তুমি কান্না, তুমি গান, তুমি আকুলতা
সকল গ্রন্থের গ্রন্থি ছিঁড়ে আজ শুধু
তোমাকেই পাঠ করতে চাই, তোমার
বিভান্বিত বিভূতিতে মুগ্ধ প্রানায়াম,
শোন, আমার অন্তর আমার মন্তর,
প্রেম রস, ভক্তি রস, সকলি তোমার
বাসনা, যেখানে মহাকাল নিদ্রামগ্ন।
তোমার হৃদয়ে ফিরে তাকাও, আমাকে
দেখা যায়? দেখো বটপত্রে শুয়ে আছি
আমি নারায়ণ, ক্রমশ তরল হয়ে
মিশে যাচ্ছি চারুময় বিগ্রহে তোমার।
কাজে কর্মে ছিঁড়ে ফেলেছি সব বাঁধন
ওগো, এখন শুধুই কান্না, অন্তরের
কান্না চিত্ত শুদ্ধ হয় আর আকুলতা?
তুমি কান্না, তুমি গান, তুমি আকুলতা।
রাধিকা কাঁদে ভাগীরথী কূলে
বুঝলাম ধর্মরাজ ভুল হতে পারে
তোমারও, রাজনীতি, ধর্মনীতির যে
সূক্ষ্ম ফাঁক টুকু তুমি বুঝলে না কেনো?
কপট পাশা খেলায় হারাবে তোমাকে
এমন দুর্যোধনের হয় নাই জন্ম।
মহাদেবের করুণা লাভের আশায়
কীল পর্বতে যাবে না যাকির
সাইদ, কীরাত যুদ্ধে অর্জুনের জয়ে
কোন গৌরব ছিল না, যদি থাকে তবে
কেন কৃষ্ণ সারথির ছিল প্রয়োজন।
ধর্মরাজ নেই আছে ধর্ম গ্রন্থ, ধর্ম
কথা লেখা আছে প্রকৃতির মাঝে, দেখো
শতপল সোনা নিয়ে বসে আছে একা
বড়ায়ি, রাধিকা কাঁদে ভাগীরথী কূলে।
দেবীরও থাকে দেবানুচর
অন্তরের ঘরে জন্ম তোমার অন্তরে
আছো, মৃত্যুঞ্জয়ী ওগো দেবী, যমরাজ
কোনদিন অন্তরের ঘরে প্রবেশের
অধিকার পাবেন না, আমার দু'চোখ
তাই দেখে, আছে যা ঈশ্বরের মধ্যেও।
কেনো দেখা দিতে বলো, আমি কি এখনো
আমি আছি? এখনতো মথুরায় বাস
করে যাকির সাইদ, কামশরে বিদ্ধ
হয়ে একদিন বৃন্দাবনে কাটিয়েছি,
রাতদিন সৌন্দর্যের বিষ পান করে।
মদনবাণে বিধ্বস্থ ওগো রাধারানী
তুমি রূপের ও ঐশ্বর্যের এক মহা-
সমুদ্র, খড়কুটুর মতো ভাসি আমি,
দেবীরও থাকে দেবানুচর তেমনি...

0 Comments