ঠিকানাহীন আমি
আমি আজকাল ঠিকানা লিখি না কোথাও
ডাকপিয়ন এলে ফিরে যায়
আমার অনুপস্থিতির সিল মেরে।
আমি থাকি ভাঙা সিঁড়ির ধাপে,
অথবা কোনো অচেনা বিকেলের ভেতর।
মানুষ জিজ্ঞেস করে—“কোথায় থাকো?”
আমি হেসে বলি—
“যেখানে থামি, সেখানেই ঘর।”
স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপ
আমি স্বপ্ন দেখি না আর—
স্বপ্নের নিচে চাপা পড়ে থাকতে থাকতে
শ্বাস নিতে ভুলে গেছি।
তবু মাঝে মাঝে
একেকটা ভাঙা স্বপ্নের টুকরো কুড়িয়ে নিয়ে
দেখি—
সেখানে এখনো তোমার ছায়া লেগে আছে।
শহরের কাছে ঋণ
এই শহর আমাকে কিছুই দেয়নি—
তবু আমি ঋণী।
কারণ সে আমাকে শিখিয়েছে
কিভাবে একা হাঁটতে হয়
ভিড়ের মাঝখান দিয়ে।
রাতের আলোয় আমি দেখি—
আমার ছায়াটাই
আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।
অসমাপ্ত প্রেম
আমাদের গল্পটা শেষ হয়নি—
শুধু থেমে গেছে মাঝপথে।
যেমন হঠাৎ বৃষ্টি থেমে গেলে
মাটির গন্ধটা থেকে যায়।
তুমিও রয়ে গেছো—
আমার প্রতিটা অসমাপ্ত লাইনে।
ছন্দভাঙা কবিতা
আমি ছন্দ মানি না—
কারণ জীবন কখনো মিল রেখে চলে না।
আজ হাসি, কাল কাঁদি,
পরশু আবার সব ভুলে যাই।
এই এলোমেলোতাই আমার কবিতা—
যেখানে প্রতিটা ভুল
একটা নতুন সত্য।
বিদ্রোহী সকাল
একদিন আমি ঘুম থেকে উঠে
সব নিয়ম ভুলে যাব—
দেখবে,
আকাশটা তখন অন্যরকম নীল।
আমি হাঁটবো উল্টো পথে,
মানুষ তাকিয়ে থাকবে—
আর আমি বুঝবো,
এই তাকিয়েই থাকা
আমার প্রথম জয়।
আকাশবাসী
আমার কোনো ছাদ নেই—
তাই বৃষ্টি এলে ভিজি পুরোটা।
কেউ বলে—এটা কষ্ট,
আমি বলি— এটাই স্বাধীনতা।
কারণ ভিজে গেলে
আমি নিজেকে আর লুকাতে পারি না।
অচেনা থাকাই ভালো
তুমি বলেছিলে— আমাকে জানতে চাও।
আমি ভেবেছিলাম—
জানার পর যদি আর ভালো না লাগে?
তাই নিজেকে লুকিয়ে রাখি
অচেনা হয়ে।
কারণ অচেনা জিনিসের মধ্যেই
সবচেয়ে বেশি জাদু থাকে।
একা থাকার শিল্প
আমি একা থাকতে শিখেছি—
এটা কোনো দুঃখ না,
এটা একটা অভ্যাস।
মানুষ চলে যায়,
কথা থেমে যায়,
তবু নীরবতা থেকে যায়—
আর আমি তার সাথেই কথা বলি।
হারিয়ে যাওয়ার দর্শন
আমি হারিয়ে যেতে ভয় পাই না—
কারণ জানি,
যারা হারিয়ে যায়
তাদেরই গল্প লেখা হয়।
আমি সেই গল্পের ভেতর হাঁটছি—
ধীরে,
অবিরত,
একটা অজানা শেষের দিকে।

0 Comments