে খুঁজব তন্ন
তন্ন করে।
তোমাকে না পেয়ে-এই বুঝি
তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি
এমন ভয়ে আমি কেঁদে উঠব।
ঠিক তখনই
তুমি আমার কাধে আলতো স্পর্শে
বলবে-
“কি বোকা ছেলে! কাঁদছো কেন?
এইতো আমি”।
আমি যেন দ্বিতীয় জীবন ফিরে
পেয়েছি এমন উল্লাসে,
সমগ্র প্রেমারণ্য জানিয়ে তীব্র কন্ঠে
কেঁদে উঠব;
সেইসাথে তোমায় শক্ত করে জড়িয়ে
বলব-
“প্রিয়তমা আমার-তোমায় অনেক
ভালবাসি“।
কিন্তু-না-এমন অনুভূতি আজও প্রকাশ পায়নি
তোমার তরে।
আজও বলতে সাহস হয়নি-“প্রিয়তমা
আমি তোমার স্পর্শলোভী”।
১১-০১-২০১৬
একদিন হৃদয়পুর এসো ভালবাসা দেব
এই স্বাদহীন-রসহীন,ভুলেভরা জীবনের গহীনে;
তোমায় অামি টেনে নেব সুখের স্পর্শে।
অতঃপরে একদিন ঐখানে
কন্ঠনালীর ঠিক নিচের বন্ধুর জমিনে,
জীববিদ্যায় যাকে তোমরা বক্ষদেশ বলো;
যার গভীরে হৃদয় নামক অদ্ভুত যন্ত্র থাকে!
সেইখানে এসো-
তোমায় মুঠোভরা প্রেম দেব,দেব সেই ভালবাসা।
হ্যা,বৃষ্টির ভালবাসা,জোৎস্না রাতের কাব্যিক
ভালবাসা;নতুন ফোটা তাজা ফুলের ভালবাসা দেব।
অারও দেব বাদামের খোসা ভাঙানো ভালবাসা,
ভ্রমরের ভালবাসা,উদ্দাম যৌবন ভরা পুরুষ্ঠ ঠোটের ভালবাসা।
শুধু একবার সময় করে এখানে এসো,এই হৃদয়পুরে
তোমায় মন ভুলানো মাতাল করা ভালবাসা দেব পাগলী।
১৫-০৩-২০১৬
খোলা জানালার জীবন
খোলা জানালা আজো খোলা রয়েছে,
তবে হারিয়ে গেছে তার সৌন্দর্য.
রোজ বিকেলে জানালার পাশে,
এলোচুলের যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে থাকত,
এখন আর তাকে দেখা যায় না।
কখনো তার সাথে তেমন কথা হত না,
সে কেবলই ঐ আকাশের দিকে তাঁকিয়ে থাকত.
হয়ত আকাশই তার একমাত্র বন্ধু ছিল।
তবু রোজ আমি ছুটে যেতাম ঐ জানালায়
কেন? তা জানিনা!
কোন এক সাক্ষাতে তার চোখে চোখ পড়েছিল,
হয়ত ঐ চোখের প্রেমে পড়েছিলাম তাই--
কিন্তু চোখে চোখ পড়তেই সে ফিরিয়ে নিয়েছিল
তার দৃষ্টি ঐ আকাশের দিকে,
যে আকাশ তার হাসিতে হাসত,
রাতের আকাশে জ্বেলে দিত হাজার তারার মেলা ।
যে আকাশ তার কষ্টে কাঁদত
কাঁদত সারাটা বিকেল জুড়ে।
কান্নার জলে আঁচল ভিজলে মেয়েটি
চলে যেত জানালা ছেড়ে ।
এসবই ছিল আমার অবসর বিকেলের ধূসর স্থিরচিত্র ।
মনের অজান্তে মেয়েটিকে ভালবেসেছিলাম,
তাই আকাশ হতে ভীষণ ইচ্ছে করত।
কিন্তু আমি আকাশ হতে পারিনি
আমি হারিয়ে ফেলেছি সেই অবসর বিকেল,
হারিয়ে ফেলেছি খোলা জানালার জীবন।
৩০-০৪-১৫
নিঃসঙ্গ জংশন
.
সময় বাড়ে ,সেই সাথে বেড়ে চলে রাত।রাতের আধারে আমি জেগে থাকি ;ঘুম নেই,চোখেরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগীতা করে জেগে থাকে।
থমকে যাই আমি,নেমে আসে হাজার বছরের নীরবতা।চিন্তারা ঘুরে বেড়ায় এদিক-ওদিক ,উদ্দেশ্যহীন।স্থির হতে চায়,তবু পাড়েনা।
নীরবে কাকে যেন ভাবতে ইচ্ছে করে গোপনে,গভীরভাবে।অথচ স্মৃতির নিউরনে এসে ধরা পড়েনা কেউ! ছুটে বেড়ায় তারা অন্য কোথাও,,পালিয়ে বেড়ায় আমার থেকে।
আমি নিঃস্ব-একা পড়ে থাকি নরম বিছানায়।আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠি পুনরায়।
অবশেষে দেহের ক্রমাগত পরিবর্তনের পরিক্রমায় হঠাৎ চিন্তারা ছুটি নিয়ে চলে যায় নিজস্ব গন্তব্যে।ক্লান্তি ভর করে আসে চোখের পাতায়।নিদ্রাদেবী জানান দেয় আমি আসছি অচিরেই।
অতঃপর মিলে যায় দুটি চোখের পাতা,নিদ্রাদেবী জড়িয়ে ধরে আমায়।
আমি ঘুমিয়ে পড়ি একা ,নিঃসঙ্গ।
১৯-০৬-১৬
গোপন ব্যথা
কবিতা,
ভালবাসার মানুষের কাছে লিখতে বসলে কেউ কখনও অভাববোধ করেছে কিনা আমি জানিনা।তবে আমার অভাববোধ হয়,শূন্যতা লাগে ভীষণ।
তোমাকে লিখতে বসলেই আমার শব্দেরা কেমন হারিয়ে যায়! ভাবনাগুলো দুমড়ে কেঁদে ওঠে নিরবে। ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচারনে চিনচিনে বুকের ব্যথায় শূন্যতার ঘনত্ব বাড়তেই থাকে!!
বুকের ভিতর পাড় ভাঙে গোপনে গোপনে,বেদনার জলপতনের শব্দ ভেসে আসে;মেঘেদের গোপন সঙ্গমে আকাশ যেমন কাঁদে।
তবু আমি বাঁচি,আমাকে বাঁচতে হয়
তোমার জন্য ভালবাসার বাগান সাজাবো বলে।
এখন তোমাকে ভাবতে গেলেই ফিরে আসে আম বাগান,ধানের ক্ষেত,পিচঢালা প্রশস্ত রাস্তা,সন্ধ্যায় গলিপথের ভেজা দূর্বাঘাস। তোমাকে ভাবলেই কেমন অসহায় লাগে,অস্থির লাগে।মনে হয় তন্দ্রাঘোরে প্রতীক্ষায় আছে আমার প্রিয় একটি মুখ।
আর তখনই বুকের ভিতর গভীর ঠকঠক আওয়াজ! কে যেন ক্রমাগত হাতুরীর আঘাতে ভাঙে আমার বেদনাগুলো,আমার আকাঙ্ক্ষাগুলো।
তবুও দিনশেষে আমরা কাছে আসি-পরস্পরের অতি নিকটে। অদূরে হুইসেল বাঁজিয়ে তখন চলে যায় একটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস,শত মানুষের গন্তব্যে। টুপ করে খসে পরে একটি নক্ষত্র। মায়াবী জ্যোৎস্না রাতের মত পরস্পরের কাছে আমরা নিরব হয়ে পরি। একে অপরের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে,নিরবে বেঁজে ওঠে এক বাঁশীর করুন সুর।
আমি কাঁদি, তুমিও কাঁদো
পথের শেষে যেমন পরাজিত পথিক কাঁদে।
তবু এই যে তুমি বারবার চিৎকার করে বলো-" ভালবাসিনা ভালবাসিনা ভালবাসিনা....." তবে তুমি কাঁদো কেন নিরবে?
কি বিশেষ যাতনায় কেঁদে ওঠে তোমার ঐ মন,প্রাণ,দেহ!!
এই যাতনার নাম কি দিবে তুমি বল?
এই যাতনার নাম কি নয় প্রেম,ভালাবাসা ইত্যাদি??
।
২২-০৯-১৭

0 Comments