অলোক মিত্রের 'কাঁঠালিচাঁপার ঘ্রাণ' ও অন্যান্য কবিতা

 

Alok Mitra's 'The Fragrance of Kathalichapa' and Other Poems

কাঁঠালিচাঁপার ঘ্রাণ


খুব কাছ থেকে নয়, 

অবশ্য দূর থেকে দেখেছি তারে

আজও কাঁঠালিচাঁপার সুগন্ধি হয়ে 

আছে মিশে একটা হৃদয়। 


উপেক্ষার উদ্ভ্রান্ত উচ্চারণে 

একদিন যাকে গিয়েছো এড়িয়ে

কিংবা পাশ কাটিয়ে কথার ধুম্রজালে।

অভিমানী চাতক ফিরে এসেছিল 

সেদিন তৃষ্ণাহীন গৃহে।


আজ এই মহুয়া বাতাসের সুতীব্র ভ্রুকুটি, 

ক্ষমাহীন জলের উচ্ছ্বাস

এই সব ডিঙিয়ে তুমি তাকে 

খুঁজে পাবে না কোথাও। 


যাপিত ক্লান্তির সব সূত্র এড়িয়ে 

আনন্দ বৈভবে উড়ছে প্রজাপতি.... 

আর আমি ঘ্রাণের সবটুকু সুগন্ধি ,

নিয়ে যাচ্ছি প্রীতিলতা তোমার


নিয়তি যদি হয় নিয়ম,

তবে নিশ্চিত আমি তার কৃতদাস।




খুঁজি তারে যে আমার


ইদানিং কারো সাথে 

জড়াই না তর্কে কিংবা যুদ্ধে।

আমি মেনে নিয়েছি যাবতীয় 

সামাজিক পরাজয়, একদিন

জয়ী হবার ক্লান্তির নিঃশেষ 

আনন্দের ভৈরবী যুগল সুখে।


এখন আর নিয়ম করে

কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া হয় না

সেভাবে কিংবা নিমন্ত্রণে যত অনিহা

অযুহাত নিয়ে আসে রতি ক্লান্তির ঘুম।

অযথা সংঘাতে জড়াই না,

কিংবা দ্বিধাহীন ভাবে পরিশুদ্ধতায় 

কুঁড়াই বৈষ্ণব তীর্থের যাবতীয় বিলাস।


এখন আমি পরিপূর্ণ একটা 

বিশাল বটবৃক্ষকে দেখে

গুন গুনিয়ে শুনাই আমার 

যাবতীয় সাঁওতালী গান।

সারা মেঠো পথ ধরে

খুঁজি তারে, যে আমার ভিতরে

এক আত্মার দর্শন।




কী অপরূপ 


রাগঢাক ভেঙে তুমি আসো

আতপর! শ্রাবণ বর্ষা এসে

ভিজিয়ে দিল তোমার দেহ,

সুচারু সবুজ নিতম্ব হতে 

কারুময় ঠোঁট।


পৌরুষ কাব্যে হয়তো তুমি

নীলাম্বরী কিংবা জ্বালাময়ী

হবে হয়তো ছলনাময়ী। 


দিব্যি দিচ্ছি তোমার মাথাস্পর্শী 

কোন দেবতার...

এই মর্মে সেঁটে দিচ্ছি,

তোমার মুখে কোন বাক্যবান।


চিরসুখী হও, দেবতাদের আসনে

অধিসীন হও। 


রাগঢাক ভেঙে তুমি আসো,

পায়ের নূপুরে কালবোশেখীর

ঝড়ের কোন পূর্বাভাষ।


তুমি আনন্দময়ী, জ্বালাময়ী

কী অপরূপ! সাজে গো 

তুমি বঙ্গজননী!






না ফুটুক জোড়াফুল কিংবা পদ্ম


আমি সাদা শাড়ি, হাওই চটি

আইফোন হাতে, চড়ে দামী গাড়ি

কাউকে দেখতে চাই না।


না ফুটুক জোড়াফুল কিংবা পদ্ম

আমি চাই না, জাত নিয়ে হোক

বাড়াবাড়ি কিংবা ভোটের মেরুকরণ,

বিভক্ত বাংলা, হিংসার মাতামাতি।


আমি ঘরে ঘরে একটা

চন্দনা বাউরি চাই সারা বাংলায় 

ভারববর্ষ জুড়ে উঠে আসুক।

হাজারো চন্দনা লংমার্চ করে

চলে আসুক কালীঘাটে,

তারপর আমি তাকে সাদর 

সম্ভাষণ জানাবো নব অন্নের বাতায়নে। 


হয়তো সেদিন পাহাড়ী কন্যারও

স্বপ্ন দেখবে চন্দনা হতে,

আমি চাই না হাজারো প্রতিশ্রুতির

ফুলঝুঁড়ি ডাবল ডাবল চাকরি।


আমায় ভাত দে, না হয় অন্ততঃ একটা চাকরি।

আমায় শিল্প দে, আমি চাই না

দুয়ারে দুয়ারে লুটেপুটে খাওয়া

রেশন ভাতার চাল কিংবা গমের ভুসি।


আমি শিক্ষিত হয়ে ভিক্ষার অন্ন চাই না।

আমায় কাজ দে, আমি চাই না

ভিনরাজ্যে যেতে, মাথার ঘাম পায়ে নিয়ে

শ্রম দিয়ে হই পরিযায়ী।


হে আমার ভবতারিণী

তোর কী দুঃখ হয় না?

গ্রাজুয়েট শিক্ষিত এই আমাকে দেখে,

তোর লজ্জা হয় না

এই বেকারত্বের সীমহীন অভিশাপ দেখে।


আমি চাই না ভ্রষ্ট বাংলা

দল বদলের জগাই মাধাই

কিংবা পাগলু।

আমি চাই না ডাবল ডাবল চাকরি 

আমি চাই না ভিক্ষে হাতে রেশনের

চাল ডাল মেরুদণ্ড ভেঙে। 

আমায় শিরদাঁড়া সটান করে

বাঁচতে দে সারা বাংলায়।

আমায় চাকরি দে অন্ততঃ একটা 

আমায় শিল্প দে, কর্মসংস্থান।


না ফুটুক জোড়াফুল কিংবা পদ্ম

আমি চাই না, জাত 

নিয়ে হোক

বাড়াবাড়ি কিংবা ভোটের মেরুকরণ, 

বিভক্ত বাংলা, হিংসার মাতামাতি।


আমি সাদা শাড়ি, হাওই চটি

আইফোন হাতে, চড়ে দামী গাড়ি

কাউকে দেখতে চাই না।



Post a Comment

0 Comments