বায়জীদ বোস্তামী বাপ্পীর নগরের সরু গলি থেকে ও অন্যান্য পাঁচটি কবিতা

"From the Narrow Alley of Bayazid Bostami Bappi’s City" and Five Other Poems


নগরের সরু গলি থেকে


জীবন ছেয়ে গেছে সাদা বকের পালকে। 

বুকের ভেতর বরফের দেশ -

বুকে হিমহিম দোল খাও রাজলক্ষী।

নগরে রং চটে যাওয়া লাল বাড়ি; আমাদের।


দু'টো জানালায় তীক্ষ্ম দৃষ্টি, বাগান বিলাস;

বারান্দার কার্নিশে ঝুলে অভিলাষ।

মানুষের ভেতর বস্তাবন্দি অর্ধগলিত অন্য মানুষ!


রুমাল চেপে ঝিঞ্জির টেনে খুললে-

মানুষ বেরোয় নয়তো মাংস খেকো মাছি?

আত্মার আহাজারিতে-

অপূর্ণতা, অতৃপ্ততা। 


গহীনে হারিয়ে যাওয়া জীবন -

জ্বলে আছে কয়েকটা ডিমলাইট,ঝাড়বাতি।

জাদুকর খালি কলসে জল ভরে, 

মানুষ জীবন ঘঁষে বের করে-

সুখ-দুঃখ, যাতনা, ব্যর্থতা। 


বের হই নগরের সরু গলি থেকে

দেয়ালের সারিতে মৃত্যুর মিছিল।

রক্ত খসে পড়ে ঘাম হয়ে ;

পায়ে পেরেক গুজে গেলে, 

ঝুলিতে ওঠে- টিটেনাস। 


পশ্চিম মেরু ঘেঁষে যে দেশ-

সেখানেও কেউ মৃত হয়

আধুনিক কোলাহলে ঢুকে গেলে-

কড়া মরফিনে অবোশ হয় বিষাদ।

গুলিয়ে যায় রঙ্গীন জীবন,সরু গলির বাড়ি, আপন দেশ। 





জলের আগুন


সময়; জলঘোলা নদীর ঘুর্ণিপাকে ডুব দেয়।

মৃত গাছের গুড়ি ভেসে ওঠে । জীবাশ্মের শ্রেণীবিন্যাসে নামহীন উপকরণ। কিনার ঘেঁষে দৃশ্যমান যৌবন, শৈশব হয়ে ফিরে আসেনা।

পাতিত বীজ ভাসানচরে বৃক্ষ হয়ে জম্মায়। শালিক, টিয়া ভাগ করে খায় শাস। ছায়ার ভেতর ছায়া খুঁজে জন্মায় আগাছা। প্র‍য়োজন,সময়ের খাঁজ খুঁজে নির্ধারণ করে ঠিকানা। 

নিয়ন্ত্রিত বাঁধ, হরিণডাঙায় এঁকেছিলো ধারাপাতের অক্ষর। নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে হয় কুনোব্যাঙের। উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়লে- নগরে হয় নতুন ছাতার বাজেট।

সকল অস্থিত্ব বিলীন হলে ঘুঘুর শরীর হয় জল। উজানের মাটি এসে ভরাট হয় নিস্প্রাণ বুক। নদীর অসুখ হলে, জেলের বোঝাপড়া দ্বিগুণ । জলে আগুন লেগে গেলে, মাছের কিছু যায় আসেনা। 






"উপেক্ষিত মানুষের অরক্ষিত অধিকার"


মানুষের অস্থি ভেঙ্গে নির্মাণাধীন দালান-

রক্তের নির্যাস, সিমেন্ট-বালুর রসায়নে;

গড়ছে অমানবিক সত্তার নীল রাজ্য।

ঘৃণার আদলে লিখছে পৈশাচিক সংবিধান।


শব্দের বারুদে উপচে পড়ছে মেদ -

লাগামহীন শোষকের দরবারে বিলাসী নৃত্য দেখছে-

মন্ত্রীপরিষদ,উম্মাদ, উম্মাদের অঙ্গরাজ্য।

কার্বনে ঢাকা পড়ছে জুলুমের বিষদাঁত।


মহল্লায় বাজার বসছে ক্ষতবিক্ষত মানবের -

খামচি বসিয়ে ঘরে তুলছে রক্তাক্ত শিকার। 

উত্তপ্ত তেলের ছোঁবলে পশুত্ব নয়;


খসে পড়ছে উপেক্ষিত মানুষের অরক্ষিত অধিকার। 







সভ্যতা


মানুষ ভেবেছিলো বস্ত্রের ভেতর সভ্যতার বীজ বপন করবে, তির্যক দৃষ্টির ভেতর সৃষ্টি করবে মানবতা। তেতুঁল গাছের মতো শতবর্ষি বৃক্ষ পুষবে। ক্ষুধার রাজ্যে বাড়াবে শস্যকণা। অথচ

দীপ্ত সূর্যে দৃশ্যমান সভ্যতা।

বনভূমিকে বিরান, শহর গুলোকে ম্লান, উঁচু মিনারগুলোতে শুরার আখড়া । নিষিদ্ধ যোনীর জন্য খাসকামরা। আর অন্ধকারে জন্মে সভ্যতার নতুন ভ্রুন।




ওটা তুমি 


তুমি চলে গেলে।

দাঁড়িয়ে দেখলাম স্পকের গেঁথে থাকা প্রেম,সিল্কি চুলের আস্ফালন।

কতকাল নির্বাক তাকিয়ে । ধূসর আকাশের দিকে, মহা প্রলয়ের দিকে; এক মানবীর প্রলয়ঙ্করী চোখের দিকে। 

বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় কাঁদামাটির মূর্তি; গলে যায়। প্রণহীন দেহের ভেতর শৈল্পিক বিষ্ময় ।

ওটা তুমি; হ্নদয়হীনা তুমি !

Post a Comment

1 Comments

  1. দাদা অসংখ্য ধন্যবাদ আমার কবিতা গুলো প্রকাশ করার জন্য।

    ReplyDelete