তিন কবি'র তিন কবিতা

Jasmine Nahar, Tanjina Tuli, Nusrat Sultana Three poems by three poets


জে স মি ন না হা র

অন্তর্গত ঘোষণাপত্র


আমি আর মুখোশ ধারণ করি না—

কারণ মুখোশগুলো এখন মসৃণ,

কার্নিশে জমে থাকে নৈঃশব্দ্যের ফসিল।


নগ্নতা আমার কাছে এখন

শরীরের ভূগোল নয়—

চেতনার একটি উন্মোচিত উপমহাদেশ,

যেখানে অভিমান, অপমান, আর

অতৃপ্তির একত্রে বসবাস। 


আমি "ভালো নেই" বললে,

সেই উচ্চাণ হয়ে ওঠে

এক নিরব বিপ্লবের সূচনা,

কারণ স্বীকারোক্তির সাহস

এই সময়ের বিলুপ্ত বস্তু।


নগ্নতা এক নিষিদ্ধ দলিল,

যার প্রতিটি পঙ্‌ক্তি

যেন আবরণহীন যন্ত্রণা।

এখানে প্রেম—বিনিময়হীন,

ভয়—নামহীন,

আর প্রার্থনা—ঈশ্বরহীন।


আমি আর বাঁচতে চাই না স্বস্তির শেল্টারে,

তাকিয়ে দেখি আয়নার সাম্মুখে—

এখানে আমার প্রতিচ্ছবি নয়,

দাড়িয়ে থাকে অন্তর্গত নগ্নতা 

বিষন্ন নদীর মতো নিঃসঙ্গ,

আর সত্যের মতো দৃঢ়।






তা ন জি না তু লি

তৃষ্ণা


সেই কবে থেকে মানুষ হাঁটছে,

যে যার মতো হেঁটে চলেছে।

তারপর পথ ছেড়ে চলে যায় শান্ত নীড়ে।


সূর্য তখন মাথার ওপরে

পায়ের তলায় উত্তপ্ত বালি-

সমুদ্রের পথে আমিও হাঁটছিলাম।

এখন বাতাস ভাসে শ্রান্তকায়া-

আবার চলেছি হেঁটে... অতলান্ত স্মৃতি ঘেঁটে।

খুব খানিকটা কেঁদে কেঁদে

জলরাশিকে তৃষ্ণার আকুতি জানিয়ে।

অতঃপর সমুদ্রের গর্জন ভেসে এলো

আমার বুকেও দ্বীপ জেগে ওঠে।

সেই থেকে আজো আমার তৃষ্ণা নেই।

আবার চললাম অকারণেই...





নু স রা ত সু ল তা না 

বিসর্জন 


প্রাণেশ বেগুনি অন্তর্বাসে তোমার উৎফুল্ল হাসি।

চোখের জলে উদাসীনতা। 

শরীর ছোঁয়ার খেলায় তুমি বখতিয়ারের ঘোড়া। 

দুঃখ ছোঁয়ার বেলায় তুমি পলায়নপর লক্ষ্মণসেন।

দুঃখ না ছুঁয়ে, পূজা না দিয়ে-

কে কবে পেয়েছে নারীর শরীর! 

মন তো বহু দূরের কথা।

প্রাণেশ একবার পুজা আর প্রণয়ে ছুঁয়ে দেখো-

দুঃখের সুগভীর নাভিকমল 

প্রিয়তমা তোমার বুকে বিসর্জিত হবে

দশমী দিনের দুর্গা প্রতিমার মতো।



Post a Comment

0 Comments